প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কৃষি ঋণে বেসরকারি ব্যাংকের অংশিদারি ২ শতাংশের নিচে

আরিফুর রহমান তুহিন : দেশের বেসরকারি ব্যাংকগুলো কৃষি ঋণ বিতরণে অনীহা দেখায়। তারা বার্ষিক মোট ঋণের ২ শতাংশেরও কম ঋণ বিতরণ করছে কৃষি খাতে। অথচ এই খাতে তুলনামূলক খেলাপি অনেক কম। এমন তথ্য উঠে এসেছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) এক গবেষণায়।

সোমবার প্রতিষ্ঠানটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘অ্যাড্রেসিং এগ্রিকালচার থ্রো ভ্যালু চেইন ফাইন্যান্সিং- হাউ টু অ্যাট্রাক্ট ব্যাংকস?’ শীর্ষক কর্মশালায় এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়। বিভিন্ন ধরণের ২৪ টি ব্যাংকের তথ্য সংগ্রহ করে এ প্রতিবেদন করেছে বিআইবিএম। কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিআইবিএমের অধ্যাপক এবং পরিচালক (ডিএসবিএম) মো. মহিউদ্দিন সিদ্দিকী।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস.এম.মনিরুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক কৃষি ঋণ বিতরণ সংক্রান্ত একটি আলাদা গাইডলাইন তৈরি করে দিয়েছে। যাতে কৃষি খাতে সঠিকভাবে কৃষি ঋণ বিতরণ হয়। কৃষি ঋণে ভ্যালু চেইন ব্যবস্থা এখনও চালু হয়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখছে। যাতে দ্রæত এ ধরণের ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব হয়।

বিআইবিএমের চেয়ার প্রফেসর এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. বরকত-এ-খোদা বলেন, দেশের অন্যতম প্রধান চালিকা শক্তি কৃষি। এ চালিকা শক্তিকে সক্রিয় ও সচল রাখতে হলে ব্যাংকের অর্থায়ন জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ঋণ দিতে হবে।

পূবালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক অধ্যাপক হেলাল আহমদ চৌধুরী বলেন, উৎপাদন, আমদানি ও বাজারজাতকরণ ও রফতানিসহ যাবতীয় বিষয় এখন কৃষি খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এসব দিক বিবেচনা করে ঋণ দিতে হবে। তিনি বলেন, বড় ঋণ গ্রাহকরা নিয়ে ফেরত দিতে চায় না। আর কৃষি ঋণ ফেরত দেয়। এজন্য খেলাপীর পরিমান তুলনামূলক কম।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ইয়াছিন আলি বলেন, বড় ঋণের ১০ শতাংশ খেলাপী হয়ে যায়, এটি নিয়ে ব্যাংকগুলোর ভাবনা কম। কিন্তু মোট ঋণের দুই শতাংশ কৃষি ঋণ নিয়ে ব্যাংকগুলোর বিভিন্ন ধরণের আপত্তি। যা থাকা উচিত নয়।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈচিত্র্য নেই কৃষি খাতের ব্যাংক ঋণ। ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত কৃষি ঋণ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, শষ্য উৎপাদনে মোট কৃষি ঋণের ৫৯ শতাংশ দেওয়া হচ্ছে। আর প্রাণি সম্পদ এবং পোল্ট্রী ১০ শতাংশ, মৎস্যে ৯ শতাংশ, দারিদ্র্য বিমোচনে মাত্র ৬ শতাংশ ঋণ দেওয়া হয়েছে। যন্ত্রপাতি ক্রয়ে দেওয়া হয়েছে ১ শতাংশ ঋণ। আর শষ্য গুদামজাতকরণে এ হার শূন্যের কোঠায়। কৃষি খাতের এ বৈচিত্র্যহীন ঋণ বিতরণের কারণে কাঙ্খিত প্রবৃদ্ধি অর্জিত হচ্ছে না। উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনে কৃষিতে ভ্যালু চেইন ফ্যাইন্যান্সের ওপর জোরারোপ করতে বলা হয়েছে বিআইবিএমের প্রতিবেদনে। এছাড়া কৃষিতে তুলনামূলক খেলাপী ঋণ কম বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। সম্পাদনা: শাহীন চৌধুরী

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ