প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কিছু ভুল ধারণা… এবং প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন : উচ্চরক্তচাপ ও ডায়াবেটিস রোগীরা কি ওরস্যালাইন খেতে পারবেন না?

উত্তর : উচ্চরক্তচাপ বা ডায়াবেটিস রোগীরা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হলে অনেক সময় ওরস্যালাইন খেতে চান না বা দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগেন। মনে করেন ওরস্যালাইনে লবণ ও গ্লুকোজ আছে, উচ্চরক্তচাপে আক্রান্ত রোগীদের আশঙ্কা এটি খেলে রক্তচাপ বাড়ে। ডায়াবেটিস রোগীরাও মনে করেন, যেহেতু ওরস্যালাইনে কিছু গ্লুকোজ থাকে, তাই এটি খেলে সুগার বাড়বে। দুটি ধারণাই গুরুতর ভুল। প্রতিবার পাতলা পায়খানার সঙ্গে শরীরে প্রচুর পরিমাণে পানি ও লবণ হারায় এবং তা যথাযথভাবে পূরণ করা না হলে রোগীর পানিশূন্যতা, লবণশূন্যতা মারাত্মক আকার ধারণ করে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। তাই রোগী যেই হোক, ওরস্যালাইন খেয়ে এই পানি ও লবণ পূরণ করতে হবে। আর এতে যে সামান্য গ্লুুকোজ আছে, তা অন্ত্রে লবণ শোষণের কাজে ব্যয়িত হয়।

তাই উচ্চরক্তচাপ বা ডায়াবেটিস রোগীরা ওরস্যালাইন খেতে পারবেন।

প্রশ্ন : ডায়রিয়ার রোগী কি স্বাভাবিক খাবার খাবেন?

উত্তর : ডায়রিয়া হলে বাড়িতে তৈরি পরিচ্ছন্ন ও জীবাণুমুক্ত সব ধরনের স্বাভাবিক খাবারই খেতে পারবেন। কেননা শরীরে শক্তি সরবরাহের জন্য ক্যালরি তো লাগবেই। ভাত, মাছ, সবজি স্বাভাবিক ও সহজপাচ্য খাবার খেতে কোনো বাধা নেই। বিশেষ করে স্তন্যপানরত শিশুরা কোনো অবস্থাতেই বুকের দুধ খাওয়া বন্ধ করবে না।

প্রশ্ন : তেঁতুলের পানি বা লেবুর রস কি আমাদের শরীরের উচ্চরক্তচাপ ও রক্তের চর্বি কমায়?

উত্তর : অনেকেই উচ্চরক্তচাপ হলে তেঁতুলের পানি বা লেবুর রস খান। এটি একটি প্রমাণহীন ধারণামাত্র। তেঁতুলের পানি বা লেবুর রস পান করলে উচ্চরক্তচাপ কমে আসে বা নিয়ন্ত্রণে আসে তা ভিত্তিহীন ধারণা। আবার লেবুর রস খেলে রক্তের চর্বি কেটে যায়, এটাও বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত নয়। বরং তেঁতুলের পানি বা লেবুর রস একটু বেশি পান করলেই গলাজ্বলা, বুকজ্বলা ও টক ঢেঁকুর ওঠে। তখন রোগী আরও ঘাবড়ে গিয়ে ধারণা করতে পারেন যে এটা হার্টের ব্যথা কি না? তাই যাদের উচ্চরক্তচাপ আছে তাদের এসবে কান না দিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা উচিত।

প্রশ্ন : জন্ডিসের রোগী কি হলুদ ছাড়া তরকারি খাবেন?

উত্তর : অনেক রোগী মনে করেন, জন্ডিসে আক্রান্ত হলে হলুদ ছাড়া তরকারি খেতে হবে। এ ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। জন্ডিসের হলুদের সঙ্গে তরকারির হলুদের কোনো সম্পর্ক নেই। জন্ডিসের হলুদ রঙ আসে রক্তের বিলিরুবিন বেড়ে যাওয়ার কারণে। আর তরকারিতে দেওয়া হলুদের রং আসে কুরকুমিন নামক উপাদানের কারণে।

প্রশ্ন : ভিটামিন ট্যাবলেট খেলেই কি শরীরে শক্তি জোগায় বা ওজন বাড়ে?

উত্তর : অনেকেই মনে করেন, শরীর দুর্বল হলে ভিটামিন খেলেই শক্তি আসবে। এমনকি অনেকেই চিকিৎসককে অনুরোধ করেন ভিটামিন দেওয়ার জন্য বা নিজের ইচ্ছামাফিক ফার্মেসি থেকে ভিটামিন কিনে খান। মনে রাখতে হবে, ভিটামিন শরীরে শক্তি জোগায় না, স্বাস্থ্য ভালো করতে কোনো উপকারেও আসে না। তবে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন স্বল্পতা হলে শরীরে কিছু লক্ষণ দেখা দেয়, তখন ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ভিটামিন খাওয়া উচিত। মোটা হওয়ার জন্য ভিটামিনের কোনো কার্যকারিতা নেই বরং সুস্বাস্থ্যের জন্য সুষম

খাদ্য জরুরি।

প্রশ্ন : ডায়াবেটিস হলে কি মধু খেতে পারবেন?

উত্তর : অনেকেই মনে করেন, মধু সর্বরোগের মহৌষধ। তাই ডায়াবেটিস রোগীরা স্বাচ্ছন্দ্যে তাদের ইচ্ছামাফিক মধু খেতে পারবেন। এ ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল। কোনো ডায়াবেটিস রোগী যদি সত্যি সত্যিই তা করে থাকেন, তবে তিনি নিজের জন্য বড় ধরনের বিপদ ডেকে আনবেন। প্রশ্ন : দুর্বল লাগলে কি শিরায় স্যালাইন

দিলে উপকার হয়?

উত্তর : অনেকেরই ধারণা, দুর্বল বা অসুস্থ লাগলে শিরায় দু-এক ব্যাগ স্যালাইন দেওয়া হলেই সুস্থ ও সবল লাগবে। আসলে ধারণাটি ঠিক নয়। বিভিন্ন ধরনের স্যালাইনে বিভিন্ন অনুপাতে লবণ ও গ্লুকোজের মিশ্রণ রয়েছে এবং বিভিন্ন ধরনের স্যালাইন ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট কিছু কারণও আছে। বিনা কারণে স্যালাইন দেওয়া হলে বরং হিতেবিপরীত হতে পারে। যেমন : অকারণে রক্তে লবণ বেড়ে যেতে পারে, উচ্চরক্তচাপ ও ডায়াবেটিস রোগীর রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে, এমনকি না বুঝে কিডনি ও হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিকে বেশি স্যালাইন দেওয়া হলে জীবনসংকট দেখা দিতে পারে। তাই কারণ ব্যতীত ও চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া শিরায় স্যালাইন দেওয়া উচিত নয়। তাই এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে।

লেখক : ডিন, মেডিসিন অনুষদ, বঙ্গবন্ধু শেখ

মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

(বাংলাদেশ প্রতিদিন থেকে নেয়া)

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত