শিরোনাম
◈ সংবিধান কি মনে করিয়ে দেয় এটা একাত্তরের পরাজয়ের দলিল? প্রশ্ন পার্থের ◈ গাজী আশরাফ লিপুর আনুষ্ঠানিকভাবে দা‌য়িত্ব শেষ হলো, এবার পা‌বেন সম্মাননা ◈ সাবেক খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম ক্যান্সার আক্রান্ত, চিকিৎসার আবেদন করেছেন তার আইনজীবী ◈ বিগত সরকারের দুর্নীতিতে স্থবির স্বাস্থ্যখাত, সেবা উন্নয়নে কাজ করছে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ◈ জলবায়ু ট্রাস্টের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে : পরিবেশ মন্ত্রী ◈ সেবা না পেয়ে বেশ কিছু শিশু মারা গেছে, বাংলাদেশের হাসপাতালে আইসিইউ এবং ভেন্টিলেশন সেবা কতটা আছে?  ◈ জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে সুখবর ◈ স্কুল চলাকালীন যানজট নিরসনে বিকল্প খুঁজতে নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ◈ ভারত সফরে জয়শঙ্কর-দোভালের সঙ্গে বৈঠক, জ্বালানি ও পানি ইস্যুতে গুরুত্ব ◈ ঢাকাসহ ১৪ জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ

প্রকাশিত : ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ০৩:২৬ রাত
আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ০৩:২৬ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

‘গুম-নাগরিক জীবনের ভয়াবহ অভিশাপ’

মহিউদ্দিন রাব্বানি : গুম-বিশ্বব্যাপী নাগরিক জীবনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের একটি ভয়াবহ দিক। প্রতিটি মানব শিশুই স্বাভাবিক জীবন যাপনের আধিকার জাতিসংঘ সনদে স্বীকৃত। জাতিসংঘ ২০০২ সালে কাজ শুরু করে ২০০৬ সালের মাঝা-মাঝি সময়ে গুম বিরোধী আন্তর্জাতিক সনদ International Convention for Protection of all Person Against Enforced Disappearance রচনা করেন। যা ২০১০ সালের ডিসেম্বরে কার্যকর হয় এবং ৩০ আগস্ট গুম প্রতিরোধ দিবস পালনের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। সে আনুযায়ী ২০১১ সাল থেকে প্রতি বছর ৩০ আগস্ট গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্মরণ এবং পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানোর জন্য গুম প্রতিরোধ দিবস পালিত হয়ে আসছে।

আন্তর্জতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামেন্যাস্টি ইন্টািন্যাশনালের তথ্য মতে, সিরিয়ায় ২০১১ সালে গৃহযুদ্ধ হওয়ার পর এপর্যন্ত ৮৫ হাজার মানুষ গুম হয়েছে। এদের মধ্যে বিরোধী রাজনীতিক ও মানবাধিকার কর্মী পাশাপাশি সাধারণ লোকজনও রয়েছে।

আমাদের এই প্রিয় স্বাধীন-স্বার্বসভৌম দেশেও থেমে নেই গুম যন্ত্র। মানবারিকাি সংস্থাগুলো বলছে গত ১০ বছরে ৪৩৫ জন গুম হয়েছে। তবে কেউ কেউ বলছেন- এ সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। মানবাধিকার সংস্থা Human Rights Support Society(HRSS) এর তথ্য মতে, শুধু ২০১৭ সালেই বাংলাদেশে ৬২ জন গুমের স্বীকার
হয়েছেন। তবে বাংলাদেশে গুমকৃতদের মধ্যে রাজনৈতিক নেতা-কর্মী ছাড়াও বিভিন্ন পেশজীবী মানুষও রয়েছে।

ইতোমধ্যে যারা গুম হয়ে আবার ফিরে এসেছে তাদের অবস্থাও ভাল নয়। এখনও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি অনেকেই। অজ্ঞাতবাস থেকে ফিরে এসে অনেকেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। একজন বলছেন- তিনি এখন আর আগের মত কথা বলতে পারেন না। তাকে গুম করে রাখার পর আটক রাখা হয় কয়েক মাস। বারবার একই প্রশ্ন করে অপহরণকারীরা অতিষ্ঠ করে তোলে তাকে। তার চোখ ও হাত বাঁধা ছিল দীর্ঘদিন। ফিরে আসার পর তার প্রথম যে সমস্যাটি হলা সেটি হলা অনেক দিন চোখ বেঁধে রাখার কারণে তার ফটোফেরিয়া হয়েগিয়েছিল। বর্বণগুলো বড় করে দিলে পড়তে পারেন। অন্য একজন বলছেন -অজ্ঞাত স্থান থেকে বের হওয়ার পর তিনি দীর্ঘদিন ঘুমাতে পারেন না। একজন বনলন- গুম হওয়ার চেয়ে কারাগার অনেক ভাল।

গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবার অধির প্রতিক্ষায় তাকিয়ে আছে কখন আসবে তাদের প্রিয় মুখ। মা তার সন্তানেরর পথ চেয়ে আছে কখন তার প্রিয় করলজাি টুকরো ফিরে এসে হৃদয়টা শীতল করে দিবে(!) স্ত্রী তার স্বামীর অপেক্ষার প্রহর গুনছে(!) সন্তান ব্যাকুল হয়ে কাঁদছে বাবার অন্বষায়(!) গুমকৃত ব্যক্তিটিও চায় স্বাভাবিক মুক্ত বাতাসে স্বাধীনভাবে বসবাস করতে(!)

তাই আসুন, গুমকৃত ব্যক্তিদের গভীর চিত্তে স্মরণ করি। তাদের পরিবারকে সমবেদনা জানাই এবং সংশ্লিষ্ট
কতৃপক্ষকে তাদের স্বাভাবিক নাগরিক জীবন ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানাই।

লেখক: মহিউদ্দিন রাব্বানি
মানবাধিকার কর্মী ও শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়