প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রাশেদা রওনক খান বললেন, শিক্ষার্থী ঝরে যাওয়া ঠেকাতে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠাননির্ভর বৃত্তি বাড়াতে হবে

আমিরুল ইসলাম : আজ এসএসসি পরীক্ষায় ১৭ লাখ ৪০ হাজার ৯৩৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ গ্রহণ করার কথা থাকলেও, পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবেন না ৫ লাখ ৪৭ হাজার শিক্ষার্থী। এই ব্যাচ ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে যখন নবম শ্রেণিতে পড়তো তখন রেজিস্ট্রেশন করেছিলো ২২ লাখ ৮৮ হাজার ৩২৩ জন। এতো বিপুল সংখ্যক পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করার ব্যাপারে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক রাশেদা রওনক খান বলেছেন, শিক্ষাখাতে সরকারি বৃত্তির পাশাপাশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠাননির্ভর বৃত্তি প্রদানের ব্যবস্থা করতে পারলে শিক্ষার্থীদের ঝড়ে যাওয়া কমে যাবে।

এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, টেস্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হতে পারলে মূল পরীক্ষায় বসতে না দেয়ার বিষয়টি পূর্বেও ছিলো। আমরা যখন ছাত্র ছিলাম তখনও এ বিষয়টা ছিলো টেস্টে যদি কোনো শিক্ষার্থী দুই বিষয়ে ফেল করতো তখন সে পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার যোগ্য হতো না। প্রি-টেস্ট ও টেস্ট দুইটা থাকতো, এর মধ্যে প্রি-টেস্টের রেজাল্ট খারাপ হলে টেস্টে যেন সব বিষয়ে পাস করে সে চেষ্টাটা থাকতো, কারণ শর্ত ছিলো যে টেস্টে পাস করবে না সে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে না। এটা আবার চালু করলে খুবই ভালো কথা, কারণ টেস্টে যদি না পাস করে সে কী করে আবার মাধ্যমিকে পাস করবে? তখনই দেখা যায় যে প্রশ্ন ফাঁস করার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। টেস্ট পরীক্ষায় পাস না করে মূল পরীক্ষায় বসলে তখনই বিভিন্ন অবৈধ পথ খুঁজে বেড়ায়, কীভাবে সে পাস করতে পারবে বা উৎরে যাবে। আমার মনে হয় এটা খুব ভালো যদি বিষয়টা এমন হয়। যারা অর্থনৈতিক কারণে ও অন্যান্য কারণে ঝরে পড়েছে, আর পরীক্ষা দিতে পারছে না। পড়ালেখাটা ছেড়ে দিয়েছে সেটা খুব দুঃখজনক ও আশঙ্কাজনক। এ ব্যাপারে আমাদের শুধু সরকারি নয়, বেসরকারি পর্যায়েও বিভিন্ন ধরনের সাহায্য-সহযোগিতা ও পদক্ষেপ নিতে হবে। যার মাধ্যমে একটা ছেলে বা মেয়ে যেন অন্তত এসএসসি পাস করতে পারে। এসএসসি পাসের একটা সার্টিফিকেট থাকলে যেকোনো ক্ষেত্রে একটা গুরুত্ব বহন করে। এ জায়গাটায় যদি সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বেসরকারিভাবেও আমরা বিভিন্ন উদ্যোগ দেখতে পাই তাহলে এমনটা হবে না। কিন্তু আমরা শিক্ষা ক্ষেত্রে উদ্যোগটা একটু কম দেখতে পাই। উন্নত দেশগুলোতে প্রচুর ব্যক্তিনির্ভর, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠাননির্ভর বৃত্তি রয়েছে। বাবা-মার অসচ্ছলতা থাকলেও এগুলো পাওয়ার মাধ্যমে মেধাবী ছাত্ররা বের হয়ে আসে। আমাদের দেশে এ রকম ব্যবস্থা থাকলে পড়ালেখা করতে আর সমস্যা হবে না। এই বৃত্তিগুলো আমাদের দেশে ব্যবস্থা করতে হবে। আমরা উন্নয়নের বাংলাদেশের কথা বলছি। আমরা যদি আমাদের দেশকে উন্নতির শিখরে দেখতে চাই, তাহলে সেক্ষেত্রে আমাদের সকলের কর্তব্য রয়েছে। আঠারো কোটি জনসংখ্যার দেশে সরকারের পক্ষে এটা একা সম্ভব নয়, এক্ষেত্রে বেসরকারি পদক্ষেপ থাকলেও ঝরে যাওয়ার প্রবণতা কমে যাবে। অন্তত দরিদ্র্যতার কারণে যারা ঝরে যাচ্ছে তারা রক্ষা পাবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে আমাদের শিক্ষা ক্ষেত্রে মেধাশূন্যতার তৈরি হচ্ছে। প্রশ্নফাঁস তো সরকার নিজে করে না। প্রশ্নফাঁসের একটা দুষ্টচক্র আছে। সে চক্রটাকে ধরার জন্য আমরা দেখতে পাচ্ছি একটা প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই পুরো চক্রটা যদি ধরা পড়ে বা এই চক্রের কিছু সংখ্যক ধরা পড়ে তাহলে অন্যরা প্রশ্নফাঁসে আর এগোবে না। এটা হচ্ছে সরকারের পক্ষ থেকে একটা পদক্ষেপ। আরেকটা হচ্ছে প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের এক ধরনের মনোভাব গড়ে তোলা। পরীক্ষার্থীর প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে এক ধরনের মনোভাব গড়ে তোলা । কেউ যদি প্রশ্নফাঁস করে পাস করে, সে যেন হীনম্মন্যতায় ভোগে। আমাদের সমাজে এমন হয়ে গেছে, প্রশ্নফাঁস করে জিপিএ-৫ পেলেও তাকে অহংকার করতে দেখা যায়। কারও সন্তান প্রশ্নফাঁসে জিপিএ-৫ পেলেও তিনি ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন যে, তার সন্তান জিপিএ-৫ পেয়েছে। এই মিথ্যা অহংকার থেকে বেরিয়ে আসতে হবে এবং কঠিন সত্যকে মেনে নেয়ার প্রবণতা তৈরি করতে হবে, অনুভ‚তি তৈরি করতে হবে। প্রশ্নফাঁস আমরা করবো না এবং প্রশ্নফাঁস যারা করে তাদের আমরা ঘৃণা করবো এবং তাদের কাছ থেকে আমরা প্রশ্ন নেবো না। সমাজে একটা চক্র প্রশ্নফাঁস করছে, কিন্তু অসংখ্য চক্র আমাদের আশপাশে ঘোরাফেরা করছে প্রশ্নফাঁসের কথা বলে টাকা নেয়ার জন্য। এটা আরও বেশি ভয়ঙ্কর। ছাত্রছাত্রীরা তৈরি হচ্ছে একটা প্রশ্নপত্র পড়ে আর পরীক্ষার হলে গিয়ে দেখছে প্রশ্ন কমন পড়েনি, অন্য প্রশ্ন এসেছে। তখন পরীক্ষার ফল আরও খারাপ হয়ে যাচ্ছে। এতে ছাত্রছাত্রীর মন ভেঙে যাচ্ছে। এজন্য শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের আরও সচেতন হতে হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে যে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে সেটা তো আমরা দেখতে পাচ্ছি। প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে তারা সর্বোচ্চ রকমের পদক্ষেপ নিয়েছে। আশা রাখছি ভালো কিছু হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত