প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ফেসবুক থাকবে র‌্যাবের কঠোর নজরদারিতে

সমকাল: ফেসবুক, ইউটিউবসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ওপর নজরদারি আরও জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। এর জন্য একটি প্রকল্পের মাধ্যমে ১২১ কোটি টাকা চেয়েছে জননিরাপত্তা বিভাগ। মূলত সংসদ নির্বাচনের সময়ে নজরদারি বাড়ানো হবে। এ জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম পর্যবেক্ষণের জন্য ১২১ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির মেয়াদ ধরা হয়েছে মাত্র চার মাস। নভেম্বর থেকে শুরু হয়ে প্রকল্পটি চলবে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

রাষ্ট্রবিরোধী অপপ্রচার, গুজব, মিথ্যা তথ্য, উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে যারা জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করবে, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে বলে প্রস্তাবে বলা হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন মিডিয়া কনটেন্ট তৈরি করা হবে। এ ছাড়া বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রণয়ন এবং বিভিন্ন রকম যন্ত্রপাতি ক্রয় করা হবে। তবে প্রকল্পের কোনো ক্রয় কাজ দরপত্রের মাধ্যমে হবে না। প্রকল্প প্রস্তাবে ক্রয় কাজ সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির মাধ্যমে বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জানান পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা।

সূত্র জানায়, প্রকল্পটির মাধ্যমে বিভিন্ন রকম গুজব, বিদ্বেষ ও বিভ্রান্তিমূলক পোস্ট তদারকির দ্বারা তাৎক্ষণিক সত্য ঘটনাও জনগণের সামনে তুলে ধরে বিভ্রান্তি দূর করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুধু তাই নয়, যেসব ফেসবুক পেজ বা আইডি থেকে বিভ্রান্তিমূলক অপপ্রচার চালানো হবে, সে ব্যাপারে রিপোর্ট করা এবং সেগুলো বন্ধ করার ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।

অনুমোদনের জন্য ইতিমধ্যে প্রকল্প প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। সম্প্রতি ফেসবুককেন্দ্রিক কয়েকটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে বলে প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, আন্দোলনকে পুঁজি করে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল ফেসবুক এবং অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী বিভিন্ন ধরনের নেতিবাচক তথ্য প্রচার করে জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপপ্রয়াসে লিপ্ত হয়েছিল। একটি বিশেষ গোষ্ঠীর অনুগত থাকা স্বার্থান্বেষী মহল দেশ ও বিদেশ থেকে সমান তালে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা চালিয়েছিল। এ ছাড়া এই গোষ্ঠীর সদস্যরা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠন, সরকারি, বেসরকারি দপ্তরগুলোতে মিথ্যা তথ্য পরিবেশনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশকে হেয় করার চেষ্টাও চালিয়েছে। বিশ্বদরবারে বাংলাদেশকে হেয় প্রতিপন্নকারী ফেসবুক ও ইউটিউবসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো চিহ্নিত করা গেলেও তাদের ব্যক্তি পরিচয় অনেক সময়ে বের করা সম্ভব হয় না। এ অবস্থায় রাষ্ট্রবিরোধী অপশক্তিকে চিহ্নিত করার লক্ষ্যে প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা বলেন, গুজব ও মিথ্যা তথ্য প্রচারের মাধ্যমে দেশের জনগণকে বিভ্রান্ত করার পাশাপাশি বিদেশেও দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা হচ্ছে। যার ফলে উন্নয়ন সহযোগী রাষ্ট্র, বিদেশি প্রতিষ্ঠান এবং বিদেশি জনগণের মাঝে দেশ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা যাচ্ছে। এটি বন্ধ করতে প্রকল্পটি নিয়ে এসেছে র‌্যাব। প্রকল্পটির ওপর আজ মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হবে। পিইসি সভায় প্রাথমিক অনুমোদনের পর চলতি মাসের মধ্যে প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উত্থাপন করা হতে পারে বলে জানা গেছে।

প্রকল্প প্রস্তাবের ওপর তৈরি করা এক প্রতিবেদনে পরিকল্পনা কমিশন বলছে, প্রকল্পটির মেয়াদ মাত্র চার মাস। এ স্বল্প সময়ে প্রকল্পের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে কি-না তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করা হয়েছে। কর্মকর্তারা আরও জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নে চলতি অর্থবছরে ১২১ কোটি ৪০ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রয়োজন হবে। মধ্য মেয়াদি বাজেট কাঠামোর (এমটিবিএফ) আওতায় প্রকল্পটির অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব হবে কি-না সে বিষয়টি এখনও নিশ্চত নয়। এক্ষেত্রে সংস্থার অন্য কোনো প্রকল্প থেকে অর্থ নিয়ে এসে এখানে ব্যবহার করা হতে পারে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত