প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শিক্ষাখাতে মোট বাজেটের ২০ শতাংশ রাখার দাবি

জুবায়ের সানি : আসন্ন জাতীয় বাজেটে শিক্ষাখাতে কমপক্ষে ২০ শতাংশ বরাদ্দ রাখার প্রস্তাবে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভা করেছে ‘মুভমেন্ট ফর ওয়ার্ল্ড এডুকেশন রাইটস’।

রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু ভবন ক্যাফেটেরিয়ায় এই বাজেট প্রস্তাবনা ও মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। সভায় বাজেট প্রস্তাবনা পেশ করেন ফারুক আহমেদ আরিফ।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস।

অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক বলেন, ‘শিক্ষাখাতে যে বরাদ্দ বাড়ানো দরকার, এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। ঠিক কতটা বরাদ্দ বাড়ানো উচিত বা কতটা বাড়ানো সম্ভব এ সম্পর্কে এই বাজেট প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়েছে। আমাদের আগে দেখা দরকার শিক্ষা ক্ষেত্রে বাজেট বাড়িয়ে কোন কোন জায়গায় বিশেষভাবে বরাদ্দ করা দরকার।’

এসময় বর্তমান পাঠ্যসূচি পরিবর্তন দরকার এবং এই পরিবর্তনের জন্য যথেষ্ট বরাদ্দ দরকার বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠ্যসূচী, পাঠ্যক্রম এবং পাঠ্যপুস্তকে মৌলিক পরিবর্তন দরকার। টেক্সটবুক বোর্ড যে পাঠ্যসূচী, পাঠ্যক্রম এবং পাঠ্যপুস্তক তৈরী করে, এগুলোর সংস্কারের জন্যে অনেক টাকা দরকার এবং সে টাকা যদি সরকার বরাদ্দ দেয়, তবে উন্নতির দিকে যেতে পারবো আমরা।

বাংলা মাধ্যমকে গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলা মাধ্যমে প্রাথমিক, মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাকে আমরা মূলধারা মনে করি। ইংরেজি মাধ্যম প্রবর্তন করে এটাকে বিভাজিত করে দেয়া হয়েছে। এই জায়গায় আমাদের বিবেচনা করতে হবে, বাংলা মাধ্যমে শিক্ষার উন্নতির জন্যে, শিক্ষকদের উন্নতির জন্যে এবং ছাত্রবৃদ্ধির জন্যে বরাদ্দ বাড়াতে হবে। ইংরেজি মাধ্যম নিয়ে সরকার অনেক মনোযোগী, সেখানে ব্যয় বাড়ানোর কথা আমরা বলবোনা। সেখানে ব্যয় বাড়ানোর দরকার নেই।’

গবেষণার জন্যে বরাদ্দ বাড়ানোর কথা উল্লেখ করে অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, ‘গবেষণার মধ্য দিয়েই নতুন জ্ঞানের সৃষ্টি হয়। কাজেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান কাজ গবেষণা করা। কিন্তু সেইখানে রাষ্ট্র পর্যাপ্ত বরাদ্দ দিচ্ছেনা। বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলি শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখছে বলেই এগিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক, জঙ্গিবাদমুক্ত, মানবিক মূল্যবোধ, বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষাই প্রধান হাতিয়ার। সেই কারণে কমপক্ষে ২০ শতাংশ বরাদ্দ শিক্ষাখাতে করতে হবে। রাষ্ট্র বিনির্মাণে এর চেয়ে বড় বিনিয়োগ আর হয়না।’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত