শিরোনাম
◈ সংবিধান কি মনে করিয়ে দেয় এটা একাত্তরের পরাজয়ের দলিল? প্রশ্ন পার্থের ◈ গাজী আশরাফ লিপুর আনুষ্ঠানিকভাবে দা‌য়িত্ব শেষ হলো, এবার পা‌বেন সম্মাননা ◈ সাবেক খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম ক্যান্সার আক্রান্ত, চিকিৎসার আবেদন করেছেন তার আইনজীবী ◈ বিগত সরকারের দুর্নীতিতে স্থবির স্বাস্থ্যখাত, সেবা উন্নয়নে কাজ করছে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ◈ জলবায়ু ট্রাস্টের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে : পরিবেশ মন্ত্রী ◈ সেবা না পেয়ে বেশ কিছু শিশু মারা গেছে, বাংলাদেশের হাসপাতালে আইসিইউ এবং ভেন্টিলেশন সেবা কতটা আছে?  ◈ জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে সুখবর ◈ স্কুল চলাকালীন যানজট নিরসনে বিকল্প খুঁজতে নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ◈ ভারত সফরে জয়শঙ্কর-দোভালের সঙ্গে বৈঠক, জ্বালানি ও পানি ইস্যুতে গুরুত্ব ◈ ঢাকাসহ ১৪ জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ

প্রকাশিত : ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ০৩:১৫ রাত
আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ০৩:১৫ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

খালেদা জিয়ার মুক্তিই শেষ কথা

অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার: বিএনপিকে জাতীয় নির্বাচনে আনার আহ্বান সরকারের মায়াকান্না আজ জাতির সামনে পরিষ্কার। সরকারের অনেক মন্ত্রীর মুখে শোনা গেছে, বিএনপি জাতীয় নির্বাচনে না এলে মুসলিম লীগ হয়ে যাবে, মায়াবতী কন্ঠে বলছেন, ন্যাপ হয়ে যাবে ইত্যাদি। প্রধানমন্ত্রী ২০১৬ সালে দলীয় সম্মেলনে বলেছিলেন, তিনি আর প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন দেখতে চান না। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির ভোটারবিহীন নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন যে, ওই নির্বাচন ছিল নিয়ম রক্ষার। অন্যদিকে বিদেশিদের কাছেও তিনি অভিমত প্রকাশ করেছিলেন যে, সর্বদল গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচনের তিনি আশাবাদী। কিন্তু সম্প্রতি সরকারি ইন্ধনে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনা ও বিচারের রায় সংক্রান্ত কিছু অগ্রিম কথাবার্তায় দৃশ্যত এটাই মনে হচ্ছে যে, সরকার বিএনপি ব্যতীত একটি জাতীয় নির্বাচনের দিকে জোর দিয়েই এগোচ্ছে। বিএনপিকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার সকল প্রকার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। এবং এটাকেই তারা নিরাপদ মনে করছে।

বিএনপির চেয়ারপারসনকে কারাবন্দী ও বিভিন্ন মামলায় জামিনের বিষয়টি দীর্ঘায়িত করার পিছনে সরকারের হস্তক্ষেপ এখন দৃশ্যমান। সরকার প্রধান ও তার পরিষদ অনেক কথাই বলেন যার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। বরং সাংর্ঘষিক। যে বাঘ রক্তের স্বাদ পেয়েছে সে শিকারের ঝুঁকি নিবেই। এ সরকার সম্পষ্টই বুঝতে পেরেছে যে, বিনা ভোটের নির্বাচন করেও একটি গণতান্ত্রিক (সংবিধান মতে) রাষ্ট্র শাসন করা যায়। ফলে আর একটি একতরফা নির্বাচন যদি করা যায় তবে সরকার একদলীয় শাসন ছাড়াও স্থায়ীভাবে রাষ্ট্র পরিচালনার আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে (যদি না ব্যতিক্রম কিছু না ঘটে) এবং এটাই যদি হয় তবে ভবিষ্যতে আর নির্বাচনের প্রয়োজন হবে না, বংশানুক্রমে চললেই হবে। পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষ বিবেক দিয়ে চলে না, তারা ক্ষমতাসীনদের পাশে থেকে নিরাপদ অবস্থানে থাকতে চায়। মানুষ যদি ‘বিবেক’ দিয়ে চলত তবে অনেক অনাচার-অবিচারের প্রতিরোধ হতো। কিন্তু প্রতিরোধ গড়ে তোলার যে অবস্থান সৃষ্টি হওয়ার কথা ছিল তা এখনো দৃশ্যমান নয়। গ্যাসের দাম দফায় দফায় বৃদ্ধি পাচ্ছে, মুঠোফোন কলরেট বৃদ্ধি পেয়েছে, গণমানুষের ভোটাধিকার ছিনতাই হচ্ছে, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো লোপাট হচ্ছে। কিন্তু গণমানুষের কোনো ‘রা নেই’ বরং বুদ্ধিজীবীরা সরকারের ডামাঢোল বাজিয়ে সরকারি সুবিধা আদায় করছেন। চ্যানেলগুলোও সরকারের নিয়ন্ত্রণে, ব্যতিক্রম হলেই একুশে টিভির মতো অবস্থায় পড়তে হবে মনে করে পুরোপুরি সত্যের পথে চলতে তারা বাধাগ্রস্ত।

বিএনপি চেয়ারপার্সনের অংশগ্রহণ ছাড়া দলটি নির্বাচনে যাবে কি না তা আরও পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনার দাবি রাখে। চেয়ারপার্সন জামিনে মুক্ত হলেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না, যদি না ফৌজদারি কার্যবিধির ৪২৬ ধারা মোতাবেক তার সাজা উচ্চ আদালত কর্তৃক স্থগিত না হয়। অথবা সরকারি কোনো সিদ্ধান্তে তার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয় (!)। বিষয়টি এখন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। চেয়ারপার্সনকে ব্যতীত জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ যেমন হবে আত্মঘাতী, অন্যদিকে বিকল্প গণতান্ত্রিক পন্থা বা পদ্ধতি নির্ধারণ করাও অত্যান্ত জরুরি। এ দুইটি বিষয় নিয়ে বিএনপিকে একটি স্থির ও সাবলিল সিদ্ধান্তে অবশ্যই পৌঁছাতে হবে।

বিএনপি একটি উদারপন্থী দল, যাকে বলা যায় অতি উদার পন্থী। এখানে পুরস্কার ও তিরস্কারের অনেক ভাটা রয়েছে। ‘আপন’, ‘পর’ চেনার অনেক ঘাটতি রয়েছে। যারা দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় এবং যারা দলের জন্য জানজীবন দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দলের জন্য কাজ করে তাদের সকলকে একই পাল্লায় মূল্যায়ন করা হয়। অর্থাৎ ধান ও চিটা (মরা ধান) একই দরে বিক্রি হয়। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া অতি উদারপন্থী দলের চেয়ারপার্সন না হয়ে যদি কোনো কট্টরপন্থী দলের নেতা হতেন তবে নিশ্চয় তার মুক্তির আন্দোলনের দিনক্ষণ ঠিক করার জন্য ক্যালেন্ডারের দিকে তাকিয়ে থাকতে হতো না। অতি উদারতার কারণে ১/১১ সংস্কারপন্থীদের বিরুদ্ধে দল কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বিএনপি আইনজীবী সহযোগী সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়বাদী আইনজীবী ফোরাম নেত্রীর সাজা হওয়ার পর একদিনের জন্যও রাজপথে নামেনি। এবং এ জন্য কোনো জবাবদিহিতাও নেই। এটাই ভাগ্যের নির্মম পরিহাস। তবে এ অবস্থান থাকবে না, অবশ্যই এর অবসান হতে হবে, তাতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে ক্ষমতাসীন সরকার। কারণ শত প্রতিকূল অবস্থার মধ্যেও বিএনপি মাঠে নামার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে এবং এত জোর-জুলুম অত্যাচার করেও সরকার বিএনপিকে ভাঙ্গতে পারেনি।

তৃণমূল এখনো দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার একক নেতৃত্বের প্রতি সম্পূর্ণ আস্থাশীল। এতে এটাই প্রতিয়মান হয় যে, সরকার শত সহস্ত্র অত্যাচার নির্যাতন করেও বিএনপির মাথা নোয়াতে পারেনি। তবে সরকার একতরফা নির্বাচনের পথ সুগম করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে এবং এ জন্যই ইউনিয়ন ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা-কর্মী ছাড়াও সমর্থকদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে পুলিশি হয়রানি করছে। সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ন্যাৎসী বাহিনী হিসেবে জনগণের প্রতিপক্ষ হিসাবে দাড় করিয়ে আইনকে ব্যবহার করে নির্যাতন করছে। তবে তৃণমূল মনে করে যে, একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য খালেদা জিয়ার মুক্তিই শেষ কথা।

লেখক : কলামিস্ট ও আইনজীবী (অ্যাপিলেট ডিভিশন)

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়