প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শরিয়াহ কি নির্বাচনের ওপর প্রভাব বিস্তার করে? (শেষ পর্ব)

রাশিদ রিয়াজ : ভোট শুধুমাত্র কোনো ব্যক্তির একটি দায়িত্ব ও অধিকার নয়। সুরা বাকারায় (আয়াত ২৮৩) আল্লাহ বলেছেন, তোমরা একে অপরকে বিশ্বাস করলে যাকে বিশ্বাস করা হয় সে যেন আমানত ফেরত দেয় এবং তার প্রতিপালক আল্লাহকে যেন ভয় করে। আর তোমরা সাক্ষ্য গোপন কোরো না। প্রকৃতপক্ষে যে তা গোপন করে তার অন্তর পাপপূর্ণ হবে। তোমরা যা কর আল্লাহ তা ভালো করেই জানেন।

আল্লাহর কাছে আমরা সাহায্য চাই। এ সাহায্য মানবিক গুণাবলীকে প্রতিষ্ঠা করেই সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে সজাগ ও সচেতন হয়ে এমনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করি যাতে নির্বাচিত প্রতিনিধি আমাদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে পারে। এবং তা করার জন্যে নির্বাচনী প্রার্থীর সেই গুণাবলী ও যোগ্যতা রয়েছে কি না তা যাচাই করা মুসলমানদের অবশ্য দায়িত্ব ও কর্তব্য।

প্রতিটি মুসলিমের এ ধরনের সচেতনতায় পরিপূর্ণ আমল ভোটাধিকারের মাধ্যমে প্রয়োগ হয়ে থাকে। বরং ভোটাধিকার প্রয়োগের মধ্যে দিয়ে মুসলিমরা তাদের সমাজকে কাঙ্খিত সমাজে প্রতিষ্ঠার এক বড় সুযোগ পায় যা হাতছাড়া করা কখনোই উচিত হবে না। এক্ষেত্রে নির্বাচনে প্রার্থীর সামাজিক প্রতিপত্তি ও রাজনৈতিক অবস্থানের চেয়ে তার সততা, তার যোগ্যতা ও বিচক্ষণতা যাচাই জরুরি এবং পূর্বে সে কি ধরনের উদাহরণ সমাজে ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সৃষ্টি করেছে তাও বিবেচনা করা প্রয়োজন। মার্কা, দল যেমন নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ এবং তা শুধু নির্বাচনী প্রার্থী তার নিজের ও দলীয় স্বার্থেই কেবল ব্যবহার করছে কি না নাকি আদতে তার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য জনকল্যাণমূলক তাও ভেবে দেখা জরুরি।

নির্বাচিত হলে তিনিই বসবেন সিদ্ধান্ত নেয়ার ও আইন রচনার জন্যে জাতীয় সংসদে। তার ভূমিকা হবে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে দেশ ও দশের স্বার্থ রক্ষা, প্রতিবেশি দেশগুলোর সঙ্গে সদ্ভাব বজায় রেখে আঞ্চলিক উন্নয়নের মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য উদ্দেশ্য পূরণে প্রার্থী কতখানি ওয়াকিবহাল তা জানতে তার সঙ্গে সম্যক আলোচনার সুযোগ গ্রহণ করা উচিত। তা মহল্লায় বা কোনো ফোরামে হোক একে অংশগ্রহণ জরুরি। তারা মুসলমানদের কল্যাণের বিরুদ্ধে কোনো আচরণ করে থাকলে কিংবা তা করার কোনো পূর্ব ঘোষণা দিয়ে থাকলে বিষয়টি এড়িয়ে দলীয় অবস্থান বা পছন্দের মার্কার ওপর নির্ভর করাও অপরাধ কী না ভেবে দেখার বিষয়। ভোটার হিসেবে একজন মুসলিমকে মনে রাখতে হবে কোরআনের সেই আহবান, ‘সৎকাজে একে অপরকে সাহায্য কর, কিন্তু পাপ ও অপরাধে একে অপরের সাহায্য করো না’ (আল-কোরআন)

হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাক্ষী হওয়ার সময় নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থাকতে নিষেধ করেছেন। দুঃশাসন পরিবর্তনে দুর্বল হলে অন্তত পরিবর্তনে ন্যূনতম ভূমিকা রাখতে পারা উচিত। নির্বাচন সেদিক থেকে একজন ভোটারকে বড় সুযোগ এনে দেয়। কিন্তু অনেকের নির্বাচন নিয়ে ভ্রান্ত ধারণার কারণে গণতান্ত্রিক এ প্রক্রিয়া থেকে দূরে থাকতে পছন্দ করেন। যার ফলে রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের বড় এক সুযোগ তিনি হারান। ফলে মুসলিম হিসেবে রাজনৈতিক জগত সম্পর্কে গভীর সতর্কতা বিবেচনা করা প্রয়োজন। সর্বোপরি জাতীয় স্বার্থকে সমুন্নত রাখবেন এমন প্রার্থীকেই ভোট দেয়ার ব্যাপারটি ভেবে দেখতে হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ