প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অনিশ্চিত ও প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল ভবিষ্যতে টিকে থাকার জন্য জ্ঞান ও দক্ষতার প্রয়োজন : এম এম শহিদুল হাসান

নাঈমা জাবীন : ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য এম এম শহিদুল হাসান বলেছেন, বর্তমানে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ‘চিন্তা স্কুল’ (‘থিংকিং স্কুল’) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং দেশগুলো সুফল পাচ্ছে। এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সিঙ্গাপুর তাদের যুবকদের শিক্ষার মাধ্যমে সৃজনশীল চিন্তা-দক্ষতা অর্জনের এবং জীবনব্যাপী জ্ঞান অন্বেষণে উদ্দীপনা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ১৯৯৭ সালে থিংকিং স্কুল বা চিন্তা স্কুল প্রতিষ্ঠা করে। দেশটির সরকার চিন্তা ও সৃজনশীল দক্ষতা অর্জনের উদ্দেশ্যে প্রাইমারি স্কুল থেকে কলেজ পর্যন্ত কারিকুলাম ও মূল্যায়ন পদ্ধতির মৌলিক পর্যালোচনার কাজটি হাতে নেয়। শুরুতে চিন্তা স্কুল সম্পর্কে এবং শিক্ষাদানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা  কীভাবে ক্রিটিক্যাল থিংকিং করার ক্ষমতা অর্জনে সামর্থ্য হবে সে ব্যাপারে শিক্ষকদের প্রান্তীয় জ্ঞান থাকার কারণে নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিলো। পরে বিদেশ থেকে প্রশিক্ষক এনে তাদের দিয়ে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ভিয়েতনামও চিন্তা স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছে। যেহেতু এ ধরনের কর্মকা-ে শিক্ষদের প্রচুর সময় দিতে হয়, সেহেতু তাদের টিচিং লোডও কম। সূত্র : যুগান্তর

তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশে প্রতি বছর ২০-২৫ লাখ যুবক চাকরির বাজারে প্রবেশ করছে। এ দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে আগামীতে চাকরির ধরন কী হবে তা ধারণা করাও কঠিন। দেশে আইটি সেক্টর দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে, শিল্প-কারখানায় উচ্চ প্রযুক্তির প্রয়োগ শুরু হয়েছে। বাংলাদেশেও চাকরির ধরন পাল্টাচ্ছে। আজ যে শিশু প্রাইমারি স্কুলে ভর্তি হয়েছে, সে ২০৪০ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করে কর্মজীবনে প্রবেশ করবে। সেসময় চাকরির ধরন কেমন হবে তা কারও পক্ষে ধারণা করা সম্ভব নয়। কাজেই অনিশ্চিত ও প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল ভবিষ্যতে টিকে থাকার জন্য যে জ্ঞান ও দক্ষতার প্রয়োজন তা আমাদের সন্তানদের দিতে আমাদের দেশের বিদ্যালয়গুলোকে অবশ্যই দায়িত্ব নিতে হবে। কালবিলম্ব না করে দেশে চিন্তা স্কুল গড়তে হবে। সরকারকে এ ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে হবে। থিংকিং স্কুলের প্রবক্তাদের বা এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতা নিতে হবে। মনে রাখতে হবে, সনাতনপন্থিরা এ ধরনের স্কুল প্রতিষ্ঠায় বাধা দেবে এবং বাধা আসতে পারে স্কুল ও কলেজের শিক্ষকদের কাছ থেকেও। শিক্ষকদের তখন অধিক সময় দিতে হবে এবং নতুন পদ্ধতিগুলো জানতে হবে ও অনুশীলন করতে হবে। কীভাবে সফলতা আসবে তা চিন্তাভাবনা করেই অগ্রসর হতে হবে। মনে রাখতে হবে, সফলতা আসবে যদি আমরা এটাকে ‘অ্যাড অন’ হিসেবে না করে ‘বিল্ড ইন’ হিসেবে বাস্তবায়িত করি।

 

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত