প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘তারুণ্যের বাতিঘর যুবজাগরণ কেন্দ্র’

আহমেদ জাফর: বাংলাদেশ একটি যুব নির্ভর রাষ্ট্র। তরুণেরাই বাংলাদেশ বিণির্মাণের মূল হাতিয়ার। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান ও একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধসহ যা কিছু অর্জন, যত বিকাশ, তার সবই এসেছে তরুণদের হাত ধরে। এমনকি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন, তখন তিনি একজন তরুণ ছিলেন। বাংলাদেশ মানেই হলো তারুণ্যের দ্রোহ। এজন্য আওয়ামী যুবলীগ উদ্যোমি হয়ে একটি যুবজাগরণ কেন্দ্র করেছেন। আর যুবজাগরণই হলো তারুণ্যে বাতিঘর।

যুবলীগের চেয়াম্যান ওমর ফরুক চৌধুরী তারুণ্যে বাতিঘর যুবজাগরণ কেন্দ্র প্রসঙ্গে বলেন, রাষ্ট্রনায়ক ও বিশ্বনেতা শেখ হাসিনাও তরুণ সমাজের কথা মাথয় রেখে দেশের সকল উন্নয়নের করে যাচ্ছেন। তিনি নিজেও তরুণ বয়সে দেশের নেতৃত্বের হাল ধরেছেন। তার নেতৃত্বেই বাংলাদেশে গণতন্ত্রের নবজাগরণ ঘটেছে। বাংলাদেশ হয়েছে স্বয়ংসম্পূর্ণ। তারুণ্যের যেমন উচ্ছ¡াস-উদ্দীপনা আর সৃষ্টিশীলতা আছে, ঠিক তেমনি এর উল্টাচিত্র নিয়ে ঝুঁকিও আছে। সাম্প্রতিক সময় দেখা গেছে, মাদকাসক্তি, জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে তরুণরা যুক্ত হয়ে পড়েছে। ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্টে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর যে স্বৈরতান্ত্রিক এবং পাকিস্তানপন্থী রাজনীতি চালু হয়েছিল সেই রাজনীতির ম‚ল লক্ষ্য ছিল তারুণ্যের বিকাশকে ধ্বংস করা এবং তারুণ্যকে বিপথগামী করা। জিয়াউর রহমান তরুণদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েছিলেন। তরুণদের ঠিকাদারি, টেন্ডারবাজিসহ নানাভাবে সস্তা অর্থ উপার্জনের পথ দেখিয়ে বিভ্রান্ত করেছিলেন। স্বৈরাচারদের মূল লক্ষ্যই ছিল তরুণদেরকে আদর্শচ‚্যত করা। কারণ তরুণরা যদি স্থিার থাকে কোনো কিছু করা সম্ভব হয় না।

ওমর ফারুক বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন সেই স্বপ্ন বাস্তাবায়ন করার জন্য যুবক ছাড়া কোনো বিকপ্ল নেই। ’৫২, ’৬৯ এবং ’৭১-এ যুবসমাজের মধ্যে যে আদর্শিক চেতনা ছিল বর্তমান তরুণদের মধ্যে সেই ধারা জাগিয়ে তুলতে যুবকদের মেধা বিকাশের দরকার। ইতোমধ্যে যুবকদের মেধা চর্চার একটা কেন্দ্র তৈরি করা। এর প্রেক্ষিতেই যুব জাগরণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছেন যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী। এই কেন্দ্রে যুব সমাজের জন্য গবেষণা হচ্ছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রে সমাজ এবং আর্থ সামাজিক নানা বিষয় নিয়েও গবেষণা করা হচ্ছে। এই গবেষণালব্ধ ফলাফল তৈরি করে বিভিন্ন প্রকাশনা করা হয়। ফলে তরুণরা এদেশের ঐতিহ্য, সৃষ্টি, সভ্যতা এবং বাংলাদেশের অগ্রসরের ধারাবাহিকতা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হচ্ছে। বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করে তরুণরা আগামী দিনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।

যুব গবেষণা কেন্দ্র এ পর্যন্ত ৩৮টি গ্রন্থ’ প্রকাশ করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, ‘রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার দর্শন’, ‘বঙ্গবন্ধু ও ভাষা আন্দোলন’, ‘সমৃদ্ধ বাংলাদেশের চিত্র’, ‘বাংলাদেশের হৃদয়ের ফ্রেমে জাতির পিতা’, ‘তোমরা যারা শিবির কর’ ইত্যাদি। শুধু নিজস্ব প্রকাশনাই নয়, এর পাশাপাশি ইতিহাসমনোস্ক রাজনীতিমনস্ক অনেক গ্রন্থ’ও যুব গবেষণা কেন্দ্র লিখা হয়েছে। যুবজাগরণ কেন্দ্র আরো আছে ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’, ‘কারাগারের রোজনামচা’, ‘শেখ মুজিব আমার পিতা’, ‘সবুজ মাঠ পেরিয়ে’র মতো গ্রন্থ’। এর মধ্যে লক্ষ্যনিয়ো হলো তরুণদের মেধা বিকাশে গবেষণা করে মাদকাসক্ত কিংবা জঙ্গীবাদের মতো, বিষাক্ত ছোবল থেকে দূরে রাখা।

ওমর ফারুক চৌধুরীর নেতৃত্বে বিভিন্ন ধরণের প্রকাশনার মাধ্যমে এক যুব জাগরণ তৈরি হয়েছে। যুব গবেষণা কেন্দ্রের একটা বড় কাজ হলো রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার রাষ্ট্রেচিন্তা দর্শন আবিষ্কার। ২০০৯ সাল থেকে তিনি শেখ হাসিনা নিয়ে গবেষণা শুরু করেন বলে জানান। শেখ হাসিনা জনগণের ক্ষমতায়নের দর্শন বিশ্বের বহু দেশেকে পিছে ফেলে অগ্রগামী হয়েছে। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে গবেষণা করছে। সেটা যুবক-তরুণদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এভাবেই যুবজাগরণ যুবকদের জন্য বাতিঘরে পরিণত হচ্ছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত