প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নেশা ছিনতাইয়ের জোগান দেয়

রাজেকুজ্জামান রতন : ছিনতাই এর ঘটনা দুটি জিনিসের বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। প্রথমতঃ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যে অবনতি, মানুষের জীবনের নিরাপত্তা, চলাফেরার নিরাপত্তা, প্রতি মূহুর্তে বিঘিœত হচ্ছে এটা যেমন একদিকে তার প্রকাশ ঘটায়, আরেক দিকে দেশের বেকারত্ব এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকার কারণে বেকারত্ব বৃদ্ধি এবং এধরনের পেশায় একজন মানুষের যুক্ত হয়ে যাওয়া। এটাকে সহজ ভাষায় বলা যায় যে, সাধারণ দৃষ্টিতে দেখলে এটা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি। আর অর্থনীতির দিক থেকে দেখলে মনে হবে, এটা একটা বেকারত্ব বা কর্মসংস্থানের অভাব। তার বহিঃপ্রকাশ ছিনতাই এর ঘটনায় মৃত্যুটাকে আমরা দুঃখজনক হিসাবে চিহ্নিত করি। কিন্তু অন্তর্নিহিত কারণটা আমাদের ভুলে গেলে চলবে না।

আমরা বাইরের লক্ষণ দেখে যেন মূল কারণটা আড়াল না করি। ছিনতাইকারীরা নির্দিষ্ট স্থানে থাকে না। ঢাকা শহরে পুলিশ প্রশাসন বলেছে, নির্দিষ্ট কিছু জায়গা ছিনতাই প্রবণ এলাকা। এগুলো চিহ্নিত করা সত্বেও সেই জায়গাগুলোতে ছিনতাই হয়েই যাচ্ছে। কখনো কখনো বলে ঢাকা শহরে ১৬০টি এলাকা আবার কখনো কখনো বলে ১৬১টি ছিনতাই প্রবণ এলাকা। এলাকাগুলো থেকে যাত্রিদের নিরাপত্তা, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার ব্যবস্থাটা কি? দ্বিতীয়তঃ হলো, কোন সময়টাতে ছিনতাই হয়? ছিনতাই হয় ভোর বেলা, ছিনতাই হয় সন্ধ্যার পরে পরে, ছিনতাই হয় গভীর রাতে। ফলে সেই ছিনতাই এর সময়গুলোকেও চিহ্নিত করা হয়েছে। কিন্তু জোর কার্যকর পদক্ষেপ নাই কেন? ফলে ছিনতাই এর পথ চিহ্নিত, ছিনতাই এর সময়টাও চিহ্নিত।

কিন্তু ছিনতাইকারীদেরকে প্রতিহত করার খুব বেশি একটা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে না। যার ফলে একটা অনিশ্চিয়তা, আতঙ্কের মধ্যে নগরবাসীকে চলাচল করতে হয়। আমরা মনে করি যে, রাজনৈতিক কর্মীদের দমন করার ক্ষেত্রে অথবা রাজনৈতিক কর্মসূচিকে প্রতিহত করার ক্ষেত্রে পুলিশকে যতখানি সক্রিয়ভাবে কাজে লাগনো হয়, যদি ঠিক ততখানি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং জান-মালের নিরাপত্তার কাজে তাদেরকে কাজে লাগানো হতো, তাহলে ঢাকার শহরটা অনেকটা ছিনতাই মুক্ত হতে পারত। কর্মসংস্থানের বিকল্প ব্যবস্থা যদি আরও উন্মুক্ত হতো তাহলেও আমাদের এই ছিনতাইয়ের প্রবণতাটা কমে যেত। পুলিশি তৎপরতা দিয়ে ছিনতাই বন্ধ করা যাবে না।

কিন্তু পুলিশি তৎপরতা দিয়ে ছিনতাই বন্ধ করা যাবে, তবে ছিনতাই, চুরি, রাহাজানি, অপরাধ থেকে মানুষকে রেহাই দিতে গেলে দেশে ব্যাপক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা দরকার। রাস্তা থেকে আমরা হকার উচ্ছেদ করে দিচ্ছি, রাস্তা থেকে রিক্সা উচ্ছেদ করে দিচ্ছি, সাধারণ মানুষের জীবিকা উপার্জনের কোনো পথই খোলা রাখছে না। তবে ঝুঁকি নিয়ে হলেও একজন মানুষ এ সমস্ত পেশায় নিজেকে নিয়োজিত করে ফেলে। ফলে ছিনতাই এর কারণ এবং ছিনতাই দূর করার উপায় এ দুটো নিয়েই গভীর আলোচনা হওয়া দরকার এবং পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। এ পদক্ষেপ না নিলে শুধু একের পর এক এর পরিসংখ্যান বাড়বে। প্রতিবছর ১০ জন, ১২ জন ছিনতাইকারীর হাতে মৃত্যুবরণ করবে। এবং অসংখ্য মানুষ ছিনতাইকারীদের হাতে সন্তান হারাবে। মলমপার্টির হাতে মানুষের জীবন বিপন্ন হবে। এমন কি কখনো কখনো দেখা যাবে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পরে মৃতুবরণ করবে।

পরিচিতি : কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, বাসদ
মতামত গ্রহণ : মো. মারুফ হাসান
সম্পাদনা : মোহাম্মদ আবদুল অদুদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত