প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

হাইকোর্টের সামনে বিএনপির সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, ছাত্রদলের সভাপতিসহ আহত ৪০(ভিডিও)

মাঈন উদ্দিন আরিফ: রাজধানীর হাইকোর্টের মাজার গেটের সামনে পুলিশ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এতে ছাত্রদলের সভাপতি রাজিব হাসনসহ ৪০জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা ১২মিনিটে শুরু হয়ে প্রায় ১৫ মিনিট চলে সংঘর্ষটি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পুরান ঢাকার বকশীবাজারের আদালতে হাজিরা দিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গাড়িবহর মাজারের সামনে আসলে হাইকোর্টে অবস্থান করা দলের নেতাকর্মীরা বের হতে চান। এসময় পুলিশ হাইকোর্টের গেটে তালা মেরে দিয়ে নেতাকর্মীদের বাধা দেয়। হাইকোর্টের ভেতরে অবস্থানরত নেতাকর্মীদের বের করে নিয়ে আসতে ছাত্রদল এবং মহিলা দলের নারী নেত্রীরা এগিয়ে গেলে তাদের ওপর লাঠিচার্জ করে পুলিশ। এতে বিএনপি নেতাকর্মীরাও পাল্টা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এসময় ছাত্রদলে সভাপতি রাজিব আহসান, নেত্রী মনিরা আক্তার রিক্তা, শওকত আরা উরমি, আরিফা সুলতানা রুমা, নাছিমা আক্তার কেয়া, মহিলা দলের নেত্রী ডলিসহ ৪০জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ছাত্রদলের সভাপতি রাজিব আহসান।

প্রত্যাক্ষদর্শীরা আরো জানান, পুলিশি বাধা পাওয়ার পর হাইকোর্ট থেকে রাস্তায় এসে হঠাৎ পুলিশের ওপর হামলা চালায় বিএনপি নেতাকর্মীরা। এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়ে খালেদার গাড়িবহরের সঙ্গে থাকা দলটির নেতাকর্মীরা।

একপর্যায়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের হামলায় পুলিশ আত্মরক্ষার করতে অবস্থানরত জলকামান ও এপিসির পেছনে চলে যায়। মাইকের মাধ্যমে বিএনপি নেতাকর্মীদের সতর্ক করলেও প্রায় ১৫ মিনিট ধরে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন তারা।

সংঘর্ষ চলাকালে খালেদা জিয়াকে বহনকারী গাড়িটি হাইকোর্টের মাজার গেটের সামনে ১৫ মিনিট অবস্থান করে। দলের নেতাকর্মীদের একাংশ খালেদা জিয়ার গাড়িবহর ঘিরে রাখলেও অন্য অংশ পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

এর আগে বিকেল ৪টায় পুরান ঢাকার বকশীবাজার আদালত থেকে গুলশানের বাসভবন থেকে রওয়ানা করেন বেগম জিয়া। গতকাল বুধবারের মতো আজো হাইকোর্টের ভেতরে পুলিশ নেতাকর্মীদের আটকে রেখেছে এমন সংবাদ শুনে মাজার গেটের সামনে তার গাড়িবহর এসে থামান।

অপরদিকে এর আগে বিকেল পৌনে ৪টার দিকে চাঁনখারপুলের পাশ ঘেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মহিলা নেত্রীদের ওপরও চড়াও হয় পুলিশ।

ছাত্রদলের সভাপতি রাজিব আহসান বলেন, সম্পূর্ণ উস্কানি মূলক ভাবে পুলিশ নেতাকর্মীদের উপর লাঠিচার্জ করেছে। এতে করে আমাদের ৪০জন নেতাকর্মী আহত হয়।

তিনি বলেন, পরিস্থিতিকে অন্য দিকে নিতেই এভাবে করছে পুলিশ। শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে নষ্ট করাই সরকারের লক্ষ। সাবেক ৩বারের প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশর বৃহৎ দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তিনি আদালতে আসা যাওয়ার পথে নেতাকর্মীরা থাকবে এটাই স্বাভাবিক। শেখ হাসিনার সময়ও ছিল এভাবেই।

পুলিশের সঙ্গে এই ঘটনা তীব্র নিন্দাও প্রতিবাদ জানিয়ে আহত সকলের সুস্থতাও কামনা করেন তিনি।

ছাত্রদল নেত্রী নাসিমা আক্তার কেয়া জানান, পুলিশ সকাল থেকেই হাইকোর্ট এলাকায় তাদের ভেড়তে দেয়নি। পরে দোয়েল চত্বর এলাকায় অবস্থান নেন তারা। তবে হঠাৎ করেই আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের ওপর চড়াও হন। দোয়েল চত্বর এলাকা থেকে চাঁনখারপুল পর্যন্ত ব্যারিকেট তৈরি করতে চাইলে নেত্রীদের প্রতিবাদের মুখে একপর্যায়ে পুলিশ পিছু হটতে বাধ্য হয়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত