প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সাহিত্যজ্ঞানের অভাবে শিশুতোষ সিনেমা তৈরি হচ্ছে না: ফাহিম ফেরদৌস

ফারমিনা তাসলিম: আজ (২৮/বৃহস্পতিবার) থেকে শুরু হচ্ছে ’শিশু চলচ্চিত্র উৎসব- ২০১৭’। চার দিনব্যাপী এ উৎসবের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। এতে শিশুদের তৈরি প্রায় ৪০টি সিনেমা প্রদর্শিত হবে এবং উৎসব একযোগে দেশের ৬৪টি জেলায় শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হবে। উৎসবের শেষ দিন শ্রেষ্ঠ সিনেমায় পুরষ্কার দেয়া হবে।

এমন আয়োজন নিয়ে বিবিসি বাংলার সঙ্গে কথা বলেন বিজ্ঞাপন নির্মাতা ও চলচ্চিত্র পরিচালক ফাহিম ফেরদৌস।  শিশুদের সিনেমা তৈরির প্রবণতা কতটা বাড়ছে এবং তাতে এ উৎসব কী ভূমিকা রাখতে পারে?

ফাহিম ফেরদৌস বলেন, শিশুদের মধ্যে সিনেমা তৈরি করার বিষয়টি হঠাৎ করে আসার মতো বিষয় নয়। সিনেমাটা ভিজ্যুয়াল আর্ট। ভিজ্যুয়াল আর্ট মিডিয়ামগুলো শিশুদের মনোনয়নের মধ্যে স্ট্রং করতে না পারি তাহলে তাদের মধ্যে সিনেমা নিয়ে আগ্রহটা ঠিক স্ট্রংলিভাবে দাঁড়াবে না। ডিজিটাল মিডিয়ার কারণে হোক আর ভিজ্যুয়াল আর্টের বা কম্যুউনিকেশনের প্র্যাকটিসই হোক সেটি চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ার প্রবণতা মিডিয়াতে আসেনি। মোবাইল ফোন দিয়েও সিনেমা তৈরি করা যেতে পারে সেক্ষেত্রে একটা সুযোগ তৈরি হবে।

তিনি বলেন, মোবাইল ফোনটা বাচ্চাদেরকে কতটা প্রভাবিত করবে? ছবি তোলার ক্ষেত্রে আধুনিক মোবাইল ফোনকে কাজে লাগানো যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে মনে করি, বাচ্চাদের সিনেমা তৈরির বিষয়টা ভিজ্যুয়াল কিছুটা আপগ্রেডের দিকে আছে। সে সুযোগটা আরও বাড়বে। তবে আমাদের সমাজে সে ধরণের কোন ব্যাকআপ দেয়া হচ্ছে না। চারিদিকে বিশ্বায়নের প্রভাব আমরা তৃতীয় বিশ্বে পাচ্ছি, সেটা হয়তো কিছুটা এখানে ব্যবহার করতে পারব। উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে অনেক বেশি আকারে প্র্যাকটিস হয়ে গেছে। শিশুদের সিনেমার ক্ষেত্রে কমিক, শিশুতোষ সাহিত্য, স্কুলগুলোতে আর্ট আর্টিফিশিয়াল নাই। সে জায়গাগুলো থেকে শিশুদের মনে সিনেমাবোধ জন্ম নেয়া খুব কঠিন ব্যাপার।

বাংলাদেশে শিশুতোষ সিনেমা হচ্ছে না কেন?

জবাবে ফাহিম ফেরদৌস বলেন, শিশুদের নিয়ে বাংলাদেশে তৈরি ছবিগুলোর মধ্যে কয়েকটা ভালো ছবি আছে। অনেক ইমফেক্টফুল ছবি আমরা দেখতে পাই না। এর কারণ হচ্ছে আমাদের লিটারেচারের মধ্যেও অভাব আছে। যেটা ভিজ্যুয়াল ডেসক্রিপশন দিতে পারে।

সেখানে এ ধরণের আয়োজন কতটা গুরুত্বপূর্ণ বলে আপনার মনে হয়?

জবাবে ফাহিম ফেরদৌস বলেন, অবশ্যই অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এখানে আবিদ মল্লিক ৬৪ টি জেলায় ঘুরে ঘুরে বাচ্চাদেরকে এপ্রিসিয়েশন কোর্স দিয়েছে। এখন বাচ্চারা ৪০টা সিনেমা তৈরি করেছে। আয়োজন হচ্ছে সেটার কী রেজাল্ট আসবে, এক্ষুণি ভাবার প্রয়োজন নেই। আমার কাছে মনে হয় আমাদের বাচ্চাদের মধ্যে লিটারেচারাল আর্ট এবং ওদেরকে পৃথিবীকে চেনার সুযোগ করে দিতে পারলে আর তাদের মনের কথাগুলো বলার সুযোগ করে দিতে পারলে এমনিতে সিনেমা আসবে। বড়দের মধ্যে সিনেমাবোধ যখন স্ট্রং হবে তখন বাচ্চাদের মধ্যে স্ট্রং হবে।

সিনেমার পৃষ্ঠপোষকতার ক্ষেত্রে প্রতিবেশি দেশগুলোতে বাণিজ্যিকভাবে বিনিয়োগ করা হচ্ছে, অনেকেই আবার এগিয়েও আসছেন। বাংলাদেশে সেটা কেন হয় না?

জবাবে ফাহিম ফেরদৌস বলেন, সিনেমায় সরকারি অনুদানের থেকে একটা দু’টা সিনেমা অনুদান দিচ্ছে। সেগুলো অনেক সময় যথাযথভাবে বুঝে শুনে দেয়া হচ্ছে না। কালে-ভদ্রে একটা অ্যাকসিডেন্ট ঘটে। তখন আমরা হয়তো ’দিপু নাম্বার টু’ এরকম দু’একটা নাম শুনতে পারি। যুগে যুগে সেটা রেগুলার শোনার কোন চান্স নেই।

এমন দৃশ্যপট কিভাবে পরিবর্তন আনা যেতে পারে?

জবাবে ফাহিম ফেরদৌস বলেন, আসলে আমাদের দেশে শিশুতোষ সিনেমা নিয়ে বেশি এক্সপেরিমেন্ট হচ্ছে না। সিনেমাগুলো শিশুদের জন্য তা না, মূলত সব ধরণের দর্শককে মূলত পরিবারকে টার্গেট করে তৈরি হয়। আমাদের এখানে যেহেতু ইনডিপেনডেন্ট প্রডিউসররা বেসরকারিভাবে কোন উদ্যোগ নেয় না বলে এক্সপ্লোশনটা হচ্ছে না।

সূত্র – বিবিসি বাংলা

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত