প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

হাওরের ফসলহানির ঘটনা পুনরাবৃত্তি দেখতে চাই না: পানিসম্পদ মন্ত্রী

নুর উদ্দিন, ছাতক (সুনামগঞ্জ): সুনামগঞ্জে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, দরকার হলে তিন মাসের জন্য মন্ত্রণালয়ের সকলকে সুনামগঞ্জে নিয়ে আসবো। ঢাকায় কোনো কাজ করবো না। দরকার হলে তিন মাস সুনামগঞ্জেই নিজেই থাকবো। গত বছরের মতো হাওরের ফসলহানির ঘটনা যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে। সেটি দেখতে চাই না। আপনারা এক্সপার্ট, আপনারা যদি না পারেন, তাহলে গো-মোর এক্সপার্ট।

আজ শনিবার সিলেটের সুনামগঞ্জে পানিসম্পদ মন্ত্রী এক মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, যারা পারবেন না, তাঁদের বিষয়ে আমি প্রধানমন্ত্রীকে জানাবো। গত বছরে দৈবচক্রে ঘটনা ঘটেছে, বলা হয়েছে, কিন্তু গালি শুনেছেন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীরা।

মন্ত্রী বলেন, বাঁধ নিয়ে আমরা কি বলবো, কারিগরি লোকজন বলতে পারবে বাঁধের কাজ কিভাবে হবে। বাঁধের কাজের জন্য কারিগরি লোকজন হাওরে নিয়ে আসবো। তারা বলবে বাঁধের কাজ কিভাবে হবে।

তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কেনো মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তন করলেন? আমার চেয়ে তো ব্যারিস্টার আনিস (সাবেক পানিসম্পদ মন্ত্রী) অনেক ভালো মানুষ, কিন্তু আমার মতো থার্ডক্লাস মানুষকে প্রধানমন্ত্রী এমনি এমনি এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব অর্পণ করেননি, তিনি জানেন ফোরক্লাস এমপ্লয়িদের সঙ্গে ডিল করতে হলে আমার মতো থার্ডক্লাসদেরই প্রয়োজন। আমি সব জানি। এ মন্ত্রণালয়ের যে অবস্থা দেখলাম সেখানে তো তিন’শ কোটি টাকার নিচে কোন প্রজেক্ট-ই নেই। কিন্তু অর্থ বিভাজনে কি আছে সেটাও আমি জানি। আমি মন্ত্রণালয়ে আসলামই মাত্র ৪দিন। আমার মন্ত্রণালয়ের অধীনে যে সকল কর্মকর্তা রয়েছেন তারা আমাকে নিশ্চিত করতে হবে যে, হাওরে আবারো ফসলহানির মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবেনা।

জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) মো. এমরান হোসেনের সভাপতিত্বে শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টায় সুনামগঞ্জ সার্কিট হাউসে হাওরসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অন্যান্য চলমান প্রকল্পের সর্বশেষ অবস্থা নিয়ে কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

আলোচনায় বক্তব্য রাখেন অর্থ ও পরিকল্পণা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব জাফর আহমদ খান, সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ, সুনামগঞ্জ-মৌলভীবাজার সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য শামছুন নাহার বেগম, সিলেট-২ আসনের সাংসদ ইয়াহিয়া চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান, পুলিশ সুপার মোঃ বরকুল্লাহ খান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী কর্মকর্তা আবু বক্কর ছিদ্দিক ভূঁইয়া, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হাজী আবুল কালাম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান।

সভায় বক্তারা জেলার হাওরাঞ্চলের কৃষকদের স্বার্থে এ বছর ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণে গাফিলতি যেন না করা হয় সে বিষয়টির প্রতি গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি দ্রুততম ও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাঁধের কাজ শেষ করাসহ বাঁধের কাজে যেনো কোন ভাবেই ত্রুটি না থাকে, সে বিষয়ে প্রকল্পে দেখভালের দায়িত্বে থাকা কর্তাব্যক্তিরা যেনো তাদের দায়িত্ব পালনে শতভাগ নিশ্চয়তা দিতে পারেন এ বিষয়টিকেও সামনে রেখে আলোচনা করেন। তবে ৮শ’টি পিআইসি কমিটির মধ্যে এখনো পর্যন্ত মাত্র ১৩১টির কাজ শুরু হওয়া নিয়ে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত