প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ছাত্রলীগের ’৯৪-এর দাবি এখন ছাত্রদল ও বাম ছাত্র সংগঠনের

ডেস্ক রিপোর্ট : ডাকসু ও হল নির্বাচনের ভোট কেন্দ্র একাডেমিক ভবনে বসানোর দাবি উঠেছিল ১৯৯৪ সালে। প্রায় ২৫ বছর পর একই দাবি উঠেছে। তবে দাবি এক থাকলেও দাবিদার বদলে গেছে।

১৯৯৪ সালে দাবি ছিল ছাত্রলীগের- বিরোধিতা করেছে ছাত্রদল। এবার ছাত্রদল ও প্রগতিশীল বাম ছাত্র সংগঠনগুলো সেই দাবিতে সোচ্চার। কিন্তু বিরোধিতা করছে ছাত্রলীগ। ২৫ বছরের ব্যবধানে বড় দুটি ছাত্র সংগঠনের এ ধরনের অবস্থান পরিবর্তন ক্যাম্পাসে বেশ আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

এ পরিস্থিতিতে ১১ মার্চ অনুষ্ঠেয় নির্বাচন পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন অনেকেই। ২৯ জানুয়ারি সিন্ডিকেট সভার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের এ ধরনের গুঞ্জন উঠেছে। ছাত্র সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকেও এ ধরনের আশঙ্কার কথা বলা হচ্ছে।
নির্বাচন পেছানোর গুঞ্জনের বিষয়ে ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই।’

এদিকে ডাকসু নির্বাচনের রেকর্ড ঘেঁটে দেখা গেছে, ১৯৯০ সালের ৬ জুন সর্বশেষ নির্বাচনের ১ বছর পর ১৯৯১ সালের ১২ জুন তৎকালীন ভিসি অধ্যাপক মনিরুজ্জামান মিঞা ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। তখন ছাত্রনেতারা ছাত্রত্ব ঠিক রেখে প্রার্থী হওয়ার জন্য বিশেষ ভর্তির দাবি করেন। এ নিয়ে সৃষ্ট সহিংসতায় নির্বাচন ভেস্তে যায়। ১৯৯৪ সালের এপ্রিলে ভিসি অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ ডাকসুর তফসিল ঘোষণা করেন। কিন্তু নির্বাচনের পরিবেশ না থাকার অভিযোগে ছাত্রলীগের বাধার মুখে নির্বাচন স্থগিত হয়। তখন ছাত্রলীগের বক্তব্য ছিল, ‘হলে হলে ভোট কেন্দ্র হলে ছাত্ররা সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে পারবে না। এতে কারচুপির সম্ভাবনা থাকে। তাই কলা ভবনে ভোট কেন্দ্র করতে হবে।’ আর ছাত্রদল তখন বলেছে, ‘নির্বাচন হেরে যাওয়ার ভয়ে ছাত্রলীগ এমন দাবি করছে। এ দাবি অযৌক্তিক।’

ভোট কেন্দ্রের বিষয়ে ছাত্রলীগ ছাত্রদলের এমন অবস্থানের পর বয়ে গেছে দীর্ঘ ২৫ বছর। চলতি বছরের ১১ মার্চ ঘোষণা হয়েছে ডাকসু নির্বাচনের তারিখ। ২৯ জানুয়ারি সিন্ডিকেটের সভায় হলে হলে ভোট নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

অথচ সময়ের পরিবর্তনে বদলে গেছে দেশের প্রধান দুটি ছাত্র সংগঠনের বক্তব্য। এবার ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন বলছেন, একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোট কেন্দ্রের বিষয়টিকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তির চেষ্টা করছে।

হলের ভেতরে ভোট কেন্দ্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় শতবর্ষী ঐতিহ্য ও প্রথা। বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থীর প্রায় ৬৫ শতাংশ হলে অবস্থান করে।
একাডেমিক, প্রশাসনিক, সহপাঠ্য ও হল সংসদের কার্যক্রম হলের আবাসিক বৈশিষ্ট্যকে উপজীব্য করেই। তাই ভোট কেন্দ্র নিয়ে ন্যূনতম বিভ্রান্তির অবকাশ নেই। ছাত্রলীগের এ বক্তব্যের বিরোধিতায় ছাত্রদল ঢাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার সিদ্দিকী যুগান্তরকে বলেন, ভোট কেন্দ্র একাডেমিক ভবনেই হতে হবে। নির্বাচনের আগের রাতে ব্যালট পেপারে সিল মেরে ছাত্রলীগকে বিজয়ী করতে প্রশাসন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এদিকে এবার ক্যাম্পাসের বাইরে ভোট কেন্দ্র করার দাবি জানিয়েছে প্রগতিশীল বাম ছাত্র সংগঠনগুলো। সরকারবিরোধী বাম ছাত্র সংগঠনগুলোর মোর্চা প্রগতিশীল ছাত্র জোট বলছে, শিক্ষার্থীরা যাতে নির্ভয়ে ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে পারে, তার জন্য হলের বাইরে একাডেমিক ভবনে ভোট কেন্দ্র করতে হবে। যেহেতু হলে সহাবস্থান নেই, তাই হলে ভোট কেন্দ্র করলে ছাত্রলীগ কেন্দ্রে প্রভাব সৃষ্টি করবে। ফলে সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রক্রিয়া ভেস্তে যাবে। একাডেমিক ভবনে ভোট কেন্দ্র নেয়ার দাবিতে লাগাতার কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন বলেও জানান জোটের ঢাবি শাখার সমন্বয়ক ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সালমান সিদ্দিকী।

এদিকে ১১ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন অনেকেই। ছাত্র সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকেও এ ধরনের আশঙ্কা দেখা গেছে। বুধবার ছাত্র ফ্রন্টের পক্ষ থেকে এক সংবাদ সম্মেলনে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়, ‘নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার তোড়জোড় থাকলেও, পরিবেশ নির্মাণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ততটাই নির্জীব। তাতে নির্বাচন হবে কিনা সে সন্দেহ প্রবলভাবে বাড়ছে। আমরা চাই সব বাধা দূর হোক, অমানিশার ঘোর অন্ধকার কাটুক, উপযুক্ত পরিবেশ তৈরিতে প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করুক।’ এছাড়া ডাকসু সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলাপকালেও উঠে এসেছে এ ধরনের আশঙ্কার কথা। তবে নির্বাচন পেছানোর বিষয়ে এখনও সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান তারা।

অন্যদিকে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছ থেকেও। এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. একেএম গোলাম রব্বানী যুগান্তরকে বলেন, ‘এ ধরনের কোনো বিষয়ে আমি অবহিত নই।’ নির্বাচন পেছানো হতে পারি কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘কেউ আমাকে এ বিষয়ে কিছু জানায়নি।’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত