প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভারতে ৪৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বেকারত্বের হার, মোদিকে দায়ী করলেন রাহুল

নূর মাজিদ, সান্দ্রা নন্দিনী : ভারতে ২০১৭-১৮ সালে বেকারত্বের হার বিগত ৪৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ছিলো বলে জানা গেছে। দেশটির ন্যাশনাল স্যাম্পল সার্ভে অফিসে’স-এনএসএসও পরিচালিত একটি জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনটি নিয়ে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গন বেশ সরগরম হয়ে উঠেছে। দেশটির প্রধান বিরোধী দল ভারতীয় ন্যাশনাল কংগ্রেসের সভাপতি রাহুল গান্ধী এই প্রতিবেদনের সুত্র ধরে বেকারত্ব দূরীকরণ এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধনে ব্যর্থতার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকেই দায়ী করেছেন। কেন্দ্রীয় সরকার এই তথ্য এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়া, দ্য স্টেটসম্যান

রাহুল গান্ধী গতকাল বৃহ¯পতিবার এক টুইট বার্তায় বলেন, ‘ফুয়েরার আমাদের ৫ বছরে ২ কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবেন এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে পাঁচ বছর পরে কর্মসংস্থান প্রতিবেদন তার সৃষ্ট জাতীয় বিপর্যয়ের চেহারা ফাঁস করে দিয়েছে।’ এইভাবে ফুয়েরার সম্বোধন করে রাহুল নরেন্দ্র মোদীকে একজন স্বেচ্ছাচারী একনায়কের সঙ্গে তুলনা করেন। সরকারি ওই প্রতিবেদনের সুত্র ধরে রাহুল জানান, শুধুমাত্র ২০১৭-১৮ অর্থবছরেই দেশটির প্রায় সাড়ে ৬ কোটি যুবক বেকার ছিলো।

জরিপ মতে, উল্লেখিত সময়ে বেকারত্বের হার ৬.১ শতাংশতে দাঁড়িয়েছে। মঙ্গলবার ভারত সরকারের অন্তর্বর্তীকালীন বাজেটের একদিন আগে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হলো। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতে বেকারত্বের এই হার ১৯৭২-৭৩ সালের পর ২০১৭-১৮ সালে সবচাইতে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এর আগে ২০১১-১২ সালে বেকারত্বের হার ছিলো ২.২ শতাংশ এবং তরুণ বেকারত্বের হার ১৩ থেকে ‘আশংকাজনকভাবে’ বৃদ্ধি পেয়ে ২৭ শতাংশ হয়েছিলো। এছাড়াও, চাকুরিহীন মানুষের সংখ্যা শহরাঞ্চলে ৭.৮ শতাংশ ও গ্রামাঞ্চলে ৫.৩ শতাংশ। ভারতে এধরনের জরিপ হওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ দেশটিতে অনিবন্ধিত শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় ৯৩ শতাংশ।

এদিকে এই ন্যাশনাল স্যাম্পল সার্ভে অফিসের প্রতিবেদন পরিবর্তন বা ধামাচাপা দেয়ার চেস্টা করেছিলো কেন্দ্রীয় সরকার এমন অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার ভারতীয় দৈনিক ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানায়, কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর মাধ্যমে সরকার এই প্রতিবেদন প্রকাশে বাঁধা সৃষ্টি করেছিলো। ফলে প্রতিবেদনটি প্রকাশের পরই কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর দুই শীর্ষ দায়িত্বশীল কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছেন। তাদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক স¤পর্ক থাকারও অভিযোগ উঠেছে। দেশটির গণমাধ্যম জানায়, সরকারি দপ্তরগুলোর ওপর স¤পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ আনতে বিজেপি সরকার যে চাপ সৃষ্টি করেছে তার প্রেক্ষিতেই ভারতের সরকারি প্রতিবেদনগুলোর পক্ষে নিরপেক্ষ তথ্য প্রকাশ কঠিন হয়ে পড়েছে। এর আগে ডিসেম্বর মাসে এই প্রতিবেদন প্রকাশে ভেটো দিয়েছিলো কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত