শিরোনাম
◈ করদাতাদের স্বস্তি দিতে অর্থমন্ত্রীর কাছে যেসব পরিবর্তনের প্রস্তাব দিলেন প্রধানমন্ত্রী ◈ হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৭১৬ ◈ এনবিআরের নতুন চেয়ারম্যান আহসান হাবিব ◈ আমাদের লক্ষ্য মুষ্টিমেয় সুবিধাভোগীদের কবল থেকে অর্থনীতিকে মুক্ত করা: সংসদে প্রধানমন্ত্রী ◈ বাংলাদেশিদের জন্য মার্কিন ভিসা প্রক্রিয়ায় নতুন শর্ত ও কঠোরতা ◈ দেশের বাজারে কমলো স্বর্ণের দাম, ভরিতে কত? ◈ সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি অসুস্থ, কারাগার থেকে আনা হলো ঢামেকে ◈ তিস্তা ব্যারেজ, কৃষি থেকে ক্রিয়েটিভ ইকোনমি, কৃষক ও প্রবাসীদের জন্য নতুন সুবিধা: বাজেট আলোচনায় প্রধানমন্ত্রীর একগুচ্ছ মেগা পরিকল্পনা ◈ আদ-দ্বীন হাসপাতাল বন্ধে শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার অন্ধকারের মুখে, দ্রুত চালুর দাবি জামায়াতের ◈ ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি রোগী মেঝেতে শুয়ে থাকার দৃশ্যকে অত্যন্ত লজ্জাজনক: বিরোধীদলীয় নেতা

প্রকাশিত : ০২ নভেম্বর, ২০১৮, ০৯:২৬ সকাল
আপডেট : ০২ নভেম্বর, ২০১৮, ০৯:২৬ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

শিশুর নামকরণ

ওয়ালি উল্লাহ সিরাজ : নবজাতক শিশুর জন্য বাবা-মায়ের একটি বিশেষ কর্তব্য হলো জন্মের সাতদিনের মধ্যে একটি শ্রুতিমধুর ও অর্থবোধক নাম রাখা। আল্লাহপাক হজরত আদম (আ.)-কে সব জিনিসের নাম শিখিয়ে দিয়েছিলেন। ফলে হজরত আদম (আ.) আল্লাহর শেখানো জ্ঞানে সবকিছুর নাম বলে দিয়ে নিজের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিলেন। পবিত্র কোরআনে বর্ণিত এ ঘটনা থেকে এটুকু বোঝা যায়, নাম জানা বা নাম রাখার বিষয়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

মানুষের জীবনে নামের বিরাট প্রভাব পড়ে। সন্তানের জন্য একটি সুন্দর অর্থবোধক নাম রাখা প্রত্যেক বাবা-মায়ের গুরুদায়িত্ব, যাতে এ নামের প্রভাবে পরবর্তী জীবনে সন্তানের স্বভাব-চরিত্রে সৌন্দর্য ও শুভ্রতা ফুটে ওঠে। একটি হাদিসে এসেছে, হজরত সাঈদ ইব্ন মুসাইয়্যাব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বর্ণনা করেন, তাঁর দাদা হায্ন রসুলুল্লাহ্ (সা.)-এর খিদমতে গেলে তিনি জিজ্ঞেস করেন তোমার নাম কী? তিনি বললেন, আমার নাম হায্ন (শক্ত)। রসুলুল্লাহ্ (সা.) বললেন, না, বরং তোমার নাম হওয়া উচিত ‘সাহ্ল’ (সহজ সরল)। তিনি উত্তরে বললেন, আমার বাবা আমার যে নাম রেখেছেন তা আমি পরিবর্তন করব না। সাঈদ ইব্ন মুসাইয়্যাব (রা.) বলেন, পরবর্তীকালে আমাদের পরিবারে কঠিন অবস্থা ও পেরেশানি লেগে থাকত।

তাই অর্থ না জেনে নাম রাখা ঠিক নয়। এতে অর্থ বিকৃতি ও হাস্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অধিকন্তু নাম রাখার ক্ষেত্রেও অর্থ, প্রয়োগবিধি ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ রাখা একান্ত প্রয়োজন। বিদেশি ভাষার অর্থ জানা, সচেতন শিক্ষিত ব্যক্তির সহায়তা নিয়ে নাম রাখা বাঞ্ছনীয়। বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নামে নাম রাখাও একটি নিরাপদ পন্থা।

সাত দিনের মধ্যে নামকরণ করা উত্তম। একটি হাদিসে এসেছে, হজরত সামুরা ইব্ন জুন্দুব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, প্রত্যেক নবজাতক আকিকার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকে, জন্মের সপ্তম দিন তার পক্ষ থেকে প্রাণী জবেহ করবে, তার নাম রাখবে আর মাথা মুণ্ডন করবে। নবজাতকের নাম রাখার সময় একটি সুন্দর অর্থবোধক নাম রাখা প্রত্যেক বাবা-মায়ের অবশ্যকর্তব্য। এক্ষেত্রে হাদিসে এসেছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, বাবার ওপর নবজাতকের হক হলো তার জন্য সুন্দর নাম রাখা। এ প্রসঙ্গে রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় নাম হলো আবদুল্লাহ ও আবদুর রহমান।

আল্লাহপাকের অনেক গুণবাচক নাম আছে। ওইসব নামের সঙ্গে ‘আবদ’ শব্দ যোগ করে নাম রাখা উত্তম। অনুরূপভাবে নবী-রসুল এবং ওলি-বুজুর্গদের নামের সঙ্গে মিলিয়ে নাম রাখাও উত্তম। অজ্ঞাতসারে বা অবহেলাবশত কোনো অর্থহীন বা বিদঘুটে কোনো নাম রেখে ফেললে তা পরিবর্তন করে একটি সুন্দর অর্থবোধক নাম রাখা অবশ্য কর্তব্য। রসুলুল্লাহ (সা.) কোনো সাহাবির ইসলাম-পূর্ববর্তী যুগে রাখা এ ধরনের কোনো নাম শুনলে সঙ্গে সঙ্গে তা পরিবর্তন করে একটি সুন্দর অর্থবোধক ও শ্রুতিমধুর নাম রেখে দিতেন।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়