প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অর্থনৈতিক স্বাধীনতা সূচকে ৭ ধাপ এগোল বাংলাদেশ

কালের কন্ঠ : সংক্ষিপ্তভাবে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা হলো ব্যক্তির শ্রম, সম্পত্তি ও ভোগের অধিকার; সমাজে শ্রম, পুঁজি ও পণ্য প্রবাহের স্বাধীনতা এবং এসব অধিকার রক্ষায় রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা। এই অর্থনৈতিক স্বাধীনতার সূচকে গত এক বছরে সাত ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। গত রবিবার ১৬৯টি দেশের এ সূচক প্রকাশ করে ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান হেরিটেজ ফাউন্ডেশন। সূচকে এবার বাংলাদেশের অবস্থান ১২১তম। গত বছর ছিল ১২৮তম। তবে সাফল্যাঙ্কে (স্কোর) খুব অগ্রগতি হয়নি। এক বছরে বাংলাদেশের সামগ্রিক স্কোর বেড়েছে ০.৫ পয়েন্ট। সূচকে বাংলাদেশের পেছনে রয়েছে ভারত ও পাকিস্তান।

অর্থনৈতিক স্বাধীনতার সূচকে অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোকে র্যাংকিং অনুযায়ী পাঁচটি ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। ভাগগুলো হচ্ছে ‘মুক্ত’, ‘বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মুক্ত’, ‘মাঝারি রকমের মুক্ত’, ‘বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অমুক্ত’ ও ‘অবদমিত’ দেশ। এর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ‘বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অমুক্ত’ দেশগুলোর তালিকায়। ‘মুক্ত’ দেশের তালিকার শীর্ষে রয়েছে হংকং। আর ‘বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মুক্ত’ দেশের তালিকায় রয়েছে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও জাপানের মতো দেশগুলো। অবদমিত দেশগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে জিবুতি।

চারটি মানদণ্ডের ভিত্তিতে এই সূচক তৈরি করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। মানদণ্ড চারটি হলো আইনের শাসন, সরকারের অর্থনৈতিক আকার, নিয়ন্ত্রণ সংস্থাগুলোর দক্ষতা ও মুক্তবাজার। এতে উল্লেখ করা হয়, অর্থনৈতিক স্বাধীনতার জন্য সংখ্যা ও গণগত আরো ১২টি প্রভাবক উপাদানকে এই গবেষণায় যুক্ত করা হয়েছে।

বাংলাদেশ সম্পর্কে মন্তব্য : হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের ‘অর্থনৈতিকহ স্বাধীনতা সূচক ২০১৯’-এর প্রতিবেদনে বাংলাদেশ সম্পর্কে বলা হয়, এ দেশের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা সূচকের স্কোর হচ্ছে ৫৫.৬। এই স্কোর বাংলাদেশকে ১২১তম অবস্থানে তুলে এনেছে। দেশটির সামগ্রিক স্কোর বেড়েছে ০.৫ পয়েন্ট। সম্পত্তির অধিকার ও সরকারের একাগ্রতায় অগ্রগতির পাশাপাশি বিনিয়োগ স্বাধীনতা ও আর্থিক স্বাস্থ্যের অবনতি মিলিয়ে সামগ্রিকভাবে এই স্কোর অর্জন করেছে বাংলাদেশ। বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ১২১তম হলেও এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় ৪৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ২৭।

বাংলাদেশ সম্পর্কে আরো বলা হয়, দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে অব্যাহতভাবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ৬ শতাংশের বেশি থেকেছে বাংলাদেশে। এর চালিকাশক্তি হচ্ছে বেসরকারি ভোগ ও স্থির বিনিয়োগের দ্রুত বৃদ্ধি। তবে এটিও সত্য যে বাংলাদেশ এখনো দুর্বল অবকাঠামো, জাতিগত দুর্নীতি, অপর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ ও ধীরগতির অর্থনৈতিক সংস্কার নিয়ে ধুঁকছে। ভঙ্গুর আইনের শাসন অর্থনৈতিক উন্নতিকে বাধাগ্রস্ত করছে।

১. আইনের শাসন : বাংলাদেশের আইনের শাসনের ব্যাপারে বলা হয়, এ খাতে ‘সম্পত্তির মালিকানা’ সংক্রান্ত ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের স্কোর ৩৬.১, ‘বিচার বিভাগের কার্যকারিতা’র স্কোর ৩৪.৫ এবং ‘সরকারের নিষ্ঠায়’ ২৪.৪ পয়েন্ট পেয়েছে। এ বিভাগের সব কটি শাখায় বাংলাদেশ উন্নতি করেছে। তবে বাংলাদেশে সম্পত্তির মালিকানাসংক্রান্ত আইনগুলো সেকেলে। ভূমি নিয়ে বিরোধ খুব সাধারণ ঘটনা। বিচার বিভাগ শ্লথ এবং এর স্বাধীনতার অভাব রয়েছে। চুক্তি কার্যকর এবং মতবিরোধ নিরসনের প্রক্রিয়া অপর্যাপ্ত। বাংলাদেশে বড় আকারের দুর্নীতি খুবই সাধারণ ঘটনা। সম্প্রতি এমন দুটি ঘটনায় নাম জড়িয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও সাবেক প্রধান বিচারপতির।

২. সরকারের আকার : বাংলাদেশের সরকারের অর্থনৈতিক আকারের ক্ষেত্রে সরকারের ব্যয় স্কোর ৯৪.৫, করের বোঝাসংক্রান্ত স্কোর ৭২.৭, ‘রাজস্ব স্বাস্থ্য বা সক্ষমতার স্কোর ৭৭.৬ পয়েন্ট। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে ব্যক্তি খাতে সর্বোচ্চ করহার ২৫ শতাংশ এবং করপোরেট করহার ৪৫ শতাংশ। এ ছাড়া আছে মূল্য সংযোজন কর। কর থেকে আসা আয়ের পরিমাণ মোট দেশজ আয়ের ৮.৮ শতাংশের সমান। গত তিন বছরে সরকারি ব্যয় বেড়েছে জিডিপির ১৩.৬ শতাংশ। বাজেট ঘাটতির গড় হয়েছে জিডিপির ৩.৬ শতাংশ। সরকারের ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে জিডিপির ৩২.৪ শতাংশে।

৩. নিয়ন্ত্রণমূলক দক্ষতা : এ খাতে বাংলাদেশের ব্যবসার স্বাধীনতার স্কোর ৫০.৯, শ্রমের স্বাধীনতার স্কোর ৬৮.২ ও মুদ্রা স্বাধীনতার স্কোর ৬৯.৯ পয়েন্ট। শ্রমের স্বাধীনতা শাখায় বাংলাদেশর নম্বর বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে বেশি। হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের মতে, বাংলাদেশে ব্যবসাসংক্রান্ত নীতি নির্ধারণ আগের চেয়ে কিছুটা সরল হলেও এখনো প্রক্রিয়া অস্বচ্ছ।

৪. মুক্তবাজার : এ খাতে বাণিজ্য স্বাধীনতায় বাংলাদেশ ৬৩.৩, বিনিয়োগ স্বাধীনতা শাখায় ৪৫ এবং অর্থায়ন স্বাধীনতা শাখায় ৩০ পয়েন্ট পেয়েছে। সরকার বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করতে আমলাতান্ত্রিক বাধা অপসারণের পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু দেখা গেছে, এখন পর্যন্ত পরিবর্তনের গতি খুব কম।

অন্যান্য দেশের অবস্থান : এবারের সূচকে প্রথম ছয়টি দেশকে মুক্ত অর্থনৈতিক স্বাধীনতার দেশের তালিকায় রাখা হয়েছে। দেশগুলো হলো যথাক্রমে হংকং ও সিঙ্গাপুর, নিউজিল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও আয়ারল্যান্ড। মুক্ত দেশগুলোর স্কোর ৮০ থেকে ১০০-এর মধ্যে।

এর পরই ‘বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মুক্ত’ দেশের তালিকায় ৭ থেকে ৩৫ নম্বর র্যাংকিংয়ের দেশগুলোকে রাখা হয়েছে। এ তালিকায় যুক্তরাজ্য (৭), কানাডা (৮), আরব আমিরাত (৯), যুক্তরাষ্ট্র (১২), জার্মানি (২৪) ও জাপান (৩০)।

বাংলাদেশ আছে ‘বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অমুক্ত’ দেশের তালিকায়। এ তালিকায় থাকা ভারত ও পাকিস্তানের অবস্থান যথাক্রমে ১২৯ ও ১৩১। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভুটানের অবস্থান সবচেয়ে ভালো। দেশটি আছে ৭৪তম অবস্থানে। আর শ্রীলঙ্কা আছে ১১৫তম অবস্থানে। ভুটান আছে ‘মাঝারি রকমের মুক্ত’ ভাগে। এ ভাগে দক্ষিণ এশিয়ার কোনো দেশ অবশ্য নেই। এই ভাগে চীনের অবস্থান ১০০তম।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত