প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সচেতনতা
বিজয় দিবসে করণীয় আমল

আমিন মুনশি : মুক্তিসংগ্রামের মাধ্যমে কোনো ভূ-খণ্ডের বিজয় বা স্বাধীনতা লাভ মহান রাব্বুল আ’লামিনের এক অপার অনুগ্রহ বা দানস্বরূপ। আরবি ‘হুররিয়্যাতুন’ অর্থ স্বাধীনতা। আর হুব্বুল ওয়াতান অর্থ স্বদেশপ্রেম। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) তার পবিত্র মাতৃভূমিকে অত্যন্ত ভালবাসতেন। মক্কা থেকে মদীনায় হিজরতের সময় তিনি প্রিয় জন্মভূমি মক্কার প্রতি ভালবাসায় বারবার আপ্লুত হন, তার দিকে ফিরে ফিরে তাকিয়ে উচ্চারণ করেন, ‘হে আমার স্বদেশ! তুমি কতো সুন্দর! আমি তোমাকে ভালবাসি… আমি তোমাকে ছেড়ে যেতাম না, যদি মক্কাবাসী আমাকে বের করে না দিত’।

প্রিয়নবীর (সা.) স্বদেশপ্রেমকে মহিমান্বিত করে তাঁকে সান্ত্বনা দিয়ে আল কুরআনের আয়াত অবতীর্ণ হলো: ‘কুরআনের বিধান তোমায় পাঠালেন যিনি/অবশ্যই স্বদেশে তোমায় ফেরাবেন তিনি’। (কাব্যানুবাদ- কাসাস: ৮৫)

আল-কুরআনের এ বাণী সত্যে প্রমাণিত হয়, হিজরি অষ্টম সালে মক্কা বিজয়ের মাধ্যমে। হিজরতের পর প্রিয়নবী (স) নামাযরত অবস্থায় বার বার আকাশের দিকে তাকাতেন। প্রিয়নবীর (স) স্বদেশপ্রেমের কারণে ‘কিবলা পরিবর্তনে’র নির্দেশনায় অবতীর্ণ হয় সুরা বাক্বারার ১৪৪ নম্বর আয়াত। অন্যদিকে সুরা আনআমের ৯২ নম্বর আয়াতে মক্কাকে উম্মুল কুরা বলা হয়েছে। আরবি উম্মুন অর্থ মা এবং কুরা অর্থ জনপদ। একজন মানুষ যেমন মা ছাড়া জন্মাতে পারে না তেমনি মাতৃভূমি বা স্বদেশ পরিচয়হীন মানুষের অস্তিত্ব অনর্থক। পবিত্র কুরআনের সুরা বালাদের শুরুতে আছে ‘আমি শপথ করছি নিরাপদ নগরীর’। এতে মানুষের স্বাধীনতার প্রেরণা রয়েছে। হজরত ইব্রাহিম (আ) পবিত্র নগরী মক্কার স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার জন্য মুনাজাত করেছিলেন, ‘হে আমার প্রতিপালক, এ নগরী (জনপদ)-কে তুমি নিরাপদ বানিয়ে দাও এবং এর অধিবাসীদেরকে জীবিকা দান করো ফল-ফলাদি দ্বারা’ (বাকারা: ১২৬)

আবার মজলুমের হাহাকার দূর করতে রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্যে কুরআনের বাণীর নিত্যতা রয়েছে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদেরকে এই অত্যাচারীর জনপদ থেকে মুক্তি দাও…’ (নিসা:৭৫)। এই মুক্তির অপর নামই স্বাধীনতা এবং আমরা ৫২, ৫৪, ৬২, ৬৬, ৬৯, ৭০ ও ৭১র কালপরিক্রমায় পেয়েছি স্বাধীনতা ও লাল-সবুজের পতাকা। ১৬ ডিসেম্বর আমাদের সেই লড়াই ও বিজয়ের কথা মনে করিয়ে দেয়।

 এখন আমাদের দেখতে হবে এই বিজয় দিবসে আমাদের করণীয় কী কী? আসলে বিজয় অর্জনের পর ইসলাম আমাদের দুইটি কাজ করতে বলেছে । এক– বিজয় অর্জিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মহান আল্লাহর তাসবীহ পাঠ করে তার দরবারে শোকরিয়া আদায় করা। দুই– মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে প্রার্থনা করা। মক্কা বিজয়ের পর আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন,‘যখন আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে বিজয় ও সাহায্য আসবে তখন মানুষদের তুমি দেখবে তারা দলে দলে আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করছে। অতঃপর তুমি তোমার মালিকের প্রশংসা করো এবং তার কাছে ক্ষমা প্রর্থনা করো, অবশ্যই মহান আল্লাহ তওবা কবুলকারী’। (সূরা আন নাসর-১-৩)

যারা জালিমের বিরুদ্ধে লড়াই করে এই বিজয় আনার জন্য মৃত্যুবরণ করেন, তারা শহীদ। আল্লাহ তায়ালা তাদের সম্পর্কে বলছেন, ‘যারা আল্লাহর পথে জীবন দেন তাদের মৃত বলো না। বরং তারা জীবিত। কিন্তু তোমরা তা উপলব্ধি করতে পার না। (সুরা বাক্বারা,আয়াত:১৫৪) তাদের আমল কিয়ামত পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে থাকবে। যেমন- রাসুল (স) বলেছেন, ‘মানুষ মৃত্যুর পর তার সব আমল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে তার আমল আর বৃদ্ধি পেতে পারে না, তবে ঐ ব্যক্তির কথা ভিন্ন, যে ব্যক্তি কোনো রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য সীমান্ত প্রহরায় নিয়োজিত থাকাবস্থায় মৃত্যুবরণ করে। তার আমল কিয়ামত পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে থাকবে। এবং কবরের প্রশ্নোত্তর থেকে সে মুক্তি পাবে’। (তিরমিযি,আবু দাউদ)

তাই ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে আমাদের এই বিজয় অর্জন করতে গিয়ে যারা দেশের জন্য আত্মত্যাগ করেছেন সেই সমস্ত শহীদের রুহের মাগফিরাতের জন্য আমরা দোয়া করব এবং বিজয় দিবসের শুকরিয়া স্বরূপ নামাজ আদায় করব।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত