শিরোনাম
◈ সংবিধান কি মনে করিয়ে দেয় এটা একাত্তরের পরাজয়ের দলিল? প্রশ্ন পার্থের ◈ গাজী আশরাফ লিপুর আনুষ্ঠানিকভাবে দা‌য়িত্ব শেষ হলো, এবার পা‌বেন সম্মাননা ◈ সাবেক খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম ক্যান্সার আক্রান্ত, চিকিৎসার আবেদন করেছেন তার আইনজীবী ◈ বিগত সরকারের দুর্নীতিতে স্থবির স্বাস্থ্যখাত, সেবা উন্নয়নে কাজ করছে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ◈ জলবায়ু ট্রাস্টের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে : পরিবেশ মন্ত্রী ◈ সেবা না পেয়ে বেশ কিছু শিশু মারা গেছে, বাংলাদেশের হাসপাতালে আইসিইউ এবং ভেন্টিলেশন সেবা কতটা আছে?  ◈ জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে সুখবর ◈ স্কুল চলাকালীন যানজট নিরসনে বিকল্প খুঁজতে নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ◈ ভারত সফরে জয়শঙ্কর-দোভালের সঙ্গে বৈঠক, জ্বালানি ও পানি ইস্যুতে গুরুত্ব ◈ ঢাকাসহ ১৪ জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ

প্রকাশিত : ০২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ০৯:০৪ সকাল
আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ০৯:০৪ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

নবজাতকদের নিয়ে যত কুসংস্কার

ডা. অমৃত লাল হালদার : হাসপাতালে নয়, আমাদের দেশের বেশিরভাগ শিশুর জন্ম হয় বাড়িতে, বিশেষ করে গ্রামে কেউ হাসপাতালে নিতেই চান না। ৮০ শতাংশেরও বেশি শিশুর জন্ম হয় পেশাজীবী দাই কিংবা অন্য বয়স্ক সদস্য, যেমনÑ দাদি, নানি বা অন্য আত্মীয়-স্বজনদের মাধ্যমে। অশিক্ষা, অজ্ঞতা ও কুসংস্কারের ফলে জন্মকালীন অনেক সমস্যা হয়। পরবর্তীকালে নবজাতকের যতœও ঠিকমতো হয় না। আবার এমন কিছু সামাজিক প্রথা আছে, যা চর্চার ফলে নবজাতকের জীবন বিপন্ন হয়। এমন কিছু প্রচলিত সামাজিক রীতি ও কুসংস্কার এখানে তুলে ধরা হলোÑ
ষ অনেকেই গর্ভকালে মাকে কম খেতে দেন। কেউ কেউ মায়ের পেটে নাভির ওপরে গামছা বা কাপড় দিয়ে শক্ত করে বেঁধে রাখেন, যাতে শিশু বড় না হয়। বড় শিশু ডেলিভারিতে সমস্যা হবেÑ এমন ধারণা তাদের। ডেলিভারির জন্য আলো-বাতাসহীন অন্ধকার ঘর ভালো, প্রদীপ কিংবা মোমবাতির আলো ব্যবহার করতে হবে, মাটির পাত্রে কয়লার আগুন মায়ের কাছে রাখতে হবেÑ এমন প্রচলিত কুসংস্কারও রয়েছে অনেক এলাকায়।

ষ ডেলিভারির পর নবজাতকের পা ওপরে দিয়ে মাথা নিচের দিকে ঝুলিয়ে রেখে মুখে ঠা-া পানির ঝাপটা মারা, পিঠে চাপড়, নাকে-মুখে-তালুতে ফুঁ দেওয়া এবং জন্মের সঙ্গে সঙ্গে স্নান করানো খুবই ভয়ঙ্কর কুসংস্কার।
ষ নাভি কাটার জন্য বাঁশের কঞ্চি বা জীবাণুমুক্ত নয়Ñ এমন ব্লেড ব্যবহার করা এবং নাভি কাটার পর নাভিতে ছাই, গোবর, হলুদ, পান খাওয়ার খয়ের, ঘি ইত্যাদি লাগানো হতে পারে শিশুর ইনফেকশন ও ধনুষ্টঙ্কারের বড় কারণ।
ষ বুকের দুধ নিয়েও রয়েছে ভুল ধারণা। শালদুধ ফেলে দেওয়া বা দেরিতে বুকের দুধ খাওয়ানো। বুকের দুধ না দিয়ে মধু, মিছরির পানি, শরবত বা গ্লুকোজের পানি দেওয়া, কৌটার দুধ খাওয়ানো ইত্যাদি অন্যতম।
ষ চোখ বা পায়ের নিচে কাজল, বিছানায়, গলায়, হাত-পায়ে দেশলাই, রসুন বা লোহার টুকরা রাখা, তাবিজ দেওয়া, কালো সুতা বেঁধে রাখাÑ রয়েছে এমন নানা রকম কবিরাজি।
এসব কুসংস্কারের কারণে আমাদের দেশে নবজাতকের মৃত্যুসহ নানারকম সমস্যা প্রায়ই দেখা যায়। সুশিক্ষা, জনসচেতনতা, শিশু জন্মের সময় হাসপাতাল, স্বাস্থ্য কেন্দ্র বা শিক্ষিত দাইয়ের শরণাপন্ন হওয়ার ব্যাপারে পরিবারের সবাইকে বিশেষ করে বাড়ির কর্তাব্যক্তিকে উদ্বুদ্ধ করলে নবজাতকের মৃত্যুহার অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।
লেখক : আবাসিক চিকিৎসক, বারডেম জেনারেল হাসপাতাল ও ইব্রাহিম মেডিক্যাল কলেজ, সেগুনবাগিচা, ঢাকা
সূত্র : আমাদের সময়

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়