প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ফেরা বা না ফেরা কী তারেকের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে?

আমাদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিদেশিদের নাক গলানো একটি ফ্যাশন। ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর ঢাকাস্থ কূটনীতিক ও বিদেশি দূতাবাসের রাষ্ট্রদূতদের অনেকেই বাঙালি জাতিকে জ্ঞান দেওয়া শুরু করলেন। টানা কয়েকমাস এদেশে একমাত্র আলোচনা ও গুঞ্জন ছিল, শেখ হাসিনার সরকারকে টিকতে হলে শিগগিরই আরেকটি নির্বাচন দিতে হবে। নতুবা এ সরকার টিকতেই পারবে না। বিদেশি কূটনীতিকরা ঘন ঘন রাজনৈতিক আলোচনায় আগ্রহ দেখাতে লাগলেন। আমরা গণমাধ্যমের লোকেরা পাল্লা দিয়ে খবর সংগ্রহ করতে লাগলাম। সঙ্গে প্রশ্নবোধক চিহ্ন। কী হতে যাচ্ছে?

বিশ্বের প্রভাবশালী দেশের সরকারপ্রধান বা রাষ্ট্রপ্রধানদের আমন্ত্রণে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হিসাবে সেসব সফর করেন। এসব দৃশ্য দেখে শেষতক চুপ হয়ে যান ঢাকাস্থ সেসব রাষ্ট্রদূতেরা। বছরখানেক পর রাজনীতির কণ্ঠস্বর বদলে গিয়ে শুরু হলো ‘মধ্যবর্তী’ নির্বাচনের কথা। তত্ত্বাবধায় সরকারের অধীন ছাড়া নির্বাচন অবাধ হবে না। প্রেসক্লাবে বড়বড় সোফায় হেলান দিয়ে বসা সম্মানিত বিশেষ কয়েকজন সাংবাদিক ২০১৪-এর নির্বাচনের পোস্টমর্টেম করেন। অনেকেই ঢেঁকুর তুলে এ বিষয়ে উচ্চমার্গে উচ্চারণ করেন এই বলে, ‘মিডটার্ম ইলেকশন’ ছাড়া উপায় নেই, জটিলতা নিরসনের একমাত্র পথ ‘ইলেকশন’। নির্বাচন ছাড়া কোনো গতি নেই শেখ হাসিনার। এগুলো করতে করতেই ২০১৭ এলো ‘নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার’ ইস্যু নিয়ে। বছর খানেক বিতর্ক চললো এ ইস্যু নিয়ে। সময় তো বসে থাকে না!

২০১০-এ দেখলাম বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ৬ নম্বর মইনুল রোডের বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হলেন। ডাকা হলো হরতাল। কয়েকদিন পর সবকিছু স্বাভাবিক। আমরা আরো দেখলাম, যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি একে একে কার্যকর হচ্ছে। বিশ্ববাসী অবাক চোখে তাকালো। এ কী? জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ’৭১ এর ঘাতকদেরও বিচার করছেন। তাঁকে ভয় দেখিয়েও কাজ হচ্ছে না। বিশ্বের ডাকসাইটে মোড়লরাও অবাক হলেন। বিমানে চড়ে ঢাকায় চলে এলেন। না, রেজাল্ট জেরো। এরপর দুর্নীতির বিচার চলতে থাকলো। খালেদার বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলার রায় এলো। তিনি পুরান ঢাকায় জেলে গেলেন। তার পুত্র তারেক রহমান দ-িত হয়ে লন্ডনে। এবার নতুন ইস্যু। ইস্যুটি হচ্ছে, খালেদা জিয়া ছাড়া নির্বাচনে যাবে না বিএনপি। আসলেই জানা দরকার কোথায় গিয়ে ‘থামতে হয়।’ সবচেয়ে বড় বিচারক জনগণের বিবেক।

বিএনপির ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জয়নুল আবদিন ফারুকরা যতরকম ব্যাখ্যাই দেন না কেনোÑ তারেক রহমান বাংলাদেশে ফিরবেন কী ফিরতে চাইবেন না Ñ এটা তো বিএনপির ইচ্ছায় হবে না। তারেক রহমান কী নিজের ইচ্ছায় লন্ডন পাড়ি দিয়েছিলেন? লাল রং কী কখনো সাদা হয়? না, যেমন গোখরার পেটে কুমির হয় না। সুতরাং ইতিহাস কত নিষ্ঠুর ও সত্য হতে পারে তা দেখবার জন্য কিছুদিন অপেক্ষা করতেই হবে। বিদেশিরা কী ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে? অথচ এ দেশীয় কুলাঙ্গারেরা এমন খোয়াবই দেখেন। আমরা অতিসহজেই অনেক ঘটনা বিস্মরিত হই। রাজনীতি না করবার ‘মুচলেকা’ দিয়েও লন্ডনে গিয়ে কেউ কেউ রাজনীতির ‘ছবক’ দেন।

এমনকি ক্ষমতায় ফিরে আসবার স্বপ্নও দেখেন। তাদের চোখে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন। বিদেশে অবস্থান করেও এমন ভাবনা! অতীতে আমরা স্যার স্টিফেন নিনিয়ানের কথা শুনেছি। বান কি মুন তো সিরিয়াস হয়ে গিয়েছিলেন। ’১৪ সালে ফার্নান্দেজকে পাঠিয়েছিলেন। লাভ হয়নি। ’৯০ এর কথা বা ১৯৯৬-এর ফেব্রুয়ারির কথা যদি বলি? ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে কেনো ভাবি না। এদেশে বিদেশি কেউ কী কখনো রাজনীতির সমাধান করে দিয়েছিল? অনেকে টকশোয় ইনিয়ে বিনিয়ে বলে থাকেন, আওয়ামী লীগ আর বিএনপি-এ দুই দলের জেদাজেদির রাজনীতিতে মধ্যস্থতার চেষ্টায় কমনওয়েলথের মহাসচিব এমেকা আনইয়াকুর প্রতিনিধি হিসেবে ১৯৯৪ সালে স্যার নিনিয়ন ঢাকায় এসেছিলেন। কিন্তু তারা এটা বলেন না যে, তিনি তখন বুঝে গেছেন; বাংলাদেশের রাজনীতি এক ভয়ঙ্কর জটিল জিনিস।

১৯৭১-এ রক্তক্ষয়ী মহান মুক্তিঙযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত এই স্বাধীন জাতির অসংখ্য অর্জন আছেÑ যা বিশ্বের অনেক দেশেরই নেই। ২০০৭ সালের ২২ জানুয়ারি নির্বাচনের আগে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে অনেকগুলো বক্তৃতা রয়েছে। সেগুলো একসঙ্গে করা হলে মূল্যায়ণ করা সহজ হবে। তখন কী বলেছিলেন খালেদা জিয়া? তাঁর সে সময়কার কথাগুলো একত্রে মিশিয়ে একটি ম্যানুফেস্ট ছাপিয়ে বিলি করা উচিৎ আওয়ামী লীগের। তার বক্তব্যতে স্পষ্ট ছিল; সংবিধানের কথা। সংবিধানের দোহাই। কীভাবে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করা যায়Ñ এর ব্যাখ্যাও সেখানেই আছে। অথচ এখন অনেকে বলেন, সংবিধানই সবকিছু নয়।

লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক, কলামিস্ট ও ঔপন্যাসিক/ সম্পাদনা : মোহাম্মদ আবদুল অদুদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত