শিরোনাম
◈ আর্মব্যান্ড ছাড়াই হামজা নেতা: থমাস ডুলি ◈ তুচ্ছ ঘটনায় বারবার সংঘর্ষে ঢাকা কলেজ, সিটি কলেজ ও আইডিয়াল কলেজ ◈ পাথর নিক্ষেপ ঠেকাতে কক্সবাজারগামী ট্রেনে বসছে সিসি ক্যামেরা ◈ গোয়েন্দা নথিতে চাঞ্চল্যকর তথ্য: পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা নাকচ করেনি সৌদি ◈ দফায় দফায় হামলা, ধ্বংসস্তূপ থেকে যেভাবে বেঁচে ফিরলেন মোজতবা খামেনি ◈ ডিমের বাজারে অস্বাভাবিক দাম ও কৃত্রিম সংকট নিয়ে কড়া বার্তা বাণিজ্যমন্ত্রীর, ব্যবসায়ীদের যা বললেন ◈ জার্মানিতে দক্ষ পেশাজীবীদের জন্য ৬ লাখ ৫০ হাজার চাকরি, আবেদন করতে পারবেন যারা ◈ আকাশসীমার জটিলতা কাটল, ১ অক্টোবর থেকে আসছে রূপপুরের ইউরেনিয়াম ◈ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যেকোনো হামলার জন্য প্রস্তুত: পাকিস্তানকে রাজনাথ সিংয়ের কড়া বার্তা ◈ এবার লাইভে এসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কড়া বার্তা দিলেন সালমান মুক্তাদির! (ভিডিও)

প্রকাশিত : ২৬ জানুয়ারী, ২০১৮, ০৩:৩৪ রাত
আপডেট : ২৬ জানুয়ারী, ২০১৮, ০৩:৩৪ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

চট্টগ্রামে দলবদ্ধ ধর্ষণের পর মেয়েকে খুন

নিজস্ব প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম নগরীর আকবর শাহ থানার বিশ্বকলোনিতে নয় বছরের শিশু মিমকে গণধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় আটক ছয়জনের কাছে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ। মিমের মা বিবি রাবেয়া বেগমের সঙ্গে টাকাপয়সা সংক্রান্ত বিরোধ ছিল প্রতিবেশি বেলাল হোসেন বিজয়ের মায়ের। সেই বিরোধের প্রতিশোধ নিতে বিজয় এলাকার আরও কয়েকজন সহযোগী নিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করেছে বলে পুলিশ জানায়।

গ্রেফতার ছয়জন হলেন, বেলাল হোসেন বিজয় (১৮), রবিউল ইসলাম রুবেল (১৬), হাছিবুল ইসলাম লিটন (২৬), আকসান মিয়া (১৮), মো.সুজন (২০) এবং মনিরুল ইসলাম মনু (৪৯)।

এদের মধ্যে মনিরুল ধর্ষণের ঘটনাস্থল নগরীর আকবর শাহ থানার বিশ্বকলোনির আই ব্লকের আয়শা মমতাজ মহলের কেয়ারটেকার। তাকে ঘটনার পরপর গ্রেফতার করা হয়েছে। তার স্বীকারোক্তিমতে নগরী ও কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বাকি পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আকবর শাহ থানার ওসি আলমগীর মাহমুদ।

ওসি জানান, মনিরুল ও বিজয়সহ ঘটনার সঙ্গে মোট সাতজন জড়িত। সৈকত নামে একজনকে এখনও গ্রেফতার করা যায়নি।

বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (ডিসি-পশ্চিম) মো.ফারুক-উল-হক বলেন, মিমের লাশ উদ্ধারের পরই তার মা বিজয়কে সন্দেহ করেছিলেন। কারণ বিজয় আগেও একবার তার মেয়েকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছিল। বিজয়ের মায়ের সঙ্গে মিমের মায়ের টাকাপয়সা নিয়ে বিরোধ আছে। সেই বিরোধের শোধ নিয়েছে বিজয়, সেটা মিমের মা আমাদের বলেছেন। তবে বিজয়ের ক্রোধের সঙ্গে আরও কয়েকজনের বিকৃত মানসিকতাও এক্ষেত্রে কাজ করেছে বলে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করে বুঝতে পেরেছি।

মিমের মা বিবি রাবেয়া বেগম জানান, মাস ছয়েক আগে ব্র্যাক এনজিও থেকে রাবেয়ার মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নেন বিজয়ের মা। কিন্তু শোধ না করায় সেই ঋণের বোঝা এসে পড়ে রাবেয়ার মাথায়। এটা নিয়ে তাদের মধ্যে কয়েকবার ঝগড়া হয়েছে। বিজয় ৮-১০ দিন আগেও একবার মিমকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছে।

ডিসি ফারুক-উল-হক বলেন, গ্রেফতারের পর তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদে অন্তত সাতজনই ধর্ষণে জড়িত বলে জানতে পেরেছি।

গ্রেফতার হওয়া ছয়জনের মধ্যে তিনজন বখাটে বলে জানান ওসি আলমগীর মাহমুদ। বিজয় ডিশ অপারেটর হিসেবে কাজ করেন।

ধর্ষণের পর নির্মম হত্যার শিকার ফাতেমা আক্তার মিম আকবর শাহ থানার ফাতেমাতুজ জোহরা হিফজুল কোরআন মহিলা মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রী।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আকবর শাহ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) উৎপল কান্তি বড়ুয়া জানান- গ্রেফতার হওয়া ৬ জন জানিয়েছেন, ২১ জানুয়ারি বিকেল ৫টার দিকে বাসা থেকে বের হওয়ার পর পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে হাছিবুল ইসলাম লিটন মিমকে ফুসলিয়ে বিশ্বকলোনির আয়শা মমতাজ মহলের তিনতলার ফ্ল্যাটে নিয়ে যায়। ওই ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা বাসায় তালা দিয়ে বেড়াতে গিয়েছিলেন।

কেয়ারটেকারের কাছে ওই ফ্ল্যাটের বিকল্প চাবি ছিল। সেই চাবি ব্যবহার করে তারা মিমকে নিয়ে ঢোকে। ফ্ল্যাটের মধ্যে ধর্ষণের সময় মিম চিৎকার করলে একজন তার মাথায় আঘাত করে। কয়েকজন মিলে তার গলা চেপে ধরে। মৃত্যুর পর সুজন লাশ টেনে ওই ভবনের সিঁড়িতে নিয়ে যায়। এরপর সবাই পালিয়ে যায়। কেয়ারটেকার মনিরুলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছিল। শুনানি শেষে অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম তিনদিন মঞ্জুর করেছেন।

  • সর্বশেষ