প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ফ্রয়েড : স্বপ্ন নিয়ে গবেষণা করেছিলেন যিনি

রবিন আকরাম : স্বপ্ন নিয়ে তিনি গবেষণা করেছেন, যার বইও প্রকাশিত হয়েছে, মানুষের কথাও শুনেছেন। নিজের স্ত্রী বই ছুড়ে ফেলে দিয়েছিলেন। ৯ বছরে তার বই বিক্রি হয়েছে মাত্র ৬০০ কপি।

অথচ তার সেই বইয়ের ওপর ভিত্তি করেই গড়ে উঠলো আধুনিক সাইকো-এনালিসিস বা মনোসমীক্ষণ। এটি মানুষের মনোজগত অধ্যায়নের জন্য হয়ে উঠলো মূলধারার এক শাস্ত্র।

তিনিই আজকের সাইকো-অ্যানালিসিস বা মনোসমীক্ষণের জনক সিগমন্ড ফ্রয়েড। ১৮৯৯ সালে ভিয়েনায় প্রকাশিত সেই বইয়ের নাম দিয়েছিলন ‘দ্য ইন্টারপ্রিটেশন অব ড্রিম’।

১৯৩৮ সালে বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন ফ্রয়েড। সেখানে তিনি তুলে ধরেছিলেন তার এই তত্ত্বের বিস্তারিত ঘটনা। ততদিনে সিগমন্ড ফ্রয়েড মনোসমীক্ষণের জনক হিসেবে বিখ্যাত হয়ে গেছেন।

তিনি বলেছিলেন, আমি কাজ শুরু করি একজন নিউরোলজিষ্ট হিসেবে। যারা নানা রকম স্নায়ুরোগে ভুগছে, তাদের চিকিৎসা করতাম আমি। মানুষের অবচেতন মন এবং সহজাত প্রবৃত্তি সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আমি জানতে পারি। আমার জানা এসব নতুন তথ্য থেকে বিজ্ঞানের এক নতুন শাখা তৈরি হলো। এর নাম দেয়া হলো সাইকোএনালিসিস। মনোবিজ্ঞানের এক নতুন শাখা।

সাইকো-এনালিসিস নিয়ে সিগমন্ড ফ্রয়েড তার কাজ শুরু করেন ১৮৯০ সালে। মানবদেহের ক্ষেত্রে চিকিৎসাবিজ্ঞান যে কাজটা করেছে, মানুষের মনোজগত বুঝতে অনেকটা সেরকম একটা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি তিনি গড়ে তুলতে চাইছিলেন।

তিনি তার বইতে বলছেন, স্বপ্ন হচ্ছে মানুষের অবচেতন মনের গভীরে যাওয়ার বড় রাস্তা। অবচেতন মনে কি ঘটছে, তার প্রতিফলন হচ্ছে স্বপ্ন।
স্বপ্নের মাধ্যমে আমাদের অবচেতন মনই আসলে কথা বলছে আমাদের সঙ্গে। ফ্রয়েডের ধারণা, আমাদের স্বাভাবিক জীবনে যেসব আকাঙ্খা, তাড়না, অনুভূতি, চিন্তা আমরা প্রকাশ করতে পারি না, ঘুমন্ত অবস্থায় স্বপ্নের মাধ্যমে সেসব প্রকাশ পায়।

তার এই তত্ত্ব প্রমাণের লক্ষ্যে ফ্রয়েড মানুষের স্বপ্ন বিশ্লেষণ করা শুরু করলেন। তিনি তার বন্ধুদের শরণাপন্ন হলেন। কিন্তু তার বন্ধুরা নিজেদের স্বপ্নের বিশদ বর্ণনা দিতে রাজী হলো না। শেষ পর্যন্ত ফ্রয়েডকে নিজের স্বপ্ন বিশ্লেষণের ওপরই নির্ভর করতে হলো। তার স্বপ্নের বর্ণনায় তিনি বলেছিলেন-

‘আমার গায়ে ঠিকমত কাপড়চোপড় নেই। নীচতলার ফ্ল্যাট থেকে সিঁড়ি বেয়ে আমি উপরের ফ্ল্যাটে যাচ্ছিলাম। উপরে উঠার সময় আমি একেকবারে তিনটে করে সিঁড়ির ধাপ টপকাচ্ছিলাম। এত দ্রুত সিঁড়ি বেয়ে উঠতে পেরে আমি খুবই খুশি। হঠাৎ খেয়াল করলাম, একটা কাজের মেয়ে সিঁড়ি ভেঙ্গে নীচে নামছে, অর্থাৎ আমার দিকে। আমি খুব লজ্জা পেলাম, এবং তাড়াতাড়ি চলে যাওয়ার চেষ্টা করলাম। কিন্তু এরপরই আমার মনে হলো আমি যেন থমকে গেছি, আমি যে আঠার মতো আটকে আছি সিঁড়ির সঙ্গে, সেখান থেকে নড়ার শক্তি আমার নেই।

ইন্টারপ্রিটেশন অব ড্রিমস প্রকাশের পর বইটি মোটেই বিক্রি হচ্ছিল না। প্রথম ৬০০ কপি বিক্রি হতে সময় লেগেছিল ৯ বছর। ফ্রয়েড যেভাবে বইতে তার স্বপ্নে দেখা যৌনতা এবং সংঘাতকে অবচেতন মনের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখিয়েছেন, সেটা অনেক পাঠক মানতে পারেননি। সিগমন্ড ফ্রয়েড নিজেও সেটা স্বীকার করেছেন।

বইটি নিয়ে তার স্ত্রী এভান বলেন, আমার স্বামী আমাকে বইটা পড়তে দিলেন, আমি বইটা পড়তে পড়তে একটা জায়গায় এলাম, যেখানে খুব যৌন উত্তেজক একটা স্বপ্নের বর্ণনা আছে। আমি বইটা ছুঁড়ে ফেলে দিলাম সোফার নীচে। আমি বললাম, আমি কখনোই এই বইটা পড়ব না।

অথচ ইন্টারপ্রিটেনশন অব ড্রিমস বইতে ফ্রয়েড যে তত্ত্বের সূচনা করলেন, তার ওপরই ভিত্তি করেই গড়ে উঠলো আধুনিক সাইকো-এনালিসিস বা মনোসমীক্ষণ। তার এই তত্ত্বকে ঘিরে বিরাট আগ্রহ তৈরি হলো বিংশ শতাব্দীতে। এটি মানুষের মনোজগত অধ্যায়নের জন্য এটি হয়ে উঠলো মূলধারার এক শাস্ত্র।

হঠাৎ করে ফ্রয়েডের সাইকো-এনালিসিস চলে এলো সব কিছুতে। সব বই, পত্রিকায়, সিনেমায়, সবকিছুতেই সাইকো-এনালিসিস। বিখ্যাত শিল্পীদের মতো ফ্রয়েড যেন হয়ে উঠলেন আধুনিক মানুষের গুরু।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ