প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আইয়ুব বাচ্চু আর নেই

মহসীন কবির ও এস এম এ কালাম : কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী আইয়ুব বাচ্চু আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বৃহস্পতিবার  সকালে ৭টার দিকে তিনি মগবাজারের নিজ বাসায় হৃদরোগে আক্রান্ত হলে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তিনি সকাল ১০ টার দিকে মারা যান। ব্যান্ড দল এলআরবির লিড গিটারিস্ট ও ভোকাল আইয়ুব বাচ্চু ছিলেন একাধারে গায়ক, গীতিকার, সুরকার এবং প্লেব্যাক শিল্পী। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৬ বছর। আইয়ুব বাচ্চুর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সংস্কৃতিমন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ।

সকাল সাড়ে ১১টায় স্কয়ার হাসপাতালের ডিরেক্টর মেডিকেল সার্ভিসের ডা. মির্জা নাজিমউদ্দিন জানান, সকাল সাড়ে ৮টায় তার বাসায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়। সোয়া ৯টায় তাকে স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। আমরা তাকে মৃত অবস্থায় পাই। তারপরও আমাদের একটি স্পেশাল টিম রিভাইভ করার জন্য চেষ্টা করেন। কিন্তু রিভাইভ করা সম্ভব হয়নি। সকাল ৯টা ৫৫মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

তিনি আরো জানান, গত দুই সপ্তাহ আগেও তিনি চিকিৎসা নিয়েছিলেন। তিনি এখানে নিয়মিত চিকিৎসা নিতেন। তিনি অনেক দিন ধরে কার্ডিওমায়োপ্যাথি রোগে ভুগছিলেন। তার হার্টে কার্যক্ষমতা ছিলো ৩০ শতাংশ। সাধারণত যেখানে থাকতে হয় ৭০ শতাংশ।

আইয়ুব বাচ্চু এর আগেও একবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন বলে জানান তিনি।

আইয়ুব বাচ্চুর ড্রাইভার জানান, গাড়ি দিয়ে হাসপাতালে আনার সময় তার মুখ দিয়ে ফেনা বের হচ্ছিল।

আউল-বাউল-লালনের এই বাংলার তরুণদের রক গানের স্বাদ চিনিয়েছেন যাঁরা, তাঁদের মধ্যে অন্যতম আইয়ুব বাচ্চু। ব্যান্ড সংগীতের কিংবদন্তি এই শিল্পী দীর্ঘ চার দশক ধরে সুরের আলো ছড়িয়েছেন। এছাড়া গিটারের ছয় তারেও জয় করেছেন উপমহাদেশ।

১৯৬২ সালে চট্টগ্রাম শহরে জন্মগ্রহণ করেন আইয়ুব বাচ্চু। ছোটবেলা থেকেই গিটারের প্রেমে পড়েছিলেন তিনি। তবে ব্যান্ডের সঙ্গে তাঁর যাত্রা শুরু ১৯৭৮ সালে ‘ফিলিংস’ ব্যান্ডের মাধ্যমে। তাঁর কণ্ঠ দেওয়া প্রথম গান ‘হারানো বিকেলের গল্প।’ এটির কথা লিখেছিলেন শহীদ মাহমুদ জঙ্গী। ১৯৮০ থেকে ১৯৯০ সালে তিনি ‘সোলস’ ব্যান্ডের সাথে যুক্ত ছিলেন। আইয়ুব বাচ্চুর প্রথম অ্যালবাম ‘রক্তগোলাপ’ প্রকাশ হয়েছিল ১৯৮৬ সালে। এই অ্যালবামটি তেমন একটা সাফল্য পায়নি।

আইয়ুব বাচ্চুর সফলতার শুরু তাঁর দ্বিতীয় একক অ্যালবাম ‘ময়না’ (১৯৮৮) দিয়ে। এরপর ১৯৯১ সালে বাচ্চু ‘এলআরবি’ ব্যান্ড গঠন করেন। এই ব্যান্ডের সাথে তাঁর প্রথম ব্যান্ড অ্যালবাম ‘এলআরবি’ প্রকাশিত হয় ১৯৯২ সালে। এটি বাংলাদেশের প্রথম দ্বৈত অ্যালবাম। এই অ্যালবামের ‘শেষ চিঠি কেমন এমন চিঠি’, ‘ঘুম ভাঙ্গা শহরে’, ‘হকার’ গানগুলো জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল।

১৯৯৩ ও ১৯৯৪ সালে তাঁর দ্বিতীয় ও তৃতীয় ব্যান্ড অ্যালবাম ‘সুখ’ ও ‘তবুও’ বের হয়। ‘সুখ’ অ্যালবামের ‘সুখ’, ‘চলো বদলে যাই’, ‘রূপালি গিটার’, ‘গতকাল রাতে’ পুরো দেশে আলোড়ন তৈরি করে। এর মধ্যে ‘চলো বদলে যাই’ গানটি বাংলা সঙ্গীতের ইতিহাসে অন্যতম জনপ্রিয় গান। গানটির কথা লিখেছেন ও সুর করেছেন বাচ্চু নিজেই। ১৯৯৫ সালে তিনি বের করেন তৃতীয় একক অ্যালবাম ‘কষ্ট’। সর্বকালের সেরা একক অ্যালবামের একটি বলে অভিহিত করা হয় এটিকে। এই অ্যালবামের প্রায় সবগুলো গানই জনপ্রিয়তা পায়। বিশেষ করে ‘কষ্ট কাকে বলে’, ‘কষ্ট পেতে ভালোবাসি’, ‘অবাক হৃদয়’, ও ‘আমিও মানুষ’। একই বছর তাঁর চতুর্থ ব্যান্ড অ্যালবাম ‘ঘুমন্ত শহরে’ প্রকাশিত হয়। সেটিও সাফল্য পায়। আইয়ুব বাচ্চুর সর্বশেষ তথা ১০ম অ্যালবাম ‘জীবনের গল্প’ প্রকাশ হয় ২০১৫ সালে।

আইয়ুব বাচ্চুর গাওয়া কিছু গান এখনো সমানভাবে জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘আমি বারো মাস তোমায় ভালোবাসি’, ‘সেই তুমি কেন এতো অচেনা হলে’, ‘এখন অনেক রাত’, ‘এক আকাশের তারা তুই’, ‘উড়াল দেবো আকাশে’ উল্লেখযোগ্য। শুধু অডিও গানে নয়, প্লেব্যাকেও তিনি জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। তাঁর গাওয়া প্রথম প্লেব্যাক ‘অনন্ত প্রেম তুমি দাও আমাকে’ বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় গান। এছাড়া ‘আম্মাজান’ ছবির শিরোনাম গানটি তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছিল।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ