প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

তিতাস ভরাট করতে বাঁধ

সমকাল : বাঞ্ছারামপুরে তিতাস নদী ভরাট করতে বাঁধ নির্মাণ করছেন স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি। বাঁধ নির্মাণে বিআইডব্লিউটিএর যোগসূত্রের অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এখানে বাঁধ নির্মাণের ফলে নদী সংকুচিত হয়ে নৌ-চলাচল ব্যাহত হবে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার ছলিমাবাদ ইউনিয়নের ভুরভুরিয়া গ্রামের দক্ষিণ পাশে রয়েছে ওয়াই আকৃতির শেখ হাসিনা তিতাস সেতু। এর উত্তর-পশ্চিম দিকে নদীর পাড় ঘেঁষে মাটি ও বাঁশের বেড়া দিয়ে বাঁধ নির্মাণ করছেন ভুরভুরিয়া গ্রামের মমিনুল হক মোমেন ও রিয়াজুল হক অবিদ। বিআইডব্লিউটিএর তিতাস নদী খননের বালি দিয়েই নদীর জায়গা ভরাট করার উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে ‘জলাধার হিসেবে চিহ্নিত জায়গা ভরাট বা অন্য কোনোভাবে শ্রেণি পরিবর্তন করা যাবে না’- উল্লেখ থাকলেও এর কিছুরই তোয়াক্কা করছে না প্রভাবশালী ওই মহলটি।

সরেজমিন গত শনিবার ভুরভুরিয়া গ্রামে দেখা গেছে, ভুরভুরিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ও কবরস্থানের দক্ষিণ পাশে তিতাস নদীতীরে বাঁধ নির্মাণের কাজ করছে কয়েকজন শ্রমিক। ইতিমধ্যে বাঁশের বেড়া ও মাটি ফেলে প্রায় ১২০০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১০ ফুট প্রস্থ বাঁধ দেওয়া হয়ে গেছে। যে স্থানে বাঁধ দেওয়া হয়েছে ওই জায়গাটি নদীর প্রবহমান স্রোতধারা বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। এতে নদী সংকুচিত হয়ে পড়েছে। তারা বলেন, ওই বাঁধের উল্টোদিকে এখানকার অন্যতম বাণিজ্যিক কেন্দ্র রামকৃষ্ণপুর বাজার। সেখানে একটি লঞ্চঘাটও আছে। প্রতিদিন ওই ঘাট দিয়ে কয়েক হাজার যাত্রী ও ব্যবসায়ী ঢাকার সদরঘাট, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদীতে পণ্য পরিবহন ও যাতায়াত করে থাকেন। বাঁধে নদী সংকুচিত হওয়ায় লঞ্চ চলাচলে বিঘ্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

অভিযোগ প্রসঙ্গে ভুরভুরিয়া গ্রামের মমিনুল হক মোমেন বলেন, ‘যে জায়গায় বাঁধ দেওয়া হয়েছে, এটা আমাদের জমি। সঠিকভাবে মাপলে নদীর ভেতরে অনেক জায়গা আমরা পাব। কিছু ব্যক্তি নানাভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে যেন জায়গাটা ভরাট না হয়।’ তবে রামকৃষ্ণপুর বাজারের ব্যবসায়ী শাহাদত হোসেন জানান, যে জায়গায় বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে, এটা নদীর মধ্যে রয়েছে। বাঁধ দেওয়ায় নদী সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এতে নৌ-চলাচল ব্যাহত হয়ে বাজারের ঘাট দিয়ে মালপত্র পরিবহন দুরূহ হয়ে পড়বে। মারাত্মক ক্ষতির শিকার হবেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

ছলিমাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল মতিন জানান, ভুরভুরিয়ায় তিতাস নদীর তীরে বড় বাঁধ দেওয়া হয়েছে বলে শুনেছি। সরেজমিন দেখে এসে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানাব।

ছলিমাবাদ ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, নদীর তীরবর্তী কোনো নিচু জায়গা ভরাট করা যায় না। জলাধার আইনে ওই জায়গা ভরাট করার কোনো সুযোগ নেই। যারা নিজেদের জায়গা দাবি করে ওটি ভরাট করছে, তারা ঠিক বলেনি। বাঞ্ছারামপুর নদী, খাল-বিল রক্ষা কমিটির সভাপতি সাব্বির আহমেদ সুবীর বলেন, নদীর তীরে এভাবে বাঁধ নির্মাণ চললে এক সময় নদীটিই বিলীন হয়ে যাবে। চোখের সামনে এমন ঘটনা ঘটলেও রহস্যজনক কারণে প্রশাসন নীরব।

উপজেলা কৃষি কর্মকতা গোলাম মোস্তফা বলেন, কেউ আইন না মানায় দিন দিন কৃষিজমি ভরাট হয়ে কমে যাচ্ছে। আর নদী রক্ষার দায়িত্ব ইউএনওর। তিনিই হয়তো এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন। বাঞ্ছারামপুরের ইউএনও মোহাম্মদ শরিফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি সার্ভেয়ারকে পাঠিয়েছিলাম। তারা মেপে দেখেছে; এটা তাদের জমি; তারা তা ভরাট করতে পারে।’

একই কথা বলেছেন বিআইডব্লিউটিএর নির্বাহী প্রকৌশলী সুলতান আহমেদ খান। মোবাইল ফোনে তিনি বলেন, ‘ভুরভুরিয়া গ্রামে তিতাস নদীর পাশে বাঁধ দেওয়া হয়েছে, তা আমি দেখেছি। এতে নদী ভরাট করা হচ্ছে না।’ জলাধার আইনে ওই জায়গা ভরাট করা যায় কি-না- এমন প্রশ্নের উওরে তিনি বলেন, এটা আমার দেখার বিষয় না। জমির মালিকরা তা বলতে পারবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত