প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মিনি সমুদ্র সৈকত আর ইছামতির মিতালি

ডেস্ক রিপোর্ট : ঢাকার কাছে দোহার ও নবাগঞ্জ। এখানে রয়েছে মন হরণের বিপুল সম্ভার। সৌন্দর্য়ের ভাণ্ডার। এ দেশেই জন্মেছে মহাকবি কায়কোবাদ। তাই যারা মহাকবি সম্পর্কে জানতে চান তারা বেশ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাবেন কবির জন্মভূমি আগলায় এলে। তার বাড়ির পাশেই প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদ উচ্চ বিদ্যালয়।
পাশেই রয়েছে পোস্ট অফিস। যেখানে তিনি পোস্ট মাস্টার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এখানে আরো দেখতে পাবেন কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের মতো বড় বড় ঢেউ। শুনতে পাবেন সমুদ্রের শোঁ শোঁ শব্দ। যেটি এখন দোহারের মিনি কক্সবাজার বলে অধিক পরিচিত। তাই এই ঈদে চলে আসুন হৃদয়ের মানুষ কায়কোবাদের দেশে।
মিনি সমুদ্র সৈকত: ঢাকার একেবারে কাছে। দোহারের কার্তিকপুরে। পিচঢালা রাস্তাটি মিশেছে সোজা পদ্মাপাড়ে গিয়ে। নাম তার মৈনটঘাট। ডানে-বাঁয়ে পদ্মার বালু চিকচিক করছে। আর এর সামনে রুপোর মতো চকচকে পানি। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের মতো পদ্মা নদী ঢেউ খেলছে। একটু পরপর পদ্মার ঢেউ কূলে আছড়ে পড়ছে। ছুটে চলছে মাছ ধরার ট্রলার। তীরে সব ভ্রমণপিপাসুদের ভিড়। তবে ঈদে ভিড় ছিল স্বাভাবিক সময়ের চাইতে কয়েকগুণ বেশি।
ঈদের দিন সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে লোকজনের সমাগম ঘটে। তবে ঈদের পরের দিন লোকজনের সমাগম ছিল আরো বেশি। ইটপাথরের শহর ছেড়ে এখানে মুক্ত পাখির মতো ঘুরে বেরিয়েছে ভ্রমণ পিপাসুরা। সবার চোখে মুখে ছিল আনন্দের ছোঁয়া। বাড়ি ফেরার সময় অনেকেই পদ্মার ইলিশসহ চেনা-অচেনা অনেক ধরনের মাছ সঙ্গে নিয়েছেন। পুরো নদীর তীর ও তার আশপাশের এলাকা সমুদ্র সৈকতের মতো সাজানো। বসানো ছিল খাট।
এখানে সকালবেলাটা খুব ভালো কাটে, দুপুর কিছুটা মন্থর, তবে বিকালবেলা অনেক বেশি জমজমাট। সোনা রোদের গোধূলিবেলার তো কোনো তুলনাই চলে না। মৈনটপাড়ের দোকানপাটে বেচাকেনা আর পদ্মার জলে ঘুরে বেড়ানো। পদ্মার দু’পাশের বিস্তীর্ণ ভূমি আর পদ্মার ঢেউ আঁছড়ে পড়ার দৃশ্যে আপনার সমুদ্র ঊর্মিমালার কথাই মনে হবে। আপনি হেঁটে হেঁটে চলে যাবেন বহুদূর। এখানে পদ্মার জলে পা ভিজিয়ে গল্প করতে পারেন। চাইলে মাছ ধরার চেষ্টা করতে পারেন। তবে অনেককেই মাছ ধরার বৃথা চেষ্টা করতে দেখা গেছে।
একসঙ্গে সূর্যাস্ত এবং সূর্যোদয়। দেখার একটা সুযোগ সবার মধ্যেই থাকে। আর যদি সেটা হয় সমুদ্রের ধারে। তাহলে তো কোনো কথাই নেই। সাত সকাল বেলা ঘুম টুম শিকেয় তুলে দৌড়ে যেতে পারেন সূর্যোদয় দেখতে। আর সন্ধেবেলা সূর্যিমামা যখন টুপ করে ডুব দেয়, তখনও আমরা তার সৌন্দর্যের দিকে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকি। এমন দৃশ্যও দেখা যাবে মিনি সমুদ্র বন্দরখ্যাত মৈনট ঘাটে। স্মৃতি ধরে রাখার জন্য তোলা যাবে নানা ঢঙের ছবি। হাতের মুঠোয় সূর্যি মামার ছবি। সমুদ্রের পেট চিরে কিভাবে সূর্য উঠে ও অস্ত যায় এমন দৃশ্য দেখে আপনার চক্ষু জুড়িয়ে যাবে। স্পিড বোটে পাড়ি দিতে পারেন পদ্মা নদী। ঘুরতে পারেন কিছু সময়ের জন্য। ঘাটেই রয়েছে বিভিন্ন ধরনের নৌযান। ঘণ্টা চুক্তি ঘুরতে পারেন পদ্মার তীর ধরে। এ সময় নৌযানের এক পাশে বসে পা দুটো পানিতে ছেড়ে দেয়া যেতে পারে। পানির ছোঁয়ায় আপনার পুরো শরীর ঠাণ্ডা হিম শীতল অনুভব হবে। নৌযানে পদ্মার ঢেউ আছড়ে পড়ার শব্দ। শুনতে পাবেন দূরের কোনো মাঝি কণ্ঠের গান। তখন অন্যরকম আনন্দ। যারা সাঁতার জানেন তারা নেমে যেতে পারেন নদীতে। ঢেউয়ের সঙ্গে গড়তে পারেন মিতালি। তবে গভীরে না যাওয়াই নিরাপদ।
ইছামতি নদী: পর্যটকের মনকে উতালা করে দেবে ইছমতি নদী। নৈর্সগিক সৌন্দর্য এখানে এসে জ্যোৎসনার মতো সৌন্দর্য ছড়িয়ে দিয়েছে। যে দিকে তাকাই নীল আকাশ আর সবুজের সমারোহ- ঢাকার নিকটবর্তী এ যেন পল্লী কবি জসীমউদদীনের ‘উদাসীন বনের বায়ু’। আর বক্ষে বয়ে চলেছে ইছামতি। দু’পাশ দিয়ে সবুজ মাঠ আর তেপান্তরের নীল আকাশ যেন মাঠ ছুঁয়ে আছে। ইছামতির আঁকাবাঁকা পথ যেন পথিককে পথ চিনতে তৈরি হয়ে আছে। ইছামতি নদী পর্যটকদের পছন্দের স্থানে পরিণত হয়েছে। ইছামতির রূপ আর লাবণ্য কিশোরীর রূপকেও হার মানায়। এখানে কলাকোপা অংশের ইছামতির স্বচ্ছ পানি। নদীতে হাসের ছোটাছুটি। গরুর নদী পারাপার। আর নদীর সবুজ কচুরিপানার দৃশ্য। চোখ জুড়িয়ে যাবে।
থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা: নবাবগঞ্জ কিংবা দোহারে কোনো আবাসিক হোটেল নেই। তবে মৈনট ঘাটে কিছু উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান হোটেল, মোটেল বা রেস্টহাউজ নির্মাণে এগিয়ে আসার কথা ভাবছেন। এখানে রাতযাপনের কোনো ব্যবস্থা নেই। সুতরাং, বর্তমানে এক দিনের ভ্রমণ পরিকল্পনাই এখানকার জন্য উপযুক্ত। তাছাড়া ঢাকা থেকে খুব সহজেই দিনে দিনে ঘুরে আসা সম্ভব। মৈনট ঘাটে খাবারের হোটেল আছে। টাটকা ইলিশ মাছ ভাজা দিয়ে চমৎকার খাওয়া হয়ে যায়। বড় ইলিশ খেতে চাইলে তার দাম একটু বেশি পড়ে যায়। ইলিশ ছাড়াও রয়েছে বোয়াল, চিংড়িসহ পদ্মা নদী বিভিন্ন রকমের টাটকা মাছের বিভিন্ন পদ। নিকটেই কার্তিকপুর বাজারে ফাস্টফুডসহ একাধিক খাবারের দোকান বা হোটেল আছে। কার্তিকপুরের আর একটি খ্যাতি রয়েছে, তা হলো এখানকার ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি। নিরঞ্জন মিষ্টান্ন ভাণ্ডার, রণজিৎ মিষ্টান্ন ভাণ্ডার সহ রয়েছে আরো বেশকিছু মিষ্টির দোকান। ২০০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যায় খাঁটি ছানায় তৈরি বিভিন্ন পদের মিষ্টি।
যেভাবে যেতে হবে: রাজধানী গুলিস্তান থেকে এন মল্লিক পরিবহনে নবাবগঞ্জের কলাকোপায় যেতে হবে। তবে প্রথমে মৈনট ঘাটে যেতে চাইলে সহজ ও সুবিধাজনক উপায়টি হচ্ছে যমুনা পরিবহনে। গুলিস্তানের গোলাপ শাহ মাজারের সামনে থেকে সরাসরি মৈনট ঘাটের উদ্দেশে ছেড়ে যায় যমুনা পরিবহনে বাস। প্রায় বিশ মিনিট পরপর বাস ছেড়ে যায়। জনপ্রতি ভাড়া পড়বে ৯০ টাকা। বাস ছেড়ে দেয়ার দুই থেকে আড়াই ঘণ্টার মধ্যে নামিয়ে দেবে মৈনট ঘাট। সারাদিন অতিবাহিত করার পর ফেরার সময় একই বাসে আবার ঢাকায় চলে আসতে হবে। সেক্ষেত্রে স্মরণ রাখা দরকার মৈনট থেকে ঢাকার উদ্দেশে শেষ বাসটি ছেড়ে যায় সন্ধ্যা ৬টায়। ঋতুভেদে কখনও কখনও সময়ের রকমফের হয়ে থাকে। ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে যেতে চাইলে একই রুট ধরে অর্থাৎ বাসের রুটেই যেতে হবে। তা ছাড়া ব্যক্তিগত গাড়ি করে ঢাকা থেকে এক দিনেই এসব বিনোদন কেন্দ্র ঘুরে আসা যায়।
সূত্র : মানবজমিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত