প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নির্বাচনের বছরে আওয়ামী লীগে ‘কোন্দল বাড়ছে’

নিজস্ব প্রতিনিধি: বাংলাদেশে নির্বাচনের বছরে এসে বিভিন্ন জায়গায় আওয়ামী লীগের ভেতরে নেতৃত্বের কোন্দল বা দ্বন্দ্ব বাড়ছে বলে দলটির নেতাদের অনেকেই বলছেন।

ক’দিন আগেই নারায়ণগঞ্জে সংসদ সদস্য শামীম ওসমান এবং সেখানকার মেয়র সেলিনা হায়াত আইভীর দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে রাস্তায় সহিংসতায় রূপ নিয়েছিল। খবর-বিবিসি

ঐ ঘটনা সরকার এবং আওয়ামী লীগকে বিব্রত করেছে। এমনকি এ নিয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ক্ষোভের বিষয়ও সংবাদমাধ্যমে খবর হয়েছে। এর আগেও বিভিন্ন জায়গায় দলটির নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব থেকে সহিংসতা হয়েছে।

এর আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে আওয়ামী লীগের দুটি গ্রুপের বিরোধের জেরে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ওপর আক্রমণের ঘটনা ঘটেছিল।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আওয়ামী লীগের একজন নেতা শাহ আলম সরকার বলেন, অনেক সময় অভ্যন্তরীণ বিরোধ তাদের দলকে পিছিয়ে দিচ্ছে। দ্বন্দ্ব বা গ্রুপিং আমাদের দলের জন্য ক্ষতিকর। নির্বাচনের আগে এসব দূর করা উচিত। সেজন্য আমাদের কেন্দ্রীয় নেতাদের মাঠ পর্যায়ে এসে সরাসরি হস্তক্ষেপ করা উচিত।

উত্তরের রংপুর এবং দিনাজপুর অঞ্চলের কয়েকটি জেলার আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে কথা বলে মনে হয়েছে, তাদের এলাকাগুলোতে কোন্দল বেড়েই চলেছে এবং অনেক ক্ষেত্রে সেগুলো প্রকাশ্যে সংঘর্ষেও রূপ নিচ্ছে।

আওয়ামী লীগ দীর্ঘ সময় নয় বছর ধরে ক্ষমতায় থাকার কারণে মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের অনেকের মধ্যে ক্ষমতার স্বাদ পাওয়া বা ব্যক্তিগত স্বার্থের বিষয়গুলো বড় ইস্যু হয়ে সামনে আসছে।

আর সেকারণে দলটির ভেতরে অনেক গ্রুপ বা গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে বলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদেরই অনেকে মনে করেন।

তবে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, মাঠ পর্যায়ের বিভিন্ন জায়গায় কোন্দলের বিষয়গুলো নিয়ে এখন তাদের দলে নিয়মিত পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, এ বিষয়গুলো যেন মাথা চাড়া দিতে না পারে এবং নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকে, সেগুলো আমরা পর্যালোচনা করছি। পর্যালোচনা করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিচ্ছি।

আওয়ামী লীগের অনেক সংসদ সদস্য তাদের নির্বাচনী এলাকায় নিজের একটা গ্রুপ তৈরি করেছেন।

তারা দলের বড় অংশ থেকেও বিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছেন।

অনেক সময় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকেও বলতে দেখা গেছে যে, তাদের দলে অনুপ্রবেশ ঘটেছে।

এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের ভেতরে কোন্দল বা দ্বন্দ্ব মেটানো আওয়ামী লীগের জন্য একটা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করেন।

আওয়ামী লীগে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুল আলম হানিফ বলেন, ‘আমরা সাংগঠনিকভাবে এসব কোন্দল বা দ্বন্দ্ব নিরসন করার পদক্ষেপ নিয়েছি। আগামী ২৬শে জানুয়ারি শুক্রবার আমাদের কেন্দ্র থেকে ১৫টি টিম সারাদেশে সফরে যাচ্ছে। এই টিমগুলোর মুল দায়িত্ব হবে, জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে দলের ভিতরের কোন্দল বা দ্বন্দ্ব নিরসন করা।এর মাধ্যমে এসবের নিরসন হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।’

আ.লীগের এই নেতা বলেন, সংসদ সদস্যদের অনেক আগেই দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে তাদের নিজ নিজ এলাকায় বিরোধ নিষ্পত্তি করতে বলা হয়েছে।

যারা ব্যর্থ হবেন, আসন্ন নির্বাচনে তাদের মনোনয়ন পাওয়া কঠিন হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বিভিন্ন ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হলেও শেষ পর্যন্ত সব এলাকায় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সমস্যা কতখানি দূর করা সম্ভব হবে, তা নিয়ে দলটির নেতাদের অনেকের মধ্যেই সন্দেহ রয়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত