প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

যে কোন ঋণ প্রস্তাব সর্বোচ্চ তিন ধাপে চূড়ান্ত করার নির্দেশ

সোহেল রহমান: রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর ঋণ প্রস্তাব মূল্যায়ন, অনুমোদন ও ঋণের মান উন্নয়নে যে কোন ঋণ প্রস্তাব সর্বোচ্চ তিন ধাপে চূড়ান্তকরণসহ ৭ দফা নির্দেশনা দিয়েছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। সম্প্রতি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের এক প্রতিবেদনে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকসহ রাষ্ট্রায়ত্ত সকল ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সমন্বিতভাবে এগুলো বাস্তবায়ন করবে।

অন্যান্য নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে ঋণ প্রস্তাব মূল্যায়নে জামানতের পাশাপাশি প্রকল্পের ক্যাশ-ফ্লো ও ঋণ ঝুঁকি (ক্রেডিট রিস্ক গ্রেডিং) যথাযথ বিশ্লেষণ করা এবং এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে একটি কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা গ্রহণ। ঋণ প্রস্তাব মুল্যায়নের সময়ই পর্যাপ্ত চলতি মূলধন সরবরাহের বিষয়টি নিশ্চিত করা, ঋণ গ্রহীতার তথ্য সংরক্ষণে বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে ‘সেন্ট্রাল কেওয়াইসি’ বা ‘ইলেকট্রনিক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ম্যানেজমেন্ট’ (ই-বিএএম) প্রতিষ্ঠা করা। ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে জামানত হিসেবে জমি বা ভূ-সম্পত্তি ব্যবহারে জালিয়াতি প্রতিরোধে জামানত গ্রহণে নীতিমালা প্রণয়নসহ এ সংক্রান্ত একটি কেন্দ্রীয় তথ্য কোষ গঠন। জামানত হিসেবে ব্যবহার্য জমির মূল্যমাণ নির্ধারণে সার্ভেয়ার/ক্রেডিট রেটিং কোম্পানির যোগ্যতা নির্ধারণসহ তালিকাভুক্তকরণ ও ইত্যাদি বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষাপূর্বক নীতিমালা প্রণয়ন। এলটিআর (লোন এগেইন্সট ট্রাস্ট রিসিপ্ট)/ বিল পারচেজ ধরনের নন-ফান্ডেড ঋণ সুবিধা প্রদানে সতর্কতা অবলম্বনসহ এ-সংক্রান্ত একটি নীতিমালা প্রণয়ন।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সূত্রে জানা যায়, অনেকগুলো ধাপ থাকায় ঋণ প্রস্তাব মূল্যায়ন ও অনুমোদনে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো প্রায় ক্ষেত্রেই দীর্ঘ সময় ব্যয় করে থাকে। কোন কোন ক্ষেত্রে কালক্ষেপন এত দীর্ঘায়িত হয় যে, এতে করে প্রস্তাবিত ঋণের প্রয়োজনীয়তা ও কার্যকারিতা ব্যাহত হয়। আবার বড় ধরনের প্রকল্প ঋণ বা অন্যান্য ঋণ প্রস্তাব মূল্যায়নে প্রাথমিক পর্যায়ে চলতি মূলধনের প্রয়োজন ও পরিমাণের বিষয়ে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয় না। একই সঙ্গে প্রকল্পে ব্যবহৃত কাঁচামালের ঊর্ধ্বগতি বা পরিবর্তনের বিষয়েও সতর্কতা অবলম্বন করা হয় না। এছাড়া কোন কোন ক্ষেত্রে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্বের কারণে কিংবা প্রযুক্তি পরিবর্তনের কারণে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও পরিচালন ব্যয়ের সম্ভাব্যতা বিবেচনায় না নেওয়ায় প্রকল্প বাস্তবায়নের পর উৎপাদনের শুরুতে চলতি মূলধান মঞ্জুর বা ছাড়করণে সমস্যা দেখা দেয় এবং চলতি মূলধনের অভাবে পুরোমাত্রায় উৎপাদন কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হয় না। এসব কারণে প্রকল্পটি রুগ্ন ও ঋণ গ্রহীতা খেলাপী হয়ে পড়ে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এ প্রেক্ষিতে ঋণ প্রস্তাব তিন ধাপে প্রক্রিয়াকরণ ও চলতি মূলধন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনে বিদ্যমান নীতিমালা বা গাইডলাইন সংশোধন করা যেতে পারে। পাশাপাশি ঋণ প্রস্তাব প্রক্রিয়াকরণ ও অনুমোদনে বিদ্যমান নীতিমালা নিয়মিত পর্যালোচনা করতে হবে।

অন্যদিকে ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে কোন কোন অসৎ গ্রাহক একই জমি বা ভূ-ম্পত্তি বিভিন্ন ব্যাংকে জামানত হিসেবে ব্যবহার করে থাকে। ঋণ প্রস্তাব মুল্যায়নে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের বিষয়ে বিশেষত প্রকল্পের প্রকৃতি, ক্যাশ-ফ্লো, ঋণ গ্রহীতা প্রতিষ্ঠানের ক্রেডিট রেটিং ইত্যাদি যথাযথভাবে পর্যালোচনা করা হয় না। ফলে প্রকল্প ত্রুটিপূর্ণ হয় ও টেকসই হয় না। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকগুলোতে ‘এলটিআর’ এর ব্যবহার অত্যধিক বেড়েছে। এটি ঋণ খেলাপীর অন্যতম কারণ বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত