প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ইসলাম প্রচারে তথ্যপ্রযুক্তি ও মিডিয়ার গুরুত্ব অপরিসীম

গাজী সানাউল্লাহ রাহমানী : বর্তমান সময় বিজ্ঞানের সময়। তথ্যপ্রযুক্তির সময়। মিডিয়ার আলো ঝলমলে সময়। বিজ্ঞানের উন্নতির এই যুগে ইসলামের অমিয় বাণী প্রচারের অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে প্রযুক্তি ও মিডিয়া। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে মিডিয়ার মাধ্যমে অতি অল্প সময়ে অসংখ্য মানুষের কাছে দ্বীনের সঠিক দাওয়াত পৌঁছানো সম্ভব। আর তাই ইসলামের সুমহান আদর্শকে তামাম পৃথিবীর মানুষের সামনে তুলে ধরতে প্রযুক্তি ও মিডিয়া ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই। এ কারণেই অভিজ্ঞ মহল মনে করছেন, মিডিয়ার মাধ্যমে ইসলাম প্রচারের ক্ষেত্রে আলেম সমাজকে আরো এগিয়ে আসতে হবে, যুগোপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

সম্প্রতি ভারতের রাজস্থানে আন্তর্জাতিক শরিয়াহ গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইসলামী ফেকাহ একাডেমি ইন্ডিয়ার উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী একটি আন্তর্জাতিক ফেকাহ সেমিনার অনুষ্ঠিত হলো। সেমিনারটির মূল আয়োজক ছিলেন পৃথিবী বিখ্যাত ইসলামিক স্কলার ও শরিয়াহ বিশেষজ্ঞ ইন্ডিয়ান মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ডের জেনারেল সেক্রেটারি মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ রাহমানী। সেমিনারে বাংলাদেশ, নেপাল, কাতার, ইরান, আফগানিস্তান, মিসর, দক্ষিণ আফ্রিকাসহ বিশ্বের নানা দেশের প্রায় পাঁচ শতাধিক ইসলামী স্কলার অংশ নেন। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সেমিনারে আমাদের অংশগ্রহণের সুযোগ হয়। সেখানেও আলোচনার নানা পর্যায়ে ঘুরে-ফিরে ইসলাম প্রচারের মাধ্যম হিসেবে মিডিয়ার গুরুত্বের কথা উঠে আসে। সেমিনারে এবং সেমিনারের বাইরে দেশ-বিদেশ থেকে আগত বরেণ্য স্কলারদের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় মিডিয়ার গুরুত্বের বিষয়টি প্রকটভাবে আলোচনা হয়। বিশেষ করে সারা বিশ্বে ইসলামকে বিষয় হিসেবে নিয়ে স্বতন্ত্র ধারার কোনো মিডিয়া না থাকায় সবার আক্ষেপ অন্য অনেকের মতো আমাকেও ভাবিয়ে তুলেছে।

সমকালীন ইসলামী স্কলাররা এ বিষয়ে একমত যে, বর্তমানে ইনফরমেশন টেকনোলজি ব্যবহার করে ইসলামের বিরুদ্ধে যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, তার জবাব আলেমদের পক্ষ থেকেই আসা উচিত। ইসলামের নামে অসংখ্য নতুন নতুন ফিৎনা, বিভ্রান্ত মতবাদের আবির্ভাব ঘটছে। ওলামায়ে কেরামের এসবের প্রতিবাদ মিডিয়ার মাধ্যমে না করলে এর সুরাহা হওয়াটা সময়সাপেক্ষ। আজ অত্যন্ত উদ্বিগ্ন সঙ্গে পরিলক্ষিত হচ্ছে যে, প্রযুক্তির সহজ ব্যবহারের সুযোগ নিয়ে ইসলামবিরোধীরা অনলাইনে ইসলামের নামে নানা অপবাদ ও মিথ্যা বিষয় ছড়িয়ে দিচ্ছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে এবং ইসলামের প্রকৃত বার্তা মানুষের কাছে তুলে ধরার দায়িত্ব নিয়ে আলেম সমাজের আরো ব্যাপক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি মানবজীবনের জন্য অতীব প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো দালিলিকভাবে মিডিয়ায় তুলে ধরা আজ সময়ের দাবি। হতাশার মাঝেও আশার কথা হলো, আলেমরা আজ জাগছেন। মিডিয়া নিয়ে ভাবছেন। ইসলাম প্রচারে তথ্যপ্রযুক্তি ও মিডিয়া নিয়ে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছেন। সম্প্রতি দেখা গেছে, উন্নত নানা দেশের আলেমরা ইনফরমেশন টেকনোলজি সঠিক ব্যবহার করে ইসলামের দাওয়াতের ক্ষেত্রে অনেক দূর এগিয়ে গেছেন। বিশেষ করে আরবের আলেমরা ইউটিউব, ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, মেইল ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে লাখ লাখ মানুষের কাছে ইসলামের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরছেন। এক্ষেত্রে আলেমরা টেকনোলজির এসব ক্ষেত্রকে দাওয়াতের মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করে ইসলামের প্রচার-প্রসারে কী করে আরো বেশি ভূমিকা পালন করতে পারেন, সে বিষয়ে ভাবতে হবে। ইসলামের খেদমতে প্রযুক্তিকে কীভাবে আরো শক্তিশালী করা যায় তা নিয়ে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করা আজ অতীব জরুরি। আল্লাহপাক আমাদের সব চিন্তা, সব উদ্যোগ ইসলামের কল্যাণে, মানবতার কল্যাণে, দেশ জাতি ও উম্মাহর কল্যাণে কবুল করুন। আমিন।

লেখক : নির্বাহী পরিচালক, শরিয়াহ রিসার্চ ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ ও পরিচালক, মাদরাসাতুল কোরআন ঢাকা

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত