প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সীরাত
অবিচারের শিকার হলেও প্রতিশোধ নিতেন না রাসূল সা.

আল-আমিন : ক্রোধ-সংবরণ ও সহনশীলতায় প্রিয় নবী (সা.) ছিলেন সর্বোচ্চ আদর্শ। কখনো তাঁর পক্ষ থেকে মন্দ কথা ও কাজ প্রকাশ পায়নি, নির্যাতন-অবিচারের শিকার হলেও তিনি কখনো প্রতিশোধ নেননি। কখনো কোনো সেবক বা স্ত্রীকে প্রহার করেননি। আয়েশা (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহকে (সা.) আল্লাহর নিষিদ্ধ সীমারেখা লঙ্ঘন না হলে কখনো নিজের প্রতি জুলুম-নির্যাতনের কোনো প্রতিশোধ নিতে আমি দেখিনি। আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা ব্যতিত তিনি কখনো কোনো কিছুকে নিজের হাত দ্বারা আঘাত করেননি এবং তিনি কখনো কোনো সেবক বা স্ত্রীকে প্রহার করেননি। (মুসলিম শরীফ (৪২৯৬)

রাসূলুল্লাহর (সা.) সহনশীলতার সমর্থনে কয়েকটি ঘটনা নিম্নে উল্লেখ করা হলো—

উহুদ যুদ্ধে রাসূলুল্লাহর (সা.) মুখমণ্ডল আক্রান্ত হলো, কয়েকটি দাঁত ভেঙে গেল, মাথায় পরিধেয় শিরস্ত্রাণ খণ্ড-বিখণ্ড হলো। তারপরেও তিনি কুরাইশদের বিরুদ্ধে বদ-দু’আ করেননি বরং তিনি বলেছেন, ‘হে আল্লাহ! আমার জাতিকে ক্ষমা কর। কেন না তারা জানে না।’ (সহিহ মুসলিম, হা: ৩২১৮)

জনৈক বেদুইন রাসূলুল্লাহর (সা.) চাদর শক্তভাবে টান দিলে তাঁর গলায় দাগ হয়ে গেল। তিনি বললেন, ‘আল্লাহর যে সব মাল তোমার কাছে আছে, আমার এই দুই উটের উপর আমার জন্য তুলে দাও। কেন না তুমি আমার জন্য তোমার সম্পদ ও তোমার পিতা-মাতার সম্পদ তুলে দেবে না।’

রাসূলুল্লাহ (সা.) আচরণে সহনশীলতার পরিচয় দিয়েছেন। তিনি শুধু বললেন, ‘মাল হচ্ছে আল্লাহর, আমি তাঁর বান্দা। হে বেদুইন! তোমার কাছ থেকে আমার সঙ্গে কৃত অনাচারের কেসাস নেয়া হবে।’ বেদুইন বললেন, না। নবীজি (সা.) বললেন, কেন? তিনি বললেন, ‘কেন না, তুমি তো খারাপের প্রতিশোধ খারাপ দিয়ে নাও না।’

একথা শুনে রাসূলুল্লাহ (সা.) হাসলেন এবং এক উটের উপর গম অন্য উটের উপর খেজুর বহন করে দেয়ার আদেশ প্রদান করলেন। (আবু দাউদ, হা: ৪১৪৫)

নবী জীবনের সবকিছুই তো উম্মতের জন্য শিক্ষা। এখান থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে আমরাও যেন নিজেদের সহনশীলতার মহোত্তম গুণে গুনান্বিত করি। রাব্বে কারিম কবুল করুন। আমিন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ