প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ঘরে ঘরে চাকরি কতদূর?
নির্বাচনী ইশতেহার ৯ বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি

ডেস্ক রিপোর্ট : নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইসতেহারে ছিল ‘ঘরে ঘরে চাকরি’ দেয়ার প্রতিশ্রুতি। ওই সরকারের ৫ বছর এবং ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনের পর ৪ বছর টানা ৯ বছরের শাসনামলে ঘরে ঘরে চাকরি বাস্তবায়নে নেতম অগ্রগতি নেই। এই কর্মসূচি প্রাথমিক ভাবে ২০০৯-২০১০ অর্থ বছরে কুড়িগ্রাম, বরগুনা ও গোপালগঞ্জ জেলায় বাস্তবায়ন শুরু হয়। পরবর্তীতে কুমিল্লাসহ কয়েকটি জেলায় বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু ‘ঘরে ঘরে চাকরি’ দলীয় নেতাকর্মীর বাইরে কাউকে নেয়া হয়েছে এমন তথ্য তেমন নেই। অথচ সরকারি দলের নেতারা দাবী করছেন ঘরে ঘরে চাকরি দেয়া হয়েছে-হচ্ছে। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি বলেন, সরকার ক্ষমতায় বেকার সমস্যা সমাধনে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ন্যাশনাল সার্ভিস চালু করেছে। এখন প্রতিটি গ্রামে ঘরে ঘরে একজন করে কর্মসংস্থান করা হয়েছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মহাপরিচালক মোঃ আমীর হোসেন ইনকিলাবকে বলেন, দেশের বেকার সমস্যা সমাধনে সরকার নানামুখি পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বেকার যুবক ও যুবনারীদের অস্থায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচি সূচি কার্যক্রম চলছে। আগামীতে আরো বাড়তে পারে।
সুত্র জানায়, ঘরে ঘরে চাকরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৮ সালের নির্বাচনে ইসতেহারে ঘোষণা দিয়েছিলেন তা আজও বাস্তাবয়নের পথে, ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচীর আওতায় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অনেক কিছু শেখার রয়েছে, এ প্রশিক্ষণে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অন্যতম মাধ্যম কম্পিউটার শিক্ষা, গবাদী পশু পালন, শাক সবজি চাষসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণ চলাকালীন প্রত্যেক প্রশিক্ষণার্থীকে দৈনিক ১০০/- টাকা হারে প্রশিক্ষণ ভাতা এবং প্রশিক্ষণোত্তর অস্থায়ী কর্মসংস্থানে নিয়োজিত হওয়ার পর দৈনিক ২০০/- টাকা হারে কর্মভাতা প্রদান করা হয়। কর্মভাতা হতে প্রত্যেকে মাস শেষে ৪০০০ টাকা নগদ পায় এবং অবশিষ্ট ২০০০ টাকা সংশ্লিষ্টদের ব্যাংক হিসাবে জমা থাকে যা অস্থায়ী কর্মের মেয়াদ পূর্তিতে ফেরত প্রদান করা হয়। দ্বিতীয় পর্বে রংপুর বিভাগের ৭টি জেলার ৮টি উপজেলায় ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচি ২০১১-২০১২ অর্থ বছরে সম্প্রসারণ করা হয়। তৃতীয় পর্বে দেশের দরিদ্রতম ১৭টি জেলার ১৭টি উপজেলায় ২০১৪-২০১৫ অর্থ বছরে, ২০১৫-২০১৬ অর্থ বছরে চতুর্থ পর্বে ৭টি জেলার ২০টি উপজেলায়, পঞ্চম পর্বে ১৫টি জেলার ২৪টি উপজেলায়, ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে ষষ্ঠ পর্ব এবং সপ্তম পর্ব সম্প্রসারণ করা হয়েছে । প্রথম ও দ্বিতীয় পর্বের অস্থায়ী কর্মসংস্থানে মেয়াদ ইতোমধ্যে সমাপ্ত হয়েছে এবং তৃতীয় পর্বের অস্থায়ী কর্মসংস্থানের মেয়াদ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ এ সমাপ্ত হবে। অস্থায়ী কর্মসংস্থান উপজেলা প্রশাসন, আইন শৃংখলা রক্ষা, স্কুল, কলেজ, মাদরাসা, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা হাসপাতাল, ক্লিনিক, ব্যাংক ও বিভিন্ন সেবামূলক সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে সৃষ্টি করা হয়েছে। কর্মসূচির প্রশিক্ষণ ও অস্থায়ী সংযুক্তির অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে একজন যুবক/যুবমহিলা কর্ম-সমাপনান্তে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নির্মাণে সক্ষম হবেন। পর্যায়ক্রমে এ কর্মসূচি দেশের সকল জেলা ও উপজেলায় সম্প্রসারণ করার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।
বর্তমান সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রæতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে উচ্চ মাধ্যমিক ও তদূর্ধ্ব পর্যায়ের শিক্ষায় শিক্ষিত আগ্রহী বেকার যুবক ও যুবনারীদের জাতি গঠনমূলক কর্মকাÐে সম্পৃক্তকরণের মাধ্যমে অস্থায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ‘ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচি সূচি চালক করা হয় ২০১০ সালে। এটি সরকারের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত একটি কর্মসূচি, যা মন্ত্রিসভা কর্তৃক অনুমোদিত ‘ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচি নীতিমালা’ দ্বারা পরিচালিত হয়ে আসছে। ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচির অনুমোদিত নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষিত বেকার যুবক ও যুবনারীদের দশটি সুনির্দিষ্ট মডিউলে তিনমাস মেয়াদি মৌলিক প্রশিক্ষণ প্রদানের পর জাতি গঠনমূলক কর্মকাÐে সমপৃক্ত করণের মাধ্যমে অস্থায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হয়। প্রশিক্ষণ চলাকালীন প্রত্যেক প্রশিক্ষণার্থীকে দৈনিক ১০০ টাকা হারে প্রশিক্ষণ ভাতা প্রদান করা হয়। উপজেলা প্রশাসন, আইন শৃংখলা রক্ষা কার্যক্রম, স্কুল, কলেজ, মাদরাসা, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা হাসপাতাল, ক্লিনিক, ব্যাংক, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর ও বিভিন্ন সেবামূলক সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে অস্থায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হয়ে থাকে। একর্মসূচি প্রাথমিকভাবে পাইলট কর্মসূচি হিসেবে ২০০৯-২০১০ অর্থবছরে ৩টি জেলায় বাস্তবায়ন শুরু হয়। অতঃপর মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত মতে দেশের দারিদ্র্য ম্যাপ অনুযায়ী সর্বোচ্চ দারিদ্র এলাকা হতে ক্রমনি¤œানুযায়ী পর্যায়ক্রমে পর্বভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।
ন্যাশনাল সার্ভিস পাইলট কর্মসূচি ঃ ২০১০ কার্যক্রমভুক্ত এলাকাগুলো ছিল কুড়িগ্রাম, বরগুনা ও গোপালগঞ্জ জেলার ১৯টি উপজেলা। ১ম পর্বের উপকারভোগীর ছিল ৫৬ হাজার ৫৪ জন। ২০১৩ ১ম পর্বের কার্যক্রমের মেয়াদ শেষ হয়। ১ম পর্বের মোট ৫৬৮০১ জনকে ৪৪.৩৮ কোটি টাকা প্রশিক্ষণভাতা, ৫৬০৫৪ জনকে ৭৪৯.৪২ কোটি টাকা কর্মভাতা প্রদান করা হয়। পরিচালনা ব্যয়সহ মোট ব্যয় হয় ৮৪৮.২৬ কোটি টাকা। ২০১৩ কার্যক্রম বিস্তার করা রংপুর বিভাগের কুড়িগ্রাম ব্যতীত ৭টি জেলার ৮টি উপজেলা। এ পর্বের মোট উপকার ভোগীর ১৪ হাজার ৪৬৭ জন। তা ২০১৬ শেষ হয়। উপকারভোগীদের প্রদত্ত সুযোগ ১৪হাজার ৫১৫ জনের জন্য প্রশিক্ষণভাতা হিসেবে ১০.৯৯ কোটি টাকা এবং ১৪৪৬৭ জনের কর্ম ভাতা হিসেবে ১৮০.০০ কোটি টাকা প্রদান করা হয়। এ পর্বে উপকারভোগীদের ফেরতযোগ্য সঞ্চয় বিতরণ করা হয় ৬৯.৪৪ কোটি টাকা (কর্মভাতায় অন্তর্ভুক্ত) কর্মসংযুক্তির মেয়াদ শেষে ৭০৫ জনের কর্মসংস্থান ঘটে এবং ৯৬৪১ জনের আত্মকর্মসংস্থান সূচিত হয়। কর্মসংস্থানের হার ৪.৮৭ এবং আত্মকর্মসংস্থানের হার ৬৬.৬৪। এর পরে ১৭টি জেলার ১টি করে ১৭টি উপজেলা ময়মনসিংহ নান্দাইল উপজেলা, জামালপুর দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা, শেরপুর শেরপুরসদর উপজেলা, রাজবাড়ী গোয়ালন্দ উপজেলা, শরিয়তপুর গোসাইরহাট উপজেলা, কুমিল্লা মনোহরগঞ্জ উপজেলা, চাঁদপুর হাইমচর উপজেলা, বান্দরবান থানচি উপজেলা, সিরাজগঞ্জ চৌহালী উপজেলা, নাটোর সিংড়া উপজেলা, খুলনা তেরখাদা উপজেলা, বাগেরহাট চিতলমারী উপজেলা, সাতক্ষীরা শ্যামনগর উপজেলা, মাগুরা মোহাম্মদপুর উপজেলা, বরিশাল মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা, পিরোজপুর কাউখালী উপজেলা, ঝালকাঠি নলছিটি উপজেলা । এসব জেলা ও উপজেলা ২০১৫ সালে কাযক্রম চালু করা হয়। এতে মোট প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারী ১৬ হাজার ৩৪২ জন। মোট কর্মসংযুক্তি যুবর সংখ্যা ১৪ হাজার ৮০৩ জন বর্তমানে অস্থায়ী সংযুক্তিতে রয়েছে ৩ হাজার ৮৬০ জন। ৩০শে জুন ২০১৭-এ ২ বছরান্তে ১০ হাজার ৯৪৩ জনের কর্মসংযুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে। চলতি মাসে শেষ হবে। এতে প্রশিক্ষণভাতা হিসেবে ১১.২৫কোটি টাকা এবং কর্ম ভাতা হিসেবে ১৫৭.৫৫ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ফেরতযোগ্য সঞ্চয় বিতরণ করা হয়েছে ৫২.৫৩ কোটি টাকা (কর্মভাতায় অন্তর্ভুক্ত)। কার্যক্রমের সম্ভাব্য মোট ব্যয় ১৯০ কোটি ১৫ লক্ষ টাকা। উপকারভোগীর যোগ্যতাঃ উপকারভোগীদের বয়স ২৪ হতে ৩৫ বছর এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা এইচএসসি ও তদূর্ধ্ব। পার্বত্য উপজেলাসমূহের শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি ও তদূর্ধ্ব। ২০১৬ সালে ৭টি জেলার ২০টি উপজেলা বরিশাল জেলার হিজলা, মুলাদী, গৌরনদী, অগৈলঝড়া, উজিরপুর,বাকেরগঞ্জ, বানারীপাড়া ও বাবুগঞ্জ; সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট ও কানাইঘাট; ময়মনসিংহ জেলার ময়মনসিংহ সদর, ফুলপুর, তারাকান্দা, ধোবাউড়া ও ঈশ্বরগঞ্জ; রংপুর জেলার গংগাচড়া; শরিয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ; জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ ও ইসলামপুর এবং পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলা এ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। এতে ২৬৩৭৬ জনকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয় এবং ২৬৩৭৫ জনকে অস্থায়ীকর্মে সংযুক্ত করা হয়। এ পর্যন্ত ২৬৩৭৬ জনকে ২০.০৪ কোটি টাকা প্রশিক্ষণভাতা ও ২৬৩৭৫ জনকে ২১৭.৫০ কোটি টাকা কর্মভাতা প্রদান করা হয়েছ। এ তে মোট ব্যয় ৪৫২.০৫ কোটি টাকা। এ কর্মসূচির ২০১৯ শেশ হবে। ২০১৭ সালে ১৫টি জেলার ২৪টি উপজেলা পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানি; ভোলা জেলার সদর; চাঁদপুর জেলার কচুয়া, হাজীগঞ্জ, মতলব (দক্ষিণ); শরিয়তপুর জেলার জাজিরা, শরিয়তপুর সদর; জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ, জামালপুর সদর, মেলান্দহ; সিলেট জেলার জকিগঞ্জ; সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি, কালিগঞ্জ; গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা, সাদুল্ল্যাপুর; ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়িয়া, হালুয়াঘাট; রংপুর জেলার তারাগঞ্জ; মৌলভীবাজার জেলার জুড়ি; বরিশাল জেলার বরিশাল সদর; বান্দরবান জেলার নাইক্ষংছড়ি; খাগড়াছড়ি জেলার রামগড়, মানিকছড়ি; রাঙ্গামাটি জেলার বিলাইছড়ি। এ সব জেলা উপকারভোগীর সংখ্যা ৩৭৭৯১জন। এছাড়া সাঘাট উপজেলার প্রশিক্ষণ জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রতিনিধির সমন্বয়ে ডিসেম্বর হতে শুরু হচ্ছে। এ জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৭৫.১৬ কোটি টাকা।
ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত যুবদের পরবর্তীতে কর্মসংস্থান ছাড়াও আত্মকর্মসংস্থান ঘটেছে। বৈদেশিক চাকরি লাভ করেছে অনেকেই। ইতোমধ্যে ২টি পর্বের মূল্যায়ন হয়েছ্।ে তাতে ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচির ইতিবাচক প্রবাব প্রতিফলিত হয়েছে। এটি সম্প্রসারণের জন্যও পুনঃপুনঃ দাবী উত্থাপিত হয়েছে। দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে দেশের শিক্ষিত বেকার যুব সম্প্রদায়ের জন্য কর্মসংস্থানের অবারিত ক্ষেত্র সৃষ্টিতে এবং নারী উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচি সরকারের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এটি যুগপৎভাবে যুববান্ধব এবং দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নের সহায়ক।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শ্রী বীরেন শিকদার ইনকিলাবকে বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রæতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে উচ্চ মাধ্যমিক ও তদূর্ধ্ব পর্যায়ের শিক্ষায় শিক্ষিত আগ্রহী বেকার যুবক ও যুবনারীদের জাতি গঠনমুলক কর্মকান্ডে সম্পৃক্তকরণের মাধ্যমে অস্থায়ী কর্মসংস্থান সৃস্টির লক্ষ্যে ন্যাশনাল সাভির্স কর্মসূচি চালু করা হয়। প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রশিক্ষণোত্তর ২ বছরের অস্থায়ী কর্মসংস্থানে নিযোজিত হওয়ার পর দৈনিক ২০০ টাকা হারে কর্মভাতা প্রদাণ করা হয়। কর্মভাতা হতে প্রত্যেকে মাস শেষে ৬ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। এর মধে ২ হাজার টাকা ব্যাংকে রাখা হয়। পরে চাকরি শেষে ৪৮ হাজার ফেরত দেয়া হয়। এত যদি না হয় তখন কর্মসংস্থান ব্যাংক থেকে এক লাখ টাকা ঋণের ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি বলেন, দেশের কোন উন্নয়ন কাজ ধীর গতি নেই। শুধু দুনীতির মামলা গুলো ধীরগতিতে রয়েছে। বর্তমানে দেশে তেমন কোন বেকার নাই। আমাদের সরকার ক্ষমতায় বেকার সমস্যা সমাধনে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ন্যাশনাল সার্ভিস। তিনি বলেন দেশে এখন প্রতিটি গ্রামে ঘরে ঘরে একজন করে কর্মসংস্থান করা হয়েছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, আওয়ামীলীগ সব সময় জনগনের সাথে প্রতারণা করে আসছে। ২০০৮ সালে তারা ফাঁকা বুলি দিয়ে জনগনকে ধোকা দিয়েছে। বর্তমান সরকার অবৈধভারে ক্ষমতা দখল করেছে কোন বেকার সমস্যা সমাধন করতে পারেনি। বর্তমানে দেশে লাখ লাখ বেকার যুবক পড়ে আছে কৈই তাদের তো এখনো চাকরি দিতে পারেনি। আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিকে মিথ্যা তথ্য প্রচার করছে। শেখ হাসিনা আগে ১০টাকায় চাল দেয়ার প্রতিশ্রæতি দিয়েছিল। আর গতকাল সংবাদ সম্মেলনে বলেন কৃষকের চিন্ত করে কিছু দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংস্কার ও গবেষণা উইংয়ের পরিসংখ্যান ও গবেষণা সেলের ২০১৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, প্রশাসনে ১৩ লাখ ৪২ হাজার ৪৫৩ কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে নারী তিন লাখ ৬২ হাজার ২০৬ জন। এর মধ্যে প্রথম শ্রেণির ২৭ হাজার ৪৬০ জন, দ্বিতীয় শ্রেণির ৪০ হাজার ৬৪০ জন, তৃতীয় শ্রেণির দুই লাখ ৪৫ হাজার ৮৬২ জন এবং চতুর্থ শ্রেণির ৪৮ হাজার ২৪৪ জন নারী কর্মকর্তা রয়েছেন। দেশে বেকারের সংখ্যা এখন ২৬ লাখ। নারী ও পুরুষ উভয়েই ১৩ লাখ করে বেকার। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) শ্রমশক্তি জরিপে এ তথ্য ফুটে এসেছে। বিবিএসের হিসাবে, উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্বের হার সবচেয়ে বেশি ৯ শতাংশ। এর মানে হলো স্নাতক কিংবা এর বেশি ডিগ্রিধারী প্রতি ১০০ জনে ৯ জন বেকার। এ দেশে পড়াশোনা না করলেই কাজ পাওয়ার সুযোগ বেশি। কোনো ধরনের শিক্ষার সুযোগ পাননি, এমন মানুষের মধ্যে মাত্র ২ দশমিক ২ শতাংশ বেকার। ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী কর্মক্ষম তরুণ-তরুণীদের মধ্যে ১০ শতাংশে বেশি বেকার। বর্তমানে দেশে পুরোপুরি বেকার মানুষের সংখ্যা ২৬ লাখ। শতাংশের দিক থেকে এ হার ৪ দশমিক ২ শতাংশ। মোট বেকারের মধ্যে মহিলা ৬ দশমিক ৮ শতাংশ এবং পুরুষ মাত্র ৩ শতাংশ বেকার। তবে ১৫ বছরের উপরে কর্মক্ষম মানুষ রয়েছে ১০ কোটি ৬১ লাখ। এর মধ্যে শ্রমশক্তি রয়েছে ৬ কোটি ২১ লাখ। কর্মে যুক্ত আছে ৫ কোটি ৯৫ লাখ মানুষ। আর শ্রমশক্তির বাইরে রয়েছে ৪ কোটি ৪০ লাখ। বেকারের মধ্যে শিক্ষিত আর ও নারী বেকারের সংখ্যা বেড়েছে। ২০১৩ সালের শ্রমশক্তি জরিপের হিসাবে, দেশে তখন বেকারের সংখ্যা ছিল ২৫ লাখ ৯০ হাজার। বিবিএসের জরিপ অনুযায়ী, বাংলাদেশে কাজ করেন এমন মানুষের সংখ্যা ৫ কোটি ৯৫ লাখ। এর আগের ২০১৩ সালের জরিপে এই সংখ্যা ছিল ৫ কোটি ৮১ লাখ। বিবিএস বলছে, ২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৫ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত দেড় বছরে কর্মসংস্থান বেড়েছে মাত্র ১৪ লাখ যা নতুন কর্মসংস্থান বলে মনে করে বিবিএস। সূত্র : ইনকিলাব

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত