প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রাজনৈতিক কৌশলে বিভ্রান্ত বাংলার তারুণ্য

উল্লাস মূর্তজা : নির্বাচন নিয়ে তরুণদের বিভ্রান্ত হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে৷ একটা দলকে তাঁরা শেষ পর্যন্ত বেছে নেবেন সত্যি, কিন্তু আসলেই কোন আদর্শ তাঁরা বেছে নিচ্ছেন, সে দল আদর্শের পক্ষে কতটুকু জোরালো ভূমিকা রাখে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে প্রথম এবং এখন পর্যন্ত একমাত্রবার ‘না’ ভোটের সুযোগ ছিল৷ কিন্তু তাঁদের মনে হয়েছিল, তথাকথিত রাজনীতিকে এভাবেই প্রত্যাখ্যান করা যাবে৷

বাংলাদেশের দলগুলিকে মোটামুটি আদর্শের দিক দিয়ে একসময় চারভাগে ভাগ করা যেতো৷ ১) ডানপন্থি সেক্যুলার ২) ডানপন্থি অ্যান্টি-সেক্যুলারিজম ৩) বামপন্থি ও ৪) কট্টর ইসলামপন্থি৷

এই বিভাজন যত সময় গিয়েছে, আদর্শ ততই ক্ষমতার কাছে পরাস্ত হয়ে আজকের অবস্থানে এসে দাঁড়িয়েছে৷ এখন এমন এক অবস্থানে বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দল অবস্থান করছে, যেখানে তরুণদের আদর্শ নয়, বরং ক্ষমতা দিয়ে আকৃষ্ট করার প্রতিযোগিতাই বেশি৷

আওয়ামী লীগ একসময় সেক্যুলার ও মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দল হিসেবে তরুণদের কাছে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছে, একদিকে সেক্যুলার ভাব ধরে, অন্যদিকে হেফাজত ও অন্য ধর্মজীবী দলগুলোর সাথে সখ্যতা করে। তরুণদের আওয়ামী লীগ কি বার্তা দিচ্ছে, তা বোধগম্য নয়৷ এটা কৌশল হলে কিন্তু সেটা কিসের জন্য, কার স্বার্থে, তরুণরা বিশ্বাস করবে কীভাবে!

এটা সত্যি যে, চার দশকেরও বেশি সময় পর এই দলের নেত্রী শেখ হাসিনা নিজে উদ্যোগ না নিলে যুদ্ধাপরাধের বিচার শুধু স্বপ্নেই দেখতে হতো৷

বিএনপির অবস্থা এমন, প্রাণ গেলেও জামায়াতকে ছাড়া চলবে না৷ নবগঠিত ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন একই মুখে বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধের কথা বলেন। জামায়াত প্রসঙ্গে চুপ থাকেন, কখনো এড়িয়ে যান, কখনো সাংবাদিকের ওপর রেগে গিয়ে বলেন ‘খামোশ’।

বামপন্থি দলগুলো দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছে৷ একসময় আওয়ামী দুঃশাসনের কথা বলে দল ভেঙে জাসদ গঠন করা নেতারা এখন সেই জাসদ নিয়েই দিব্যি আওয়ামী লীগের সাথে আছেন৷ এই দলগুলোর বাইরে যেসব বামপন্থি দল রয়েছে, তাদের অবস্থাও একই রকম। কাগজে-কলমে ‘গণঅভ্যুত্থান’ ‘সশস্ত্র বিপ্লবের’ বুলি আওড়ালেও সব নির্বাচনে ঠিক ঠিক তাদের অংশ নেয়া চাই৷ ‘কী যুক্তি?’ খুব সংক্ষিপ্ত উত্তর, ‘কৌশল’।

কিন্তু স্বাধীনতার ৪৭ বছর পর ‘কৌশলে’ এসেই আটকে গেছে বাংলাদেশের সব আদর্শ৷ যে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ নিয়ে এখন সব দলের টানাহ্যাঁচড়া, সেই মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য কিন্তু একটাই ছিল– স্বাধীনতা৷ অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, ভৌগলিক স্বাধীনতা৷
সূত্র : ডয়েচে ভেলে (সংক্ষিপ্ত)

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত