আরিফুর রহমান তুহিন: ব্যাংক ঋণের সুদ হার এক অংকে নামিয়ে আনতে কঠোর নজরদারিতে নেমেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরজন্য গঠন করা হয়েছে ১০ সদস্যের পর্যবেক্ষণ টিম। বাংলাদেশ ব্যাংক এ ব্যাপারে চিঠি দিয়েছে ব্যাংকগুলোকে।
গত ১লা জুলাই থেকে ব্যাংকগুলো সিঙ্গেল ডিজিট সুদে ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও বেশিরভাগ ব্যাংক তা বাস্তবায়ন না করায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্যাংকের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে এই তথ্য জানা যায়।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংককে বলছে অতীতে তারল্য সঙ্কটের কারণে এবং এডিআর অতিক্রম করায় অতিরিক্ত সূদে তারা আমানত নিয়েছে। অনেকে ৯ শতাংশ হারে আমানত সংগ্রহ করেছে। তাই ঋণের সুদ কমালে অনেকে লোকসানে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই গড়িমসি করছে তারা। কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংক এগুলো শুনতে নারাজ। তারা ব্যাংকগুলোর দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। প্রয়োজনে ব্যাংকগুলোকে পরামর্শ দিবে। সিঙ্গেল ডিজিট বাস্তবায়নে পিছু হটবে না।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, তারা যে ১০টি টিম গঠন করেছে সেগুলো ব্যাংকগুলোতে গিয়ে পরিদর্শন করবে। সুদের হার বাস্তবায়নের পাশাপাশি সঠিক নিয়মে ঋণ প্রদান করা হচ্ছে কিনা সেগুলোও পর্যবেক্ষণ করবে। শরিয়াহ ভিত্তিক ব্যাংকগুলো জন্যও আলাদা টিম থাকছে। মোটকথা, প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন চায় বিবি।
এদিকে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর কর্মকর্তারা বলছেন, ঋণের সুদহার কমানোর ঘোষণার পর থেকে তারা পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন খাতে সুদহার কমাতে শুরু করেছেন। সিঙ্গেল ডিজিট সুদের ঘোষণা হঠাৎ করে আসায় তা কার্যকরে সময় লাগছে। এছাড়া তারা আমানতের সুদহার কমাতে পারছে না। আমানতের সুদহার কমালে কেউ আমানত দিতে চাচ্ছেন না। এছাড়া সরকারি আমানতও তেমন একটা মিলছে না।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, পরিদর্শনের কাজ চলছে। বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংক অনেক গুরুত্বসহকারে দেখছে। ঘোষিত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ি এখনো বেশিরভাগ ব্যাংকের ঋণের সুদহার দুই অঙ্কে রয়েছে। গত জুলাইয়ে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর ঋণের ক্ষেত্রে গড় সুদহার ছিল ১০ দশমিক ৩৯ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে এবি ব্যাংক বাণিজ্যিক ঋণে সুদ নিয়েছে ৯ থেকে ১৬ শতাংশ পর্যন্ত। ব্র্যাক ব্যাংক শিল্পঋণে ১১ থেকে ১৪ শতাংশ, ঢাকা ব্যাংক ৯ থেকে ১২ শতাংশ, ডাচ্-বাংলা ৯ থেকে ১২ শতাংশ, ইস্টার্ন ব্যাংক ৯ থেকে ১২ শতাংশ, ফারমার্স ব্যাংক ১৫ থেকে ১৮ শতাংশ, আইসিবি ইসলামিক ১৫ থেকে সাড়ে ১৬ শতাংশ, যমুনা ব্যাংক সাড়ে ১৩ শতাংশ, মিডল্যান্ড ব্যাংক ১১ থেকে ১৪ শতাংশ সুদ নিয়েছে। মার্কেন্টাইল ব্যাংক বাণিজ্যিক ঋণে সাড়ে ১০ থেকে সাড়ে ১৩ শতাংশ, মেঘনা ব্যাংক ১২ থেকে ১৫ শতাংশ, মধুমতি ব্যাংক সাড়ে ১১ থেকে সাড়ে ১৪ শতাংশ, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ৯ থেকে ১২ শতাংশ, ন্যাশনাল ব্যাংক ১২ থেকে ১৫ শতাংশ, এনসিসি ব্যাংক সাড়ে ১০ থেকে সাড়ে ১১ শতাংশ, এনআরবি ব্যাংক ১১ থেকে ১৪ শতাংশ, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক সাড়ে ১১ থেকে সাড়ে ১৪ শতাংশ, ওয়ান ব্যাংক সাড়ে ১২ থেকে সাড়ে ১৫ শতাংশ, প্রাইম ব্যাংক ৯ থেকে ১২ শতাংশ, পূবালী ব্যাংক সাড়ে ১৩ থেকে ১৪ শতাংশ, সাউথ-বাংলা এগ্রিকালচারাল ব্যাংক বাণিজ্যিক ঋণে ১২ থেকে ১৪ শতাংশ, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক বাণিজ্যিক ঋণে ৯ থেকে ১২ শতাংশ, সিটি ব্যাংক ১২ দশমিক ২৫ থেকে সাড়ে ১৪ শতাংশ, ট্রাস্ট ব্যাংক সাড়ে ১০ থেকে সাড়ে ১৩ শতাংশ ও উত্তরা ব্যাংক বাণিজ্যিক ঋণে ১১ থেকে ১৪ শতাংশ সুদ নিয়েছে। বিদেশি ৯ ব্যাংকও শিল্প ও বাণিজ্যের কোনো কোনো ক্ষেত্রে দুই অঙ্কের সুদ নিয়েছে।