প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি

যুগান্তর : স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি বন্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বেশ কড়া অবস্থান নিয়েছে বলেই মনে হয়। বছর দুয়েক আগে দুদক স্বাস্থ্য অধিদফতরের দুর্নীতি অনুসন্ধানে একটি টিম গঠন করেছিল। অনুসন্ধান শেষে এ টিম দুদক কর্তৃপক্ষের কাছে একটি প্রতিবেদন দাখিল করে। প্রতিবেদনটি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, স্বাস্থ্য খাতের অনিয়ম ও দুর্নীতির ১১টি উৎস রয়েছে। এসব উৎস চিহ্নিত করে দুদক দুর্নীতি বন্ধে ২৫ দফা সুপারিশও পেশ করেছে।

দুদকের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, সরকারি হাসপাতালে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে কোনো নীতিমালা মানা হয় না। অন্যদিকে, অর্থ আত্মসাতের জন্য এমন সব যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম ক্রয় করা হয়, যা প্রকৃতপক্ষে অপ্রয়োজনীয়। কখনও কখনও যন্ত্রপাতি সরবরাহ ও মেরামত দেখানো হলেও তা না করেই অর্থ হাতিয়ে নেয়া হয়। দুর্নীতির আরেকটি ধরন হল, সরকারি হাসপাতালগুলোয় সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ওষুধ থাকলেও রোগীদের তা দেয়া হয় না। স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি বন্ধে দুদক যেসব সুপারিশ করেছে তার মধ্যে রয়েছে- প্রতিটি সরকারি হাসপাতালে জনসাধারণের দৃষ্টিগোচর হয় এমন উন্মুক্ত স্থানে সিটিজেনস চার্টার প্রদর্শন করতে হবে, প্রতিদিন কী কী ওষুধ স্টকে আছে তা-ও প্রদর্শন করতে হবে, দুর্নীতি রোধে ওষুধ ও যন্ত্রপাতি ক্রয়ে ক্রয়-কমিটিতে বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে ইত্যাদি।

দেশের প্রতিটি খাতেই কম-বেশি দুর্নীতি হয় এমন একটি পাবলিক পারসেপশন থাকলেও স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি যে এতটা বিস্তার লাভ করেছে, দুদকের প্রতিবেদনটি প্রকাশের আগে তা অনেকেরই জানা ছিল না। স্বাস্থ্যের মতো একটি জনগুরুত্বপূর্ণ খাতে দুর্নীতি এতটা বড় আকার ধারণ করেছে, ভাবা যায় না। দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে স্বাস্থ্য অধিদফতরে কর্মরত ২৩ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছিল দুদক। আশার কথা, সেই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ তাদের বদলি করেছে। জানা গেছে, এসব কর্মকর্তা-কর্মচারী ক্ষমতার অপব্যবহার করে অঢেল সম্পদের মালিক বনেছেন। আমাদের কথা হল, কৃত অপরাধের জন্য বদলি তেমন কোনো শাস্তি নয়। যথাযথ তদন্তসাপেক্ষে অপরাধ বিবেচনায় তাদের আইনের আওতায় আনা জরুরি।

বস্তুত স্বাস্থ্য খাতে অনিয়মের শেষ নেই। দালালদের দৌরাত্ম্য, প্রাইভেট প্র্যাকটিসের কারণে সময়ের অভাবে সরকারি ডাক্তারদের নির্ধারিত দায়িত্ব পালন না করা এবং রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি আদায়সহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িয়ে আছে স্বাস্থ্য খাত। কয়েকদিন আগে প্রধানমন্ত্রী ডাক্তারদের কর্মস্থলে না থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে নির্ধারিত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে তাদের পেশা ছেড়ে দেয়ার কথা পর্যন্ত বলেছেন। আমরা মনে করি, স্বাস্থ্য খাতটিকে অনিয়ম ও দুর্নীতিমুক্ত করতে হলে শুধু মুখের কথায় কাজ হবে না। সরকার তথা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে কঠোর থেকে কঠোরতর অবস্থান নিতে হবে। দেশের গরিব জনগণ টাকার অভাবে উন্নত চিকিৎসা নিতে ব্যর্থ হবে, অন্যদিকে স্বাস্থ্য খাতের কিছু লোক দুর্নীতির মাধ্যমে ফুলে-ফেঁপে উঠবে- এটা হতে পারে না। দুদক প্রস্তাবিত সুপারিশমালা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে বলে আমাদের বিশ্বাস।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত