প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পোল্ট্রি মুরগীতে ‘এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা’র আশঙ্কার কথা জানালেন পরিবেশ মন্ত্রী

আসাদুজ্জামান সম্রাট : পরিবেশ, বন ও জলবায়ুমন্ত্রী মো: শাহাব উদ্দিন বাংলাদেশে পোল্ট্রি মুরগী থেকে ‘এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা’ ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন । তিনি বলেন, বুনো দেশী ও পরিযায়ী পাখি থেকে এ জীবানু ছড়ানোর আশঙ্কা কম। গত কয়েক বৎসর যাবৎ দেশী কাক পাখির মাধ্যমে এ জীবানু ছড়ানোর তথ্য আছে। সরকার রাজশাহী এলাকায় এ ব্যাপারে কাজ করছে।

বৃহস্পতিবার একাদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনের প্রথম অধিবেশনে চট্টগ্রাম-১১ আসনের সংসদ সদস্য এম, আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান। পরিবেশমন্ত্রী বলেন, পরিযায়ী হাঁস থেকে ‘এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা’ জীবানু ছড়ানো তথ্য খুবই কম, বাংলাদেশে নেই বললেই চলে। তারপরেও সরকার বন অধিদপ্তর ও আই ইউ সি এন এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ‘এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা’র গবেষণা করছে। টাঙ্গুয়ার হাওড়, হাকালুকির হাওড়, বাইক্যা বিল, সোনাদিয়া নিঝুম দ্বীপে পরিযায়ী পাখি থেকে নমুনা নিয়ে প্রতি বছর গবেষণাগারে পরীক্ষা করা হচ্ছে। পরিযাযী পাখি ও গৃহপালিত হাঁসের বিচরণস্থল চিহ্নিত করে তাদের মেলামেশা বন্ধে খামারিদের সচেতন করা হচ্ছে। প্রতিবছর পরিযায়ী পাখিমেলা করে এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানো হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, স্থায়ীভাবে সমস্যা সমাধানের জন্য সরকারিভাবে খামারিদের নিয়ে কাজ করা হবে। দেশি হাঁস-মুরগী যেন কোনভাবেই পরিযায়ী হাঁসের সাথে না মিশে এ বিষয়ে সরকার আরও সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহন করবে। হওড়গুলোতে জোনিং করে এ ব্যাপারে পাখিদের নিরাপদ অঞ্চল গড়ে তোলা হবে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে পরিবেশ বন ও জলবায়ুমন্ত্রী মো: শাহাব উদ্দিন জাতীয় সংসদকে জানান, উন্নত প্রযুক্তির ইটভাটায় বায়ু দ‚ষণসহ অন্যান্য পরিবেশ দ‚ষণ তুলনাম‚লক কম হয়। সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জনান।

মন্ত্রী বলেন, ‘ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০১৮’ আইন অনুযায়ী ইট ভাটায় ইট পোড়ানোর কাজে জ্বালানী হিসেবে জ্বালানী কাঠের ব্যবহার সম্প‚ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়াও আইন অনুযাযী ইটভাটা স্থাপন ও পরিচালনার ক্ষেত্রে উন্নত প্রযুক্তি সম্পন্ন, জ্বালানী সাশ্রয়ী এবং গ্রহনযোগ্য মাত্রায় বায়ু দ‚ষণ হয় এমন পদ্ধতির ইটভাটা স্থাপনের বিধান করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, উন্নত প্রযুক্তির ইট ভাটায় জ্বালানী হিসেবে জ্বালানী কাঠ ব্যবহারের সুযোগ নেই এবং বায়ু দ‚ষণসহ অন্যান্য পরিবেশ দ‚ষণ তুলনাম‚লক কম হয়। আইনটি বাস্তবায়নে পরিবেশন অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসন কাজ করছে। ইতোমধ্যে দেশে বিদ্যমান ইটভাটার মধ্যে ৭১ দশমিক ৬৪ ভাগ ইটভাটাকে উন্নত প্রযুক্তিতে রুপান্তর করা হয়েছে। শাহাব উদ্দিন জানান, পরিবেশ অধিদপ্তরের ইটভাটায় সৃষ্ট বায়ু দ‚ষণ ও অন্যান্য দ‚ষণ নিয়ন্ত্রণে প্রচলিত পোড়া মাটির ইট উৎপাদন পর্যায়ক্রমে হ্রাস করে, বালু, সিমেন্ট ব্যবহার করে কমপ্রেসড ব্লক ইটের পদ্ধতিতে তৈরীতে উৎসাহ প্রদানের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহন করেছে। এ ধরনের ব্লক ইটের প্রচলন করা গেলে ইটভাটায় জ্বালানী কাঠের ব্যবহার বন্ধ করাসহ সকল প্রকার পরিবেশ দ‚ষণ রোধ করা সম্ভব হবে বলেও জানান তিনি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত