Skip to main content

বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার অস্ট্রেলিয়ান ডাকটিকেট প্রকাশের নেপথ্য

মোহাম্মদ আলী বোখারী, টরন্টো থেকে : গতকাল দৈনিক আমাদের নতুন সময়ের প্রথম পাতায় মুদ্রিত ‘বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনাকে নিয়ে ডাক টিকেট প্রকাশ করলো অস্ট্রেলিয়া’ শিরোনামের সংবাদটি নিঃসন্দেহে ইন্টারেস্টিং হলেও বাস্তবে তাতে কিছু বিভ্রান্তি রয়েছে। যদিও সংবাদটিতে বলা হয়েছে যে, ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিচ্ছবি সম্বলিত পৃথক দু’টি ডাকটিকেট সরকারিভাবে প্রকাশ করেছে অস্ট্রেলিয়ান সরকার। ডাকটিকেটের মূল্য অস্ট্রেলিয়ান মুদ্রায় ১ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ান সরকারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা করেছে।’ বাস্তবে অস্ট্রেলিয়ান পোস্টাল কর্পোরেশন হচ্ছে সেদেশের সরকারি ডাকবিভাগ এবং তাদের অনলাইন ঠিকানাটি: https://auspost.com.au/ এটির হোমপেজের উপরিভাগে ম্যানুবারের ‘সোপ’ তালিকায় রয়েছে ‘প্যাক অ্যান্ড পোস্ট’ অপশন। সেটির উপর মাউস ধরলেই ড্রপ তালিকায় মিলবে ৩১টি আইটেমের ‘পার্সোনালাইজড্ স্ট্রাম্পস’। অর্থাৎ ৩১টি ব্যক্তিগত বা প্রতীকী ডাকটিকেট। তদুপরি সেখানে রয়েছে ক্রিসমাসের বা বড়দিনের ৪টি, ডোমেস্টিক বা অভ্যন্তরিণ ২৮টি ও ইন্টারন্যাশনাল বা আন্তর্জাতিক ৩টি ডাকটিকেট। আর ওই তালিকায় ১ ডলার মূল্যমাণের ‘ফ্লাওয়ারিং গাম’ ও ‘ম্যাপ অব অস্ট্রেলিয়া’ শিরোনামে যে দু’টি ডাকটিকট রয়েছে, সে দু’টিকেই বলা হচ্ছে- ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিচ্ছবি সম্বলিত পৃথক দু’টি ডাকটিকেট সরকারিভাবে প্রকাশ করেছে অস্ট্রেলিয়ান সরকার।’ এই দু’টি ডাকটিকেটের ক্রমিক নম্বর হচ্ছে যথাক্রেমে- এসকেইউ#পিস্ট্যাম্প ০৫৯৩০০৬ এবং এসকেইউ#পিস্ট্যাম্প ০৫৯৩০০৫, যার প্রতিটির ক্রয় মূল্যমাণ ৩৩ ডলার দিয়ে শুরু এবং যে কেউ নিজের সর্বোচ্চ ২ ম্যাগাবাইটের ছবি আপলোড করে ‘সিকিউরপে’ পন্থায় ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে মূল্য পরিশোধসহ অনলাইনে অর্ডার করতে পারেন। এতে একটি পাতায় সর্বোচ্চ কুড়িটি পর্যন্ত ডাকটিকেট থাকবে এবং অর্ডারের সংখ্যা যত বাড়বে, মূল্য ধীরে ধীরে কমবে। এক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ান পোস্টাল কর্পোরেশন বা ডাকবিভাগ ক্রেতাকে আন্তর্জাতিকভাবে অর্ডারকৃত ডাকটিকেট সরবরাহেও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, সে কথা স্পষ্টতই ওই দু’টি ডাকটিকেটের নিচে লেখা রয়েছে। অপরদিকে, ওই ‘পার্সোনালাইজড্ স্ট্যাম্পস’ বিষয়ে ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ‘সেলেব্রেট লাইফ’স স্পেশাল মোমেন্টস বাই ইউজিং ইউর ওউন ফটো টু ক্রিয়েট এ পার্সোনালাইজড্ স্ট্যাম্প। ক্রিয়েট সামথিং ইউনিক ফর ইউর নেক্সট স্পেশাল অকেশন উইথ এ পার্সোনালাইজড্ স্ট্যাম্প। চুজ ফ্রম এ রেঞ্জ অব স্ট্যাম্প ডিজাইনস অ্যান্ড স্টিক দেম অন ইউর ইনভাইটেশন্স। স্টার্ট পার্সোনালাইজিং ইউর স্ট্যাম্পস টুডে! অর্থাৎ জীবনের বিশেষ মুহুর্তটি নিজের ছবি দিয়ে তৈরি ব্যক্তিগত ডাকটিকেট ব্যবহারে উদ্যাপন করুন। আপনার পরবর্তী অনুষ্ঠানের জন্য ব্যক্তিগত ডাকটিকেটের মাধ্যমে অনন্যসাধারণ কিছু তৈরি করুণ। এক সারি ডাকটিকেটের আলেখ্য থেকে একটি বেছে নিন এবং তা আমন্ত্রণপত্রে সেঁটে দিন। আজ থেকেই তা ব্যক্তিগত করুন! মজার বিষয়টি হচ্ছে, অস্ট্রেলিয়ার ওই ডাকটিকেটে যে অংশে দেশের নাম ও মূল্যমাণ লেখা থাকে, সেটি প্রকৃতই ডাকটিকেট এবং সেখানে ব্যক্তিগত ছবি কোনোভাবেই মুদ্রিত হয় না, বরং ব্যক্তিগত ছবির অংশটি ‘পার্ফোরেটেড লাইন’ বা ডাকটিকেটের ছিদ্রযুক্ত পদ্ধতিতে পৃথকীকরণকৃত। সে ধরণের রীতি অস্ট্রেলিয়ার ক্ষেত্রে প্রচলিত থাকলেও কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের ডাক বিভাগ যথাক্রমে ‘কানাডা পোস্ট’ ও ‘ইউএসপিএস’ কর্তৃক আপনি যথার্থই নিজের ছবিযুক্ত আসল আলেখ্য সংবলিত ডাকটিকেট যথাযথ মূল্য পরিশোধে পেতে পারেন এবং তা সরাসরি ব্যবহারযোগ্যও বটে। তবে এ ধরণের ব্যক্তিগত ডাকটিকেট যুক্তরাজ্যের ডাক বিভাগ ‘রয়্যাল মেইল’ কর্তৃক প্রাপ্তির কোনো সুযোগ নেই। তাদের অধিকাংশ ডাকটিকেটই রানীর মস্তকসমৃদ্ধ। বাংলাদেশে যারা আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ‘ফিলাটেলিক’ অর্থাৎ ডাকটিকেট সংগ্রাহক, তারা এ বিষয়টি অবহিত। কেননা তাদের কাছে বিশ্বের কোথায়, কখন, কী ধরণের ডাকটিকেট প্রকাশ পেয়েছে, সেই তথ্য সমৃদ্ধ মাসিক বা বার্ষিক ক্যাটালগ বা পুস্তিকা থাকে, যা বিভিন্ন দেশের ডাকবিভাগ ও ফিলাটেলিক অ্যাসোসিয়েশন প্রকাশ করে।

অন্যান্য সংবাদ