প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শিশু ধর্ষণ রোধ করবেন কীভাবে ?

ডা. রাজীব হোসাইন সরকার : একদিন বয়সের নবজাতককে রেপ করার ব্যাপারটি খুব বেশিদিন আগের নয়। এরপর আসলো যোনিপথ ব্লেড দিয়ে কেটে বড় করে রেপ। কয়েকদিন থেকে দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন জায়গায় অল্পবয়স্ক মেয়েদের রেপ করা হচ্ছে কিংবা ব্যর্থ হয়ে মেরে ফেলা হচ্ছে। পুরো ব্যাপারটা ব্যাখ্যা করা বেশ জটিল। কারণ শুধু মানসিক রোগের কারণে তারা এমন ঘটাচ্ছে বললে ছোট ছোট মেয়েগুলোকে অপমান করা হয়।
পেডোফিলিয়া হলো শিশুদের প্রতি যৌন আকর্ষণ। শিশুর বয়স একদিনও হতে পারে। অথবা ১৬-১৮ এর নিচেও হতে পারে। পেডোফিলিয়ার বেসিক ব্যাপারটা হলো এখানে দোষী ব্যক্তিটি হবে পূর্ণবয়স্ক। ভিকটিম হবে ১৬ বা ১৮-এর নিচে। যদি ভিকটিমের কনসেন্ট নিয়েও যৌনকর্ম করে তবুও এটাকে দোষী হিসেবেই ধরা হবে।
পেডোফিলিকদের শিকার কারা?
১. অবুঝ (একদিনের বাচ্চা থেকে তিন বছরের বাচ্চা)। ২. অভাবী (যাদের মাতা-পিতার খাবার কিংবা কসমেটিক্স কিংবা খেলনা কিনে দেবার সাধ্য থাকে না)। ৩. মানসিক রোগে আক্রান্ত শিশু। ৪. জ্ঞানহীন শিশু (হাসপাতালে জ্ঞানহীন শিশুকেও হাসপাতালের কর্মচারী দ্বারা ধর্ষণের ইতিহাস আছে)। শিকার শুধু মেয়ে হবে এমন নয়। ২০ শতাংশ ক্ষেত্রে ছোট ছেলেরাও ধর্ষণের শিকার হয়।
পেডোফিলিক বা দোষী যে সচরাচর ছেলে হবে তা নয়। অনেক মহিলা আছেন যারা পেডোফিলিক হিসেবে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।
কেন এমন করে?
অনেক স্টাডি হয়েছে কিন্তু রেজাল্ট খুবই অল্প। অনেকগুলো কারণে পেডোফিলিক জন্ম নেয়। আমি কিছু কারণ বলবো। তবে বাই অর্ডার সাজাইনি। তাই ওপরের কিংবা শেষের কারণগুলোর গুরুত্ব কম বা বেশি হবে না।
১. পেডোফিলিকদের একটি অতীত থাকে, যেখানে নিজেরাই একটা সময় ভিকটিম ছিলো। ২. প্রি-ম্যাচিউর ইজাকুলেশন কিংবা ইরেকটাইল ডিজফাংশনে ভুগতে পারে। ফলে পূর্ণবয়স্ক নারীদের সাথে সফল যৌন সঙ্গমে ব্যর্থ। ৩. যৌন পার্টনারের সাথে বাজে অভিজ্ঞতার যৌন সম্পর্ক। ৪. মানসিকভাবে দুর্বল ও হতাশাগ্রস্ত মানুষ। ৫. দীর্ঘদিনের একাকীত্ব। ফলে নারীদের সাথে মিশতে পারে না। ৬. বন্ধু-আত্মীয়-সমাজে গ্রহণযোগ্যতা কম। ৭. মাদকাসক্ত। ৮. বয়স হওয়া সত্ত্বেও বিবাহ কিংবা যৌনসঙ্গী না থাকা (এর পেছনেও নানা কারণ)।
কোনো একটা স্টাডিতে দেখেছিলাম- এটা কোনো রোগ নয়। এটা এক ধরনের ‘অ্যাডভেঞ্চার’ টাইপের অনুভূতি দেয় পেডোফিলিকদের মধ্যে। অ্যাডভেঞ্চারের অনুভূতি নিতে তারা ধীরে ধীরে মাংসখেকো বাঘের মতো সীমা ছাড়িয়ে যায়।
কীভাবে রোধ করবেন?
১. আপনার শিশুর খেলাধুলার স্থান রাখুন দৃষ্টিসীমার মাঝেই। ২. পরিচিত কিংবা অপরিচিত বয়স্ক মানুষের কোলে বসতে দিবেন না। ৩. আপনার সন্তানকে কেউ চুমু খেতে চাইলে নিরুৎসাহিত করুন। ৪. আত্মীয় আসলে কখনোই একই বিছানায় পাঠাবেন না। সে কাজিন, বয়স্ক চাচা-চাচী, খালা-খালু কিংবা বৃদ্ধ-বৃদ্ধা হলেও। আলাদা বিছানায় একা শোবার ব্যাপারটি নিশ্চিত করুন। ৫. আপনার শিশু কারো সাথে যেতে না চাইলে, কারো প্রতি বিতৃষ্ণা দেখালে ভদ্রতাবশত জোরাজুরি করবেন না। লেট হিম/হার গো। ৬. আপনার সন্তানকে মাতা-পিতার কাছ থেকে কিছু লুকিয়ে রাখার স্বভাব থেকে মুক্ত করুন। হয়ে যান বেস্ট ফ্রেন্ড। তার সাথে বন্ধুর মতো সকল ধরনের আলোচনা করুন। সেটা স্মোকিং-যৌন শিক্ষা সবকিছুই হতে পারে। ৭. কেউ আদিখ্যেতা দেখিয়ে জড়িয়ে ধরার চেষ্টা করলে, খাবার লোভ দেখিয়ে কাছে ডাকলে-খেলনা দেবার প্রতিশ্রুতি দেখিয়ে ঘুরতে নিয়ে যেতে চাইলে সতর্ক থাকুন।
হ্যা… সবাই পেডোফিলিক নয়…আবার কেউ এই সন্দেহের বাইরে নয়। যেখানে আপন পিতা দায়ী হচ্ছে… সেখানে কাকে বিশ্বাস করবেন?

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত