প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কৃষিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন
কুমিল্লায় উৎপাদিত কালো জাতের ধান

মাহফুজ নান্টু, কুমিল্লা : কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার মনাগ্রামে কৃষক মঞ্জুর মিয়া কর্তৃক পরীক্ষামূলকভাবে উৎপাদিত কালো জাতের ধান সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যর জন্য অনেক উপকারী হবে। শনিবার সকালে কৃষি মন্ত্রনালয়ের যুগ্মসচিব বলাই কৃষ্ণ হাজরা কুমিল্লায় পরীক্ষামূলকভাবে উৎপাদিত কালো জাতের ধান পরিদর্শনে এসে এ কথা বলেন।

সকালে মন্ত্রনালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আদর্শ সদর উপজেলার মনাগ্রামে কৃষক মঞ্জুর মিয়া ফসলী জমিতে যান। জমিতে চারটি কালো জাতের মধ্যে ব্ল্যাক রাইস ফিলিপাইন, ব্ল্যাক রাইস আসাম, ব্ল্যাক রাইস জাপান, ব্ল্যাক রাইস ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ড জাতের ধান,ধান গাছের উচ্চতা, প্রতিটি ছড়ায় ধান ও চিটার পরিমান ,প্রতি শতাংশ উৎপাদনে খরচ কত হয় এসব বিস্তারিত তথ্য নিয়ে যান।

এ সময় তিনি সংবাদকর্মীদের জানান, আমি অবশ্যই বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবো। কারন এ জাতের ধান স্বাস্থ্যর জন্য অনেক উপকারী। এ জাতের ধান যদি সারা দেশে চাষ করা যায়,তাহলে দেশের মানুষ অনেক বেশী স্বাস্থ্যগুনে উপকৃত হবে পাশাপাশি কৃষি ক্ষেত্রে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।

মন্ত্রনালয় থেকে আগত পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক ড.মেহেদী মাসুদ জানান, কুমিল্লায় পরীক্ষামূলক ভাবে চাষকৃত কালো জাতের ধানে আমাদের দেশে উৎপাদিত ধানের চেয়ে সুগারের পরিমান অর্ধেকের চেয়ে কম। যার কারনে এসব জাতের ধানের চাল ডায়াবেটিক রোগীসহ যারা বৃদ্ধ মানুষ রয়েছেন তাদের বেশ উপকারী।

তিনি আরো জানান, চীনে এক সময় কালো জাতের ধানের চাল সর্বসাধরনের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছিলো। কারণ অত্যাধিক পুষ্টি সমৃদ্ধ কালো ধানের চাল শুধুমাত্র রাজা বাদশাদের খাওয়ার জন্য রাখা হতো। বাংলাদেশের আবহাওয়া উপযোগী কালো জাতের ধান যদি কৃষকরা সঠিক পদ্ধতিতে উৎপাদন করতে পারে তাহলে দেশের মানুষের জন্য উপকারী হবে। যদিও বর্তমানে ধানমন্ডির একটি দোকানে কালো জাতের ধান পাওয়া যায় তবে তা সর্ব সাধারণের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে।কারন কেজী প্রতি ওইসব চাল এক হাজার টাকা করে বিক্রি হয়। তবে আবহাওয়া উপযোগী হলেও এখন দেখার বিষয় হলো এসব জাতের ধান উৎপাদন আমাদের দেশের উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান উৎপাদনের খরচের পার্থক্য কেমন তাই এখন দেখার বিষয়। যদি আমাদের দেশের উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান উৎপাদন খরচ এবং কালো জাতের এই ধান উৎপাদন খরচ কাছাকাছি হয় তাহলে সব মৌসুমে তা দেশব্যাপী উৎপাদন করা যাবে এবং তা সর্ব সাধারণের ক্রয় ক্ষমতার আওতায় আসবে।

কৃষক মঞ্জুর মিয়া জানান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগীতায় চারটি ভিন্ন কালো জাতের ধান উৎপাদনে তিনি সফল হয়েছেন।এখানে চারটি ধানের মধ্যে বেগুনী পাতার কালো ধান,সবুজ পাতার কালো ধান আবার সবুজ খোসার কালো ধান রয়েছে। দেখতে ব্যতিক্রম হলেও পুষ্টিগুনে অন্যান্য কালো জাতের ধান উৎপাদন এদেশে সম্ভব। তিনি মনে করেন যদি সরকার কৃষকদেরকে সার্বিক সহযোগিতা করে তাহলে সঠিক তথ্য-তত্ত্ব প্রচার প্রসারে কৃষকরা যদি অধিক পুষ্টিগুন সমৃদ্ধ কালো জাতের ধান চাষ করতে পারে তাহলে অবশ্যই কৃষকরা আশানুরুপ ফলন উৎপাদন করতে সক্ষম হবে।

কালো জাতের ধান পরিদর্শনে এেেস কৃষকদের সাথে এ জাতের ধান চাষ নিয়ে কথা বলেন কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক দিলিপ কুমার অধিকারী,বাংলাদেশ কৃষি গবেষনা ইন্সটিটিউটের গবেষণা বৈজ্ঞানিক ড.মোতালেব হোসেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালকতারিক মাহমুদ,উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহনাজ রহমানসহ অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ