প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ট্রিট নেশায় যুবসমাজ

ডেস্ক রিপোর্ট : ‘ট্রিট’ নেশায় ভাসছে যুবসমাজ। এর সঙ্গে শরিক হচ্ছেন অন্যরাও। নতুন চাকরি হয়েছে? বন্ধুদের বায়না – হয়ে যাক ‘ট্রিট’। আবার প্রথম বেতন পেয়েছেন তাতেও লাগবে ‘ট্রিট’। পদোন্নতি পেয়েছেন? এতেও রক্ষা নেই। সন্তান হয়েছে? আর যায় কোথায়? ট্রিটতো লাগবেই।
পাবলিক পরীক্ষায় ভালো ফলাফল, জন্মদিন, বিয়েবার্ষিকী কোনো কিছুই বাদ যায় না ‘ট্রিট’ থেকে।

ইদানিং ট্রিটের সঙ্গে যোগ হয়েছে লং ড্রাইভও। উচ্চবিত্তরা বিমানে চড়ে চলে যান দেশের বাইরে। কোনো সুসংবাদের আনন্দ বন্ধুদের নিয়ে মজা করতে। সঙ্গে চলে খাওয়ার পর্ব। একসঙ্গে ভালো কিংবা নামি চাইনিজ রেস্টুরেন্টে খাওয়ার পালা। আনন্দ-উৎসবে মেতে ওঠা। শুধু উচ্চবিত্তই নয়, এ ট্রিট প্রথা ছড়িয়ে পড়েছে গ্রামেগঞ্জেও। বর্তমান সময়ে এ ‘ট্রিট’ যেন রীতিতে পরিণত হয়েছে।

রাজধানীর টিকাটুলীতে বাস করেন ব্যবসায়ী জুম্মন চৌধুরী। গত বৃহস্পতিবার তার এক বন্ধুর ছিল জন্মদিন। আর এ দিনটিতে বন্ধু করেছে আয়োজন। মিরপুরের নিজ বাসায় চারবন্ধুর পরিবার মিলে করেছে সারারাত আড্ডা, খাওয়া, নাচ, গান। ফূর্তিতে কেটেছে সময়। খাওয়া-দাওয়াও ছিল বাহারি। চারবন্ধুর সন্তানরাও রাতব্যাপী আনন্দে মেতেছিল। নাচ, গানে মত্ত ছিল।

এ ব্যাপারে জুম্মন চৌধুরী বলেন, আসলে বেঁচে থাকার সংগ্রামে সন্তান-পরিবারকে তেমন একটা সময় দেয়া হয় না। তাই বন্ধুর জন্মদিনে ‘ট্রিটে’ আমন্ত্রণ জানায়। সেখানে চারবন্ধুর পরিবার মিলে অনেক আনন্দ করেছি। বিষয়টিকে তিনি পজিটিভ ভাবছেন।

ঢাকা ইউনিভার্সিটির মনোবিজ্ঞানের ছাত্র মুন্না একটি কোচিং সেন্টার খুলেছেন। বন্ধুদের বায়না- তাদের ‘ট্রিট’ করতে হবে। বায়না রক্ষা করতে একটি মাইক্রোবাস নিয়ে চলে যান মাওয়া ঘাটে। সেখানে তাজা ইলিশ ও নানা লোভনীয় খাবার খেয়ে ফিরে আসেন ঢাকায়।

মুন্না জানান, ট্রিট এখন ফ্যাশন হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোনো সুসংবাদ হলেই বন্ধুরা মিলে ‘ট্রিট’-এ মেতে উঠেন।

একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্সের ছাত্র জীবন লস্কর। পরশু রাতে এসেছিলেন একটি নামকরা চায়নিজ রেস্টুরেন্টে। সঙ্গে বন্ধু-বান্ধব। জীবন জানান, এদিন তার জীবনে প্রথম প্রেম এসেছিল। অর্থাৎ প্রেমিকার সঙ্গে প্রেমের শুরু। তাই এ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে এ আয়োজন। বন্ধু-বান্ধবরা তাদের এ বিষয়টি জানে। তারাই আবদার করেছে ট্রিটের। জীবন বলেন, দিনটি আসলেই আমার জীবনে স্মরণীয়। এদিনে আমাদের প্রেমের শুরু। আশা রাখি আমরা আমাদের প্রেমকে পরিণত করব। ঘর বাঁধবো। সুখী দম্পতি হিসেবে রেকর্ড করবো। ট্রিট সম্পর্কে জীবন বলেন, এটা আসলে বর্তমান সময়ে একটি প্রথা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর যেমন ভালো দিক আছে, আবার খারাপ দিকও আছে। যেমন ধরুন কারো কাছে সে পরিমাণ টাকা নেই। তখন তাকে বিপদে পড়তে হয়। ঋণ করতে হয়। মান-সম্মান ও লজ্জায় বন্ধুদের আবদার রক্ষা করতে হয় ঋণ করে। শুধু কোনো সুসংবাদ নয়, ইদানিং প্রেমিক জুটি, বন্ধু-বান্ধব, নববিবাহিত স্বামী-স্ত্রীরাও সময় কাটান আলো-আঁধারির রেস্টুরেন্টে।

এ ব্যাপারে এশিয়া প্যাসিফিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সিগমা রেজা জ্যোতি বলেন, ঢাকা শহরে ঘুরতে যাওয়ার স্থান কম। তাই বেশির ভাগ সময় বিশেষ দিনগুলোতে রেস্টুরেন্টে চলে আসি। প্রধান কারণ বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো। আবার অনেকেই বিশেষ খাবারের জন্যও ট্রিট-এর ব্যবস্থা করেন।

খুলনার ঐতিহ্যবাহী খাবার চই দিয়ে রান্না করা মাংস খেতে অনেকেই ছুটে যান ধানমন্ডিতে অবস্থিত ‘চই ঝাল’-এ। আবার শংকরের বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে নতুন মাত্রা যোগ করেছে ‘আঞ্চলিক খানা’। এখানে বিভিন্ন অঞ্চলের খাদ্য যেমন- পাহাড়ি অঞ্চলের বাঁশের বিরিয়ানি, চট্টগ্রামের মেজবানের মাংস, হরেক রকমের ভর্তা খেতে ছুটে যান যুবকরা। বার্গার, পিজ্জা, স্যান্ডুইচ, ফ্রাইড রাইস, চিকেন ফ্রাই, গ্রিল মাশরুম, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, স্টেক, পাস্তা, নাচোজ ইত্যাদি খাবারের জন্য রয়েছে ডার্ক মিউজিক ক্যাফে, ক্যাফে ধুম, বার্গার কিং, আমেরিকান বার্গার, কমিক ক্যাফে সহ অনেক রেস্টুরেন্টে।

ঢাকা শহরে রয়েছে অনেক কাচ্চি বিরিয়ানি, তেহারির দোকান। পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী এই খাদ্য ছড়িয়ে পড়েছে পুরো ঢাকা শহরে। এসব খাবারের জন্য ভোজন রসিকরা ভিড় করেন সুলতান ডাইন, স্টার কাবাব, কলিকাতা বিরিয়ানি হাউজ, নবাব, হাজীর বিরিয়ানি ইত্যাদি দোকানে। স্যুপ ও হালিম পছন্দ করেন যারা তাদের জন্য পছন্দের স্থান মোহাম্মদপুরের সলিমুল্লাহ রোডের বেশ কয়েকটি দোকান।

বসুন্ধরা মার্কেট, যমুনা ফিউচার পার্ক, রাইফেল্‌স স্কয়ার, গুলশান, পূর্বাচল ৩০০ ফিট রাস্তা, বেইলী রোডে রয়েছে নজরকাড়া সব রেস্টুরেন্ট। মোহাম্মদপুর ক্যাম্পের মোস্তাকিমের চাপ, বোবার বিরিয়ানি কিংবা বটের সুখ্যাতিও সবার মুখে মুখে। সেইসঙ্গে শহরের আনাচে-কানাচে গড়ে উঠেছে গ্রিল ও শর্মার দোকান। এসব খাবারের জন্য ভোজন রসিকদের প্রিয় রেস্টুরেন্ট কস্তুরি, লেবান, শর্মা হাউজ। কফিপ্রেমীদের জন্য অন্যতম নাম আপন কফি হাউজ, গ্লোরিয়া জিন্স। জ্যুসপ্রেমীদের ভিড় দেখা যায় পুরান ঢাকার বিউটির জ্যুস সহ অনেক দোকানে।

খাদ্য রসিকদের আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করেন রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ীরা। সম্প্রতি চালু হয়েছে রোবট রেস্টুরেন্ট। আবার নামের মাঝে ভিন্নতা দেখা যায় যেমন- ভূতের বাড়ি, চাপ সামলাও, ট্রাম্প ক্যাফে, ফিল্মি ক্যাফে, বিয়ে বাড়ি, পেটুক ইত্যাদি। কোনো বিশেষ দিন বা সুসংবাদে দল বেঁধে পরিবার, কিংবা বন্ধুদের নিয়ে জমে ওঠে ট্রিট। তথ্যসূত্র : মানবজমিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত