প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নৈসর্গিক সৌন্দর্য ভ্রমণের গল্প

সারোয়ার জাহান: ইট পাথরের এই যান্ত্রিক শহরকে অনেক সময় যন্ত্রণার মনে হয়। এই শহর আমার যন্ত্রণাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে সদ্য বিদায়ী ঈদুল আজহা। বরাবরের মতো এবারও ছুটি পেয়েছি অফিস থেকে। আনন্দের সাথে ঈদ উদযাপন হলো পরিবারের সাথে। কিন্তু ঈদের ৩য় দিন ঢাকায় চলে আসতে হয়। কারণ আমি অফিসে আসলে অন্যরা ছুটিতে বাড়ি যাবে। আমিও যথারীতি অফিস করতে শুরু করলাম। এদিকে বাসায় আমি একা একা রান্না করে খাচ্ছি, অফিস করছি আর ঘুমোচ্ছি। এভাবে একা একা চলতে চলতে মেজাজটা আমার খিট খিটে হয়ে যায়। এ অবস্থায় আমি কী করবো ভেবে পাচ্ছিলাম না। এরই মধ্যে আমার রুমের আরও দু’জন সদস্য চলে আসে। ৩১ আগস্ট দিনটি ছিল শনিবার সন্ধ্যা ৭:৪৫ মিনিট। আমি অফিসের কাজে ব্যস্ত ছিলাম। হঠাৎ আমার মোবাইল ফোনটা বেজে উঠলো। ফোনের স্ক্রিনে তাকাতেই দেখতে পাই আমার খুবই পরিচিত একজনের নাম। ফোনটা রিসিভ করতেই অপর প্রান্ত থেকে জিজ্ঞেস করছিল আমি কোথায়, কী করছি? যথারীতি আমি আমার অবস্থান বলে দিলাম। সে আমাকে বললো রাত ৮টার মধ্যে আমাকে বাসায় থাকতে হবে। আরেকটা কথা বলে রাখি, বাসা থেকে আমার অফিসটা অনেকটাই কাছে, মিনিট পাঁচেক হলে চলে আসতে পারি। আমি মনে করেছিলাম বাসায় হয়ত কোনো বিপদ বা কিছু একটা হয়েছে। কীভাবে অফিস ম্যানেজ করবো ভাবছিলাম।

যাইহোক অফিস ম্যানেজ করে বাসায় চলে আসি। এসে দেখি বাসায় আমার ব্যাগ গোছানো। আমি বললাম ব্যাপার কি? কি হয়েছে? সদ্য বাড়ি থেকে আসা আমার রুমের দুই সদস্য আমাকে কিছু বললো না। শুধু এটুকুই আমাকে বলা হলো আমরা ব্যাগ গুছিয়েছি এখন তুমি শুধু টুথব্রাশ আর ফেসওয়াশটা নিয়ে নাও আমরা এখন বের হবো। আমিও কথা না বাড়িয়ে তাদের সাথে বেরিয়ে পড়লাম। বাসা থেকে বেরিয়ে শুক্রাবাদ বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে দেখি বৃষ্টি দাঁড়িয়ে আছে আমাদের জন্য। আমি বৃষ্টিকে জিজ্ঞেস করলাম তুমি এই রাতে এখানে কেনো? সে আমাকে বললো ভাইয়া বলা যাবে না। এখন চলেন। কোথায় যাব?। বৃষ্টি আমাকে শুধু এটুকুই বললো যে আমরা এখন কমলাপুর যাচ্ছি।

শুক্রাবাদ বাসস্ট্যান্ডে অনেক ক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলাম কিন্তু কমলাপুরগামী কোনো বাসই পেলাম না। বৃষ্টি হঠাৎ বলল ভাইয়া আমরা এখান থেকে সাইন্সল্যাব চলে যাই সেখানে একটা কিছু পাব। তার কথামত সেখানে চলে গেলাম। আমরা চারজন দাঁড়িয়ে আছি বাসের জন্য কিন্তু যাও দু-একটা বাস আসছে তাতে তিল পরিমাণ ঠাই নেই। সাইন্সল্যাব দাঁড়ানো অবস্থায় রুপমের কাছে একটা ফোন আসে সে রিসিভ করে আমাদের থেকে একটু দূরে গিয়ে কিছু একটা বললো তাকে। কিছুক্ষণ পর দেখি আমাদের দলে আরও একজন হাজির হলো নাম সুফিয়ান। এখন আমাদের সদস্য পাঁচজন হলো। আমরা সেখানে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলাম। ঠিক সে সময়ই একটা প্রাইভেট কার আমাদের সামনে দিয়ে চলে যাচ্ছে কিন্তু তার গতিবিদি দেখে আমাদের একজন সামনে এগিয়ে গাড়িটা থামিয়ে জিজ্ঞেস করলো মামা যাবেন? গাড়ি থেকে আমাদের জিজ্ঞেস করা হলো কোথায় যাবেন? রাফি বলল কমলাপুর স্টেশন। তখন গাড়ি চালক দরজা খুলে আমাদের গাড়িতে ওঠার জন্য বলে। আমরা সবাই অল্প সময়ে মধ্যে কমলাপুর গিয়ে ভাড়া মিটিয়ে স্টেশন গেটের সামনে দাঁড়িয়ে আছি। কিছুক্ষণ পর আমাদের সামনে খাইরুল নামে আরো একজন হাজির। তারপর সন্ধ্যায় আমাকে ফোন দিয়েছিল মেহেদী তাকে ফোন করতেই সে বললো ২০ মিনিট লাগবে তোরা সবাই স্টেশনে দাঁড়া আমি আসছি। যথারীতি সেও চলে আসলো স্টেশনে। সে এসেই আমাদের হাতে টিকিট ধরিয়ে দিল। আমি একটি টিকিট হাতে নিয়ে দেখি ‘ঙ প্রথম শ্রেণি/বার্থ’ ঢাকা হইতে চট্টগ্রাম লেখা। আমার আর তখন বুঝতে কোনো সমস্যা হলো না যে আমি কোথায় ঘুরতে যাচ্ছি। তখন ঘড়িতে বাজে রাত ৯টা ৪৫ মিনিট। আমাদের ট্রেন ছিল ১০:৩০ মিনিটে। আমরা আর দেরি না করে পানি আর রাতের জন্য খাবার কিনে প্লাটফর্মে চলে যাই। যথা সময়ে ট্রেনও চলে আসে কিন্তু প্রায় ঘণ্টা খানেক লেট করে ট্রেন ছাড়ে। আমরা কেবিনে বসে সবাই আড্ডায় মত্ত ঠিক তখনই ট্রেনটা টঙ্গি স্টেশন অতিক্রম করে। আড্ডার মাঝে আমাদের কেউ একজন বললো চল আমরা রাতের খাবারটা খেয়ে নেই। সবাই তার কথায় সায় দিয়ে রাতের খারের জন্য প্রস্তুত হলাম। কিন্তু খাবার যখন শুরু করব তখন সুফিয়ান বলে ওঠে আমাকে হোটেল থেকে শুধু রুটি নিয়ে আসতে বলা হয়েছে আর আমি তাই এনেছি, তা হলে আমরা এখনই রুটি খাব সাথে ডাল বা সবজি কিছুই নেই? তখন রুপম তার ব্যাগ খুলে আমাদের সামনে একটা বাটি এগিয়ে দিয়ে বলে নে এর ভেতরে কিছু একটা আছে। বৃষ্টি সেটা খুলে জিজ্ঞেস করলো ভাইয়া এটা তুমি কোথায় পেলে? তখন রুপম বললো আমি আজ তোদের জন্য নিজ হাতে রান্না করে নিয়ে এসেছি। এজন্যই আমি আসার সময় শুধু রুটি নিয়ে আসতে বলেছি সুফিয়ানকে। একটা কথা বলে রাখি রুপম অনেক ভালো রান্না করে। আমাদের বন্ধুদের অনেক সময় রান্না করে খাওয়ায়। বিশেষ করে বাড়ি থেকে হাওরের মাছ নিয়ে আসলে। সে যাই হোক এক বাটি মাংস আর আমরা সাতজন মানুষ মিলে ২১টি রুটি নিমিষেই শেষ করে দিলাম। খাবার শেষ হলে রাফি বলল ভাই আমার ঘুম পাচ্ছে আমি ঘুমাব। আর মেহেদী, রুপম, সুফিয়ান, খায়রুল একটা লাইটার হাতে নিয়ে কেবিনের বাহিরে চলে যায়। আমি তখন হাতে একটি বই নিয়ে দেখছিলাম। বইটির নাম ছিল ‘লাইলী-মজনু’। বৃষ্টি হঠাৎ আমাকে বলে ওঠে, আমরা একটু আনন্দ-উল্লাসের জন্য যাচ্ছি, আর তুমি বই খুলে বসলে। আমি বইটি বন্ধ করে তার সাথে আড্ডায় বসে গেলাম। বৃষ্টি বলছিল যান্ত্রিক শহরের ঐ সোডিয়াম বাতির আলো আমার আর ভাল লাগে না। মন চায় এই জোছনা রাতে ঐ দূর গ্রামে হারিয়ে যেতে। জানো ভাইয়া সব আশা ছেড়ে দিয়ে যখন অন্ধকার ছাড়া জীবনে কিছুই দেখছিলাম না ঠিক তখন রাত ৮:৩০ এ ফোন আসে। সব গোছাও আমরা ৭ জন ঘুরতে যাচ্ছি ঢাকার বাহিরে এক দিনের জন্য। না। আমি যাব না। ভালো লাগছে না। তুমি.. না বলছিলা পাহাড় জয় করবা! আমাকে না বড় গলায় বলতে তুমি পারবা, চলো দেখিয়ে দাও। অপর প্রান্ত থেকে আমাকে বলা হচ্ছে ফোন রাখছি, আর আমি এখন থেকে ঠিক ১০মিনিট পর ফোন দিয়ে শুনতে চাই সব গোছানো শেষ।

আমি আর তাকে না করতে পারিনি। এক কাপড় পরে কাধে একটা ব্যাগ ঝুঁলিয়ে বেরিয়ে পরলাম।কিন্তু মাকে দেখে মনে হলো অনেক রেগে আছে, হুট করে তেমন কিছু না জানিয়েই ঘুরতে যাওয়া। আগে কখনো তো হয়নি। বের হয়ে যাওয়ার সময় বললাম রাগ করে থেকো না। দোয়া করো আর যাতে তোমাদের বাসায় না আসতে হয়। আমি আর এইসব মানুষের মাঝে আসতে চাই না। একথা গুলো চলন্ত ট্রেনের জানালার পাশে বসে বলছিল বৃষ্টি।

কিছুক্ষণ পর সবাই কেবিনে চলে আসে আর সবাই মিলে অনেক আড্ডা, প্রত্যেকের জীবনে কতটুকু ভ্রমণ আরো অনেক বিষয় নিয়ে আলাপ-আলোচলা হয় আমাদের। ট্রেন তার আপন গতিতে চলছে, ভৈরব স্টেশনে আসার পর মেহেদী কেবিনের লাইট অফ করে দেয়। আর সবাইকে সচেতন করে বলে দেয় কেবিনের জানালা যেন খোলা না থাকে। আমরা তার কথা মত জানালা বন্ধ করে সবাই ঘুমিয়ে পরলাম। ঘুম থেকে উঠে দেখি ভোর ৫টা ৪০ মিনিট বাজে। ঘুম থেকে উঠে টুথব্রাশটা হাতে নিয়ে ট্রেনের দরজায় যেতেই আমাদের বগির নিরাপত্তাকর্মী জানান, মামা ঘুমান গিয়ে আমি ডেকে দিব। এখনো অনেক সময় আছে আপনাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে। আমি জিজ্ঞেস করলাম আমরা কোথায় আছি মামা? সে বললো আমাদের সামনের স্টেশন কুমিল্লা। আমি কেবিনে গিয়ে দেখি যথারীতি সবাই ঘুম থেকে উঠে বসে আছে। বৃষ্টি ঘুমঘুম ভাব নিয়ে বলছে ভাইয়া আমাদের ট্রেন আখাউড়া স্টেশনের আগে অথবা পরে অনেক সময় দাঁড়িয়ে ছিল। আমি তখন ঘুমাইনি। তোমরা সবাই ঘুমোচ্ছিলে। তার পর সবাই ফ্রেশ হয়ে বসে আছি কেবিনে।

দীর্ঘ অপেক্ষার পর সকাল সাড়ে ৮ টায় পৌঁছালাম সীতাকুণ্ড স্টেশনে। স্টেশনের একটু দূরে আমরা সকালের খাবার খেয়ে হোটেল থেকে বেড়িয়ে পরি। উদ্দেশ্য চন্দ্রনাথ পাহাড়ের নৈসর্গিক অপরূপ সৌন্দর্য। দু’টি সিএনজি নিয়ে আমরা চন্দ্রনাথ পাহাড়ের কাছে চলে যাই। পাহাড়ে উঠার সময় রাস্তার পাশে থরে থরে সাজানো বাঁশ-বেতের তৈরি লাঠি আর পেয়ারা নিয়ে বসে আছে ষাটোর্র্ধ্ব এক ব্যক্তি। সাজানো লাঠির পাশ থেকে তিনি আমাদের উদ্দেশ্য করে বলতে থাকেন, মামা পাহাড়ে উঠতে যাচ্ছেন, যান কিন্তু সাবধানে যাবেন। তার কথা শুনে আমরা সবাই দাঁড়িয়ে গেলাম। ঐ ব্যক্তি আমাদের অনেক উপদেশ দিলেন আমরা সবাই তার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনলাম এবং তার কাছ থেকে লাঠি নিলাম প্রত্যেকটি লাঠির জন্য তাকে ২০ টাকা দিতে হবে। আর এই লাঠি পাহাড় থেকে ফেরার সময় তাকে ফেরত দিলে সে আমাদের ১০ টাকা ফেরত দিবে। আর ব্যাগ তার কাছে জমা দিয়ে গেলে প্রতি ব্যাগের জন্য ২০ টাকা নিবে সে। আমরাও নিজেদের মধ্যে বিষয়টা আলোচনা করলাম এতো উঁচু পাহাড়ে যাব, সেখানে ব্যাগ না নেওয়াই ভাল। লোকটি আবারও আমাদের বলছে এই পাহাড় অনেক উঁচু আর আপনারা যখন ক্লান্ত হয়ে যাবেন তখন এই লাঠিতে ভর করে উপরে উঠতে পারবেন। আমরা পাহাড়ে ওঠার জন্য হালকা খাবার আর পানি, সেলাইন ছাড়া সবই তার কাছে রেখে আমাদের যাত্রা শুরু করি।

পাহাড়ে ওঠার সময় দেখি সেখানে আমাদের মতো আরো অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এসেছে পাহাড়ের চূড়ায় আরোহনের জন্য। আমরা ৭ জন সারিবদ্ধভাবে পাহাড়ে উঠছি, কিছুক্ষণ পর দেখি একটি ছেলে দ্রুতগতিতে আমাদেরকে পাশ কাটিয়ে উপরে চলে যাচ্ছে। পেছন থেকে মেহেদী বলছে এ ছেলে দৌঁড় দিয়ে বেশি দূর যেতে পারবে না। কথাটি বলার ঠিক ১৫ মিনিট পর দেখি ছেলেটি পাহাড়ে চলাচলের রাস্তার পাশে বসে বমি করছে। অন্য গ্রুপের একটি ছেলে তার মাথায় পানি দিচ্ছে। কিছুক্ষণ পর সেই ছেলেটির দলের অন্যসদস্যরা চলে আসে এবং সবাই তাকে সুস্থ করে তুলতে প্রাণপণ চেষ্ট করে যাচ্ছে।

সেখান থেকে পাহাড়ে ওঠার কিছু পরেই বৃষ্টির জুতা ছিঁড়ে যায়। তপ্ত রোদে খালি পায়ে পাহাড়ে উঠতে হবে বৃষ্টিকে। আমাদের দলের অন্যান্য সদস্যদের থেকে বৃষ্টিকে দেখে অনেক কষ্ট হয়েছে আমাদের। কারণ পাহাড় যাত্রার পথে সে বমিও করেছে ২ বার। আমরা যখন চন্দ্রনাথ মন্দিরে পৌছাতে মিনিট ৩০ সময় লগবে তখন আকাশ অন্ধকার হয়ে বৃষ্টি চলে আসে। পাশে একটি টং দোকানে বৃষ্টির সময় অবস্থান করি। বৃষ্টি থেমে গেলে আমাদের যাত্রা আবার শুরু করি সতর্কতার সাথে। কারণ বৃষ্টিতে রাস্তাটা পিচ্ছিল হয়ে আছে। অনেক ক্লান্ত আর ঘাম ও বৃষ্টিতে ভিজে আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত চন্দ্রনাথ পাহাড় চূড়ায় পৌঁছলাম। সেখানে যাওয়ার পর আমার দীর্ঘ যাত্রা আর বৃষ্টি-ঘামে ভেজা সকল ক্লান্তি ভুলে যাই। দু’চোখ যতদূর যায় সবুজ আর সবুজ। মাঝে মাঝে দূর পাহাড় ঘেঁষে মেঘ ভেসে যাচ্ছে। সত্যি তা দেখে আমি মুগ্ধ, বিমোহিত। আমার দেশটা এতো সুন্দর তা ইট পাথরের বন্দিশালায় থেকে পরখ করা যায় না। তারপর আমরা চন্দ্রনাথ মন্দিরের আশে পাশে ঘুরে ঘুরে দেখলাম এবং ছবি তুললাম।

পাহাড়ে ছবি তোলার ফাকে সুফিয়ানকে দেখে মনে হচ্ছিল সে চিন্তিত। তাকে জিজ্ঞস করলাম তোর কি হয়েছে? সে বলল আমি জীবনে অনেক ভ্রমণ করেছি, অনেক পরিকল্পানার মধ্য দিয়ে হয়েছে কিন্তু আমি আজ এই পাহাড়ে তোদের সাথে থাকব তা আমার কল্পাতেও আসেনি। মনে হয় আমি স্বপ্ন দেখছি। আমাকে যখন রাতে ফোন দেয় মেহেদী তখন আমার ফোন বন্ধ ছিল। আমি ছিলাম গণভবনে। (সুফিয়ান ছাত্র রাজনীতি করে, ঐ দিন গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সাথে ছাত্রলীগের আলোচনা সভা ছিল ) সেখান থেকে বেরিয়ে রুপমকে ফোন দেই। জীবন বড়ই বিচিত্র্যময়।

সুফিয়ানের কথা শেষ হতে না হতেই চন্দ্রনাথ মন্দির থেকে একটু দূরে কেউ যেন উচ্চ স্বরে মনের আনন্দে গান গাইছে-দূরে ঐ পাহাড় মিশেছে নীল আকাশে….আহারে। গানটি শুনে আমার বুঝতে বাকি রইলনা কে এই গান গাইছে। কারণ তার সাথে আমার বন্ধুত্ব সেই আনন্দ মোহন কলেজে পড়া অবস্থায়। সময়কাল হবে আজ থেকে আরও ৭ বছর আগে থেকে। সত্যি কথা বলতে আমি কখনো তার গানের প্রশংসা করিনি। তার গান শুনে আমরা সবাই দৌড়ে তার কাছে চলে যাই। তারপর গানটি আমরা সবাই একসাথে গাইতে থাকি। আমাদের গান শুনে ৮-১২ জনের একটি গ্রুপ যোগ দেয় আমাদের সাথে। তারা সবাই আমাদের গানের প্রশংসা করে। এর ফাকে আমাদের গ্রুপের খাইরুল বলছে আমি এভাবে দাঁড়াব আমার ছবিটা তুলে দে। খাইরুল ছবি পাগল। যেখানেই যাবে সেখানেই ছবি তুলবে। এমনকি তার আশে-পাশে কেউ যদি নতুন অ্যাঙ্গেলে দাঁড়িয়ে ছবি তুলে, আর তা যদি পছন্দ হয়, সেভাবে দাঁড়িয়ে ছবি তাকে তুলতেই হবে।

তারপর চন্দ্রনাথ পাহাড়ে সবাই গ্রুপ ছবি তুলে নিচে নামার জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকি। পাহাড় থেকে নামার সময় সবাই ভয়ে ছিলাম কারণ বৃষ্টিতে রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে আছে। তার পর আবার পাহাড়ে বড় বড় সিঁড়ি বেয়ে নামতে হবে। নামার সময় মনে হচ্ছে কেউ যেন আমাকে পেছন থেকে ধাক্কা দিচ্ছে। কোনো দুর্ঘটনা ছাড়াই আমরা পাহাড় থেকে নেমে হোটেলে চলে যাই। ফ্রেশ হয়ে দুপুরের খাবার খেয়ে চলে যাই গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকতে। সেখান থেকে মহামায়া লেক।

মহামায়া লেক নামটি যেমন সুন্দর তার থেকে সুন্দর লেকটির সৌন্দর্য । সেটা না হয় অন্য কোনো দিন লিখব।

আমাদের এই ভ্রমণ সঙ্গি ৭ জন হলো, মেহেদী হাসান, আবু সুফিয়ান, রুকনুজ্জামান রুপম, খাইরুল ইসলাম, সারোয়ার জাহান (লেখক), (৫ জন ঢাকা কলেজ), ফারিহা আজাদ বৃষ্টি (ইউল্যাব), সিয়াম সাজেদুল রাফি (মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজ)

[চন্দ্রনাথ পাহাড় যা সীতাকুণ্ড পাহাড় নামেও পরিচিত, ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথ হতে দৃশ্যমান অবস্থায়। পাহাড়ের চূড়ায় চন্দ্রনাথ মন্দির ও বাম-পাশে বিরূপাক্ষ মন্দির দেখা যায় । সীতাকুণ্ড পাহাড় হিমালয় হতে বিচ্ছিন্ন হিমালয়ের পূর্বাঞ্চলীয় অংশ। এই পাহাড়টি হিমালয়ের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিক ঘুরে ভারতের আসাম এবং ত্রিপুরা রাজ্যের মধ্য দিয়ে ফেনী নদী পার হয়ে চট্টগ্রামের সঙ্গে মিশেছে। চট্টগ্রাম অংশে ফেনী নদী থেকে চট্টগ্রাম শহর পর্যন্ত এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৭০ কিলোমিটার। এই পাহাড়ের পাদদেশে নির্মিত হয়েছে সীতাকুণ্ড ইকো পার্ক। চন্দ্রনাথ পাহাড় প্রায় ১০২০ ফুট অথবা (৩১০ মিটার) উঁচু এবং চট্টগ্রাম জেলার সর্বোচ্চ স্থান।]

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত