প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শিশুরা খুব ভঙ্গুর মনের অধিকারী হয়ে থাকে কখন?

ডা. জাকির হোসেন : একটা সময় বাঙ্গালি সমাজে সন্তান ভুমিষ্ট হওয়ার পর পরিচর্যার কোন রকম ঘাটতি ছিল না।তখন যৌথ পরিবারে লোক সংখ্যা বেশি থাকার কারণে বাড়িতে কাজের যতই চাপ থাকুক না কেন,পরিবারে ছোট সদস্যটির যতেœর কোন রকম ত্রুটি ছিল না। তাছাড়া তৎকালীন বাঙ্গালি সমাজে মায়েরা শুধু গৃহস্থলির কাজকর্মেই নিয়োজিত থাকার সুবাদে সন্তানের যতেœর বিন্দু পরিমান কোন ঘাটতি থাকত না। কালের বিবর্তনে বাংলা থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে যৌথ পরিবার ব্যবস্থা। বিজ্ঞানের গতি আর শিক্ষার দ্রুত প্রসারে বেড়েছে কমর্জীবি মায়েদের সংখ্যা। আজকাল পুরুষের সাথে সমানভাবে তাল মিলিয়ে জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রেখে চলছে মেয়েরা। বাংলাদেশের বৈদেশিক মূদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান খাত হলো তৈরি পোশাক শিল্প। এই খাতে নারীদের অবদান পুরুষদের থেকে অনেকাংশেই বেশি। শুধু তৈরি পোশাক শিল্প নয়, আজকের বাংলাদেশে সর্বক্ষেত্রে পুরুষের সাথে নারীরা তাল মিলিয়ে ঘরের বাইরে কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, আমাদের রাষ্টীয় ব্যবস্থায় নারীদের অথর্নীতিতে অবদান রাখার জন্য শুধু তাদের কমর্জীবি করে কর্মক্ষেত্রে নিয়োজিত করেই রাষ্ট্র তার দায়সারা দায়িত্ব সম্পন্ন করছে। নারীর গর্ভের ফসলে যে একটি জাতির ভবিষ্যত তৈরি হয় সে ব্যপারে রাষ্ট্র একবারেই অবগত নয় কিংবা নীতি নির্ধারকরা এই বিষয়ে অত্যন্ত সচেতনভাবে তাদের দায়িত্বকে পাশ কাটিয়ে যাচ্ছেন। আমাদের দেশে সরকারি কিংবা বেসরকারি কোন বিভাগেই গর্ভকালীন নারীর পরিচর্যা এবং প্রসব পরবর্তী সময়ে শিশুর দৈহিক ও মানসিক বিকাশের জন্য পিতামাতার যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হয়, তার জন্য কর্মক্ষেত্রে এখনও পিতামাতাকে সেই পরিমান ছুটি কিংবা আর্থিক অনুদানের ব্যবস্থা নেই। এই করুণ পরিস্থিতির সবচেয়ে বেশি শিকার হচ্ছে তৈরি পোশাক খাতে কর্মরত মায়েরা এবং স্বাস্থ্যখাতে কর্মরত চিকিৎসক মায়েরা। আজকাল এই দুই শ্রেণির কর্মজীবি মায়েদের সন্তানদের মধ্যে মানসিক অবসাদের সমস্যা সচরাচর দেখা যাচ্ছে। এই সমস্যার জন্য শিশুরা সাধারণত খুব ভঙ্গুর মনের অধিকারী হয়ে থাকে। বাবা- মাকে দীর্ঘসময় ধরে কাছে না পাওয়ার পরিস্থিতির চাপে তারা মানসিক অবসাদে আক্রান্ত হচ্ছে। আকাশ সংষ্কৃতির এই যুগে মানসিক অবসাদের আরো যে সকল কারণ রয়েছে তা হলো অধিক হারে বাবা -মায়ের বিচ্ছেদ, নগরায়নের ফলে খেলাধূলার পর্যাপ্ত পরিবেশ না থাকা, এমন কি কিছু পিতা -মাতারা পরীক্ষায় বেশি নম্বর পাওয়ার জন্য কোমলমতি শিশুদের উপর যে পড়াশোনার যে চাপ তৈরি করছে, তাতে তারা মানসিকভাবে অবসাদগ্রস্থ হয়ে পড়ছে। দীর্ঘদিন মানসিক অবসাদ শিশুর শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য চরম ক্ষতির কারণ হয়ে দেখা দিচ্ছে।
আজকের শিশু আগামীর ভবিষ্যত। তাদেরকে পরিপূর্ণভাবে মানুষ করে গড়ে তুলতে পারলে একটি সুস্বাস্থ্যময় সভ্য ভবিষ্যতের আশা করা যায়। নতুবা শুধু অর্থনৈতিকভাবে দেশ সাবলম্বী হয়ে উঠলেও তার স্থায়িত্ব বেশি দিন টেকসই হবে না। তাই সর্বাগ্রে এই ব্যাপারে রাষ্ট্রের সতর্ক হওয়া জরুরী। কারণ, রাষ্ট্রীয় নিয়ম কানুন তৈরি হলে কর্মজীবি বাবা-মা তাদের সন্তানদের পরিমিত পরিচর্যা করার সময় এবং সুযোগ পাবে। পাশাপাশি ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার মাধ্যমে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করে কিছুটা সুফল মিলতে পারে, অভিভাবক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা একটু সচেতনও হলে শিশুর মনের অবসাদকে অনেকাংশে দূর করতে পারে।
লেখক : চিকিৎসক ও কলামিস্ট
ঊসধরষ: ফৎ.ংড়যবষ২৫@মসধরষ.পড়স
সম্পাদনা : মোহাম্মদ আবদুল অদুদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত