প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

গডফাদারদের দমন না করে মাদক নির্মূল অসম্ভব, বললেন সৈয়দ আবুল মকসুদ

জিয়ারুল হক : আমাদের দেশের বড় সমস্যা হচ্ছে মাদক। আমাদের আইন-সৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা সফলও হচ্ছেন। তবে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় যে সকল গডফাদার রয়েছে তারা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। এসব প্রভাবশালী ব্যক্তিদের গ্রেফতার না করলে মাদক নির্মূল করা সম্ভব নয়। বলছিলেন গবেষক ও কলামিষ্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ। ডিবিসি নিউজ
তিনি বলেন, মাদক পৃথিবীর একটি আদিম ব্যবসা।  প্রাচীনকাল হতেই নানা ধরণের মাদকের ব্যবহার হয়ে আসছে। সময়ের সঙ্গে এই ব্যবসার কৌশল পাল্টেছে, মাদকের ধরন পাল্টেছে। মাদকসেবিদের সংখ্যাও দিন দিন বেড়েছে। যা কিনা আজ সামাজিক ব্যাধিতে রুপ নিয়েছে।
ব্রিটিশ সরকার একটি গাঁজার গাছ দেখলেই গ্রেফতার করতো। আবার ব্যবসায়ীদের লাইসেন্স দেয়া হতো। তাদের নির্দিষ্ট করে দেয়া হতো কতটুকু বিক্রি করতে পারবে। আবার সেবনকারীদেরকেও লাইসেন্স দেয়া হতো সেবনের জন্য। এটি ছিলো নিয়ন্ত্রিত। কিন্তু বর্তমান এটি ক্যান্সারে রুপ নিয়েছে। যতো দ্রæত সম্ভব এটি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। না হলে সমাজ নিঃশেষ হয়ে যাবে, দেশ ধ্বংশ হয়ে যাবে। পরবর্তি প্রজন্ম ধ্বংশপ্রাপ্ত হবে।
তিনি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো সহিঞ্চুনীতি গ্রহণ মাদক নির্মূলে সফলতা আসছে। আইন-সৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা যথেষ্ট আশাব্যঞ্জক। যার কারণে মাদক ব্যবসায়ীরা তাদের মাদক বহনের ধরণ পরিবর্তন করছে। মোরগের পেটে, মানুষের পেটে, পিকনিকের গাড়িসহ বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে, সেগুলোও কিন্তু ধরা পড়ছে। তার মানে আমাদের বাহিনীগুলো মাদক নির্মূলে যথেষ্ট কার্যকর ভূমিকা পালন করছে। তবে গডফাদাররা বিশেষ করে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় যারা মাদক নিয়ন্ত্রণ করছে, তারা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। এটা সম্পর্কে আইন-সৃঙ্খলা বাহিনী অবগত আছে। কিন্তু তারা নানা চাপে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারছে না। যতোদিন রাজনৈতিক গডফাদারদের গ্রেফতার না করা যাবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ না করা যাবে, শাস্তির আওতায় আনা না গেলে মাদক নির্মূল করা সম্ভব হবে না।
তাঁর মতে যদি মাদক সেবনকারীরা মাদক সেবন বন্ধ করে দেয়, আর একজনও মাদকসেবন না করে তাহলেও মাদক নির্মূল সম্ভব। তিনি বলেন, মাদকের ছোবল থেকে দেশকে রক্ষা না করলে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম মাদকাসক্ত হয়েই জন্মাবে, দেশ মেধাশূন্য হয়ে যাবে।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত