প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্রবাসীদের ভোট দেয়া নয় বরং এনআইডি দেয়া জরুরি : ইসির সম্মেলনে বক্তারা

সাইদ রিপন : প্রবাসীদের ভোট দেয়া নয় বরং জাতীয় পরিচয়পত্র দেয়া জরুরি বলে মনে করছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সম্মেলনে অংগ্রহন করা বক্তারা। এছাড়া দ্বৈত নাগরিকদের জাতীয় পরিচয়পত্র না দেয়া এবং তাদের ভোটাধিকারও না থাকার দাবি তুলেছেন তারা।

বৃস্পতিবার হোটেল সোনারগাঁওয়ে ‘প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকদের জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদান ও ভোটাধিকার প্রয়োগ’ সংক্রান্ত এক সেমিনারে এই দাবি জানান তারা। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদার সভাপতিত্বে সেমিনারে সাবেক ও বর্তমান রাষ্ট্রদূতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাখাওয়াত হোসেন বলেন, প্রবাসীদের একটি সমস্যা সমাধান করলেই হয় সেটা হলো তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার বিষয়। এটা নিশ্চিত করা গেলে তারা অটোমেটিক জাতীয় পরিচয় পত্র পাবে। অন্যান্য সুবিধাও পাবে। তিনি বলেন, ১২০টি দেশে তারা প্রবাসীদের ভোট দেয়ার ব্যবস্থা করেছে। এর মধ্যে এশিয়ার আছে ২০ টি দেশ। প্রবাসীদের ভোট দেয়ার ব্যাপারে ২০০৮ সালে আইনী কাঠামো করা হয়েছিল। কিন্তু এর পর ৫ বছর এটা নিয়ে আর কাজ করা হয়নি। তাই আমি নির্বাচন কমিশনকে বলবো, প্রবাসীদের কিভাবে ভোটার করা যায় সেজন্য একটি সেল গঠন করতে। প্রবাসীদের ভোট করার বিষয় তারাহুড়ো করার প্রয়োজন নেই। কারণ আগামী নির্বাচনে প্রবাসীদের ভোট দেওয়ার বিষয়টি কাজ করবে না।

সাবেক কূটনীতিক শমসের মবিন চৌধুরী বলেন, আমাদের প্রবাসীদের প্রথমে জাতীয় পরিচয় পত্র দিতে হবে। এরপর দেখতে হবে কিভাবে তারা ভোট দিতে পারে। কারণ জাতীয় পরিচয় পত্র না থাকায় অনেক প্রবাসীরা জমি ক্রয়-বিক্রয়সহ বিভিন্ন সমস্যায় পরে। তারা দেশে এসে বিভিন্ন সেবা পেতে হয়রানির শিকার হয়। প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা মসিউর রহমান বলেন, দ্বৈত নাগরিকদের ভোট দেয়া সংবিধান অনুমতি দেয়নি। এজন্য এটা আলোচনা না করাই ভাল। প্রবাসীদের ভোট দেয়ার অধিকার, তাদের কীভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করা যায় সেটা আলোচনা করা দরকার। এ সময় পোস্টাল ভোট বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কতটুকু কার্যকর তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মশিউর। তিনি বলেন, এ পদ্ধতিতে কে ভোট দিয়েছে তা শনাক্তকরণ দুরূহ ব্যাপার।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে মহাপরিচালক কনসুলার নাহিদা রহমান সুমনা জানান, প্রবাসীদের সংখ্যা এখন দেড় কোটি। তারা দেশের অর্থনীতিতে বিশেষ অবদান রাখছে। তাদের ভোটের অধিকার দেয়া আমাদের দায়িত্ব। তবে দ্বৈত নাগরিকদের নিয়ে ভাবতে হবে। ব্রাজিল, ফ্রান্স, ভারতে ইভিএম পদ্ধতি চালু আছে। এ পদ্ধতিতে কিভাবে ভোট নেয়া যায় সেটাও আমাদের দেখতে হবে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের নির্বাহী পরিচালক ড. ইয়ামিন আকবরি বলেন, এক কোটি ১৫ লক্ষ আমাদের প্রবাসী । এর ৩০ শতাংশ রয়েছে সৌদি আরবে। দেখা যায় অনেক প্রবাসীদের জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকার কারণে তাদের আমাদের সেবা দিতে সমস্যা হচ্ছে। তারা ব্যাংকিং সুবিধা, ড্রাইভিং লাইসেন্স না পাওয়াসহ বিভিন্ন সমস্যায় পড়ছে। অনেক সময় প্রবাসীরা দুর্ঘটনার সম্মুখীন হয় সে সময় তাদের সহায়তা করতেও আমাদের সমস্যা হয়। বিশেষ করে যারা ২০০০ সালের আগে বিদেশে গিয়েছে তারা। কারণ তাদের বেশিরভাগেরই জাতীয় পরিচয়পত্র নেই।

যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের ডেপুটি মিশন প্রধান মাহবুব হাসান সালেহ বলেন, ডুয়েল সিটিজেনদের যেহেতু নির্বাচনে যেহেতু প্রার্থী হওয়ার অধিকার নেই। তাই তিনি ভোটারও হতে পারবে না। প্রথমে যারা দ্বৈত নাগরিক নয় তাদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা হোক। সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ বলেন, প্রবাসীদের প্রথমে প্রয়োজন তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি)। এটা করে দিবে এর জন্য একটা সময় নির্ধারণ করুন। আমি দেখেছি এনআইডি না থাকার কারণে প্রবাশীদের দেশে টাকা পাঠাতেও সমস্যা হচ্ছে।তারা দেশে এসেও পদে পদে সমস্যার সম্মুখিন হচ্ছে।

মালয়েসিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম বলেন, প্রবাসীদের এনআইডি যেন দেয়া হয় সেবিষয়ে নির্বাচন কমিশন যেন দ্রুত পদক্ষেপ নেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, কি নোট পেপারে (নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক উপস্থাপন করেন) দেখানো হয়েছে আমাদের প্রবাসী ৭৫ লাখ। প্রবাসী কল্যান মন্ত্রণালয়ে থেকে জানানো হয়েছে আবার আরেক তথ্য। পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় থেকে দিলো আরেক তথ্য। তিনটি প্রতিষ্ঠানই কিন্তু সরকারি। আসলে আমাদের প্রবাসী কত। ১০ থেকে ১৫ হাজার হেরফের না হয় মানা যায়। তাই বলে পঞ্চাশ হাজার থেকে ৭৫ হাজার পার্থক্য এটা কিভাবে হয়।

তিনি বলেন, প্রবাসীদের সঠিক তালিকা করে তারা জেন ভোট দিতে পারে সে ব্যবস্থা আমদের করতে হবে। আমাদের সংবিধানে সকল নাগরিকের ভোট দেয়ার অধিকারের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু সে অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে পারিনি। প্রবাসীদের ভোট দেয়ার সুযোগ তৈরী করতে পারিনি। আমরা কিন্তু প্রবাসীদের টাকা কিভাবে আনবো সেই পদ্ধতি ভালোভাবেই চালু করেছি। কিন্তু আমাদের উচিত ছিল টাকা আনার সঙ্গে সঙ্গে তারা যেন ভোট দিতে পারে সে ব্যবস্থা করার। আমাদের এখন আর এ ব্যপারে সময় নষ্ট করা যাবে না দ্রুত প্রবাসীদের ভোট দেয়ার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। তবে কিভাবে তারা ভোট দিবে এটা নিয়ে আমাদের আরও আলোচনা প্রয়োজন। সে ক্ষেত্রে যারা এ বিষয়ে যে দেশগুলো সফল হয়েছে তাদের কাছ থেকে আমরা পরামর্শ নিতে পারি।

জাতীয় পার্টির (জাপা) কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেন, পোষ্টাল ভোট পদ্ধতিটা প্রথমে আমরা প্রয়োগ করে দেখতে পারি। প্রসঙ্গত, পোস্টাল ভোট পদ্ধতিতে একজন প্রবাসী তার পছন্দমত যেকোনো জায়গা থেকে ভোট দিতে পারেন। আবেদন করলে ওই ঠিকানায় আগে থেকে ব্যালট পেপার সরবরাহ করে নির্বাচন কমিশন। ভোট দেয়ার পর তা দেশে ডাকযোগে পাঠিয়ে দেয়া হয়। এ পদ্ধতি প্রবাসীদের জন্য ২০০৮ সাল থেকে চালু আছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত