শিরোনাম
◈ জামায়াত নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী জোট নিয়ে ১০১ আলেমের তিন আপত্তি ◈ বিটিআরসি কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় আটক ২৮ ◈ মানবাধিকার সংগঠনের চোখে বাংলাদেশে 'মব সন্ত্রাস' উদ্বেগজনক, থামছে না কেন ◈ দেশের স্বার্থে বিএনপি-জামায়াত একসাথে কাজ করবে: জামায়াত আমির  (ভিডিও) ◈ প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বাংলা‌দে‌শে আসা ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাক্ষাৎ হলো না কেন? ◈ নেতৃত্ব বদলালেও সার্কের স্বপ্ন শেষ হয়নি: প্রধান উপদেষ্টা ◈ তারেক রহমানের সঙ্গে জামায়াত আমিরের সাক্ষাৎ ◈ তারেক রহমানের সাথে ডাকসু ভিপির সাক্ষাৎ, রাজনীতিতে নিজেদের মধ্যে ভিন্নতা বা বিভাজন থাকাটা গণতান্ত্রিক সৌন্দর্য ◈ বিমানের রেকর্ড মুনাফা: আয় ১১ হাজার কোটি ছাড়াল, লাভ বেড়েছে ১৭৮ শতাংশ ◈ বিটিআরসি ভবনে হামলা, আটক ৩০

প্রকাশিত : ০২ নভেম্বর, ২০১৮, ০৯:২৬ সকাল
আপডেট : ০২ নভেম্বর, ২০১৮, ০৯:২৬ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

শিশুর নামকরণ

ওয়ালি উল্লাহ সিরাজ : নবজাতক শিশুর জন্য বাবা-মায়ের একটি বিশেষ কর্তব্য হলো জন্মের সাতদিনের মধ্যে একটি শ্রুতিমধুর ও অর্থবোধক নাম রাখা। আল্লাহপাক হজরত আদম (আ.)-কে সব জিনিসের নাম শিখিয়ে দিয়েছিলেন। ফলে হজরত আদম (আ.) আল্লাহর শেখানো জ্ঞানে সবকিছুর নাম বলে দিয়ে নিজের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিলেন। পবিত্র কোরআনে বর্ণিত এ ঘটনা থেকে এটুকু বোঝা যায়, নাম জানা বা নাম রাখার বিষয়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

মানুষের জীবনে নামের বিরাট প্রভাব পড়ে। সন্তানের জন্য একটি সুন্দর অর্থবোধক নাম রাখা প্রত্যেক বাবা-মায়ের গুরুদায়িত্ব, যাতে এ নামের প্রভাবে পরবর্তী জীবনে সন্তানের স্বভাব-চরিত্রে সৌন্দর্য ও শুভ্রতা ফুটে ওঠে। একটি হাদিসে এসেছে, হজরত সাঈদ ইব্ন মুসাইয়্যাব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বর্ণনা করেন, তাঁর দাদা হায্ন রসুলুল্লাহ্ (সা.)-এর খিদমতে গেলে তিনি জিজ্ঞেস করেন তোমার নাম কী? তিনি বললেন, আমার নাম হায্ন (শক্ত)। রসুলুল্লাহ্ (সা.) বললেন, না, বরং তোমার নাম হওয়া উচিত ‘সাহ্ল’ (সহজ সরল)। তিনি উত্তরে বললেন, আমার বাবা আমার যে নাম রেখেছেন তা আমি পরিবর্তন করব না। সাঈদ ইব্ন মুসাইয়্যাব (রা.) বলেন, পরবর্তীকালে আমাদের পরিবারে কঠিন অবস্থা ও পেরেশানি লেগে থাকত।

তাই অর্থ না জেনে নাম রাখা ঠিক নয়। এতে অর্থ বিকৃতি ও হাস্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অধিকন্তু নাম রাখার ক্ষেত্রেও অর্থ, প্রয়োগবিধি ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ রাখা একান্ত প্রয়োজন। বিদেশি ভাষার অর্থ জানা, সচেতন শিক্ষিত ব্যক্তির সহায়তা নিয়ে নাম রাখা বাঞ্ছনীয়। বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নামে নাম রাখাও একটি নিরাপদ পন্থা।

সাত দিনের মধ্যে নামকরণ করা উত্তম। একটি হাদিসে এসেছে, হজরত সামুরা ইব্ন জুন্দুব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, প্রত্যেক নবজাতক আকিকার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকে, জন্মের সপ্তম দিন তার পক্ষ থেকে প্রাণী জবেহ করবে, তার নাম রাখবে আর মাথা মুণ্ডন করবে। নবজাতকের নাম রাখার সময় একটি সুন্দর অর্থবোধক নাম রাখা প্রত্যেক বাবা-মায়ের অবশ্যকর্তব্য। এক্ষেত্রে হাদিসে এসেছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, বাবার ওপর নবজাতকের হক হলো তার জন্য সুন্দর নাম রাখা। এ প্রসঙ্গে রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় নাম হলো আবদুল্লাহ ও আবদুর রহমান।

আল্লাহপাকের অনেক গুণবাচক নাম আছে। ওইসব নামের সঙ্গে ‘আবদ’ শব্দ যোগ করে নাম রাখা উত্তম। অনুরূপভাবে নবী-রসুল এবং ওলি-বুজুর্গদের নামের সঙ্গে মিলিয়ে নাম রাখাও উত্তম। অজ্ঞাতসারে বা অবহেলাবশত কোনো অর্থহীন বা বিদঘুটে কোনো নাম রেখে ফেললে তা পরিবর্তন করে একটি সুন্দর অর্থবোধক নাম রাখা অবশ্য কর্তব্য। রসুলুল্লাহ (সা.) কোনো সাহাবির ইসলাম-পূর্ববর্তী যুগে রাখা এ ধরনের কোনো নাম শুনলে সঙ্গে সঙ্গে তা পরিবর্তন করে একটি সুন্দর অর্থবোধক ও শ্রুতিমধুর নাম রেখে দিতেন।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়