শিরোনাম

প্রকাশিত : ২৭ মার্চ, ২০২৩, ০৭:০৩ বিকাল
আপডেট : ২৭ মার্চ, ২০২৩, ১১:৫৩ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

মহাখালী ও কাপ্তানবাজারে ৩ শতাধিক ঘর পুড়ে ছাই, দগ্ধ ৭ 

অগ্নিকাণ্ড

মাসুদ আলম: রাজধানীর মহাখালীর সাততলা বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডে অন্তত আড়াইশ ঘর পুড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত প্রতি পরিবারকে ৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম।

এছাড়া কাপ্তানবাজার জয়কালি মন্দির এলাকার সুইপার কলোনিতে আগুনের প্রায় ৩০ থেকে ৩৫টি ঘর পুড়ে গেছে। এতে নারী ও শিশুসহ ৭ জন দগ্ধ হয়েছেন। এদের মধ্যে ৪ জন শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট ও ৩ জন ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। 

জানা গেছে, সোমবার সকাল পৌনে ৭ টায়  মহাখালীর সাততলা বস্তিতে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিস ৮টা ১০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

বনানী থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আগুনের দুইশ থেকে আড়াইশ ঘর পুড়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাস লিকেজ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা মকবুল হোসাইন জানান, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা জানার পর মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম সার্বক্ষণিক তদারকি করেছেন। তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা প্রণয়ন করে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে ৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়াও অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।

এদিকে রাজধানীর কাপ্তানবাজারের পাশে সুইপার কলোনিতে আগুনের ঘটনায় নারীসহ ৭ জন দগ্ধ হয়েছেন। সোমবার রাত ৩টা ২০ মিনিটে খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। পরে সাতটি ইউনিটের চেষ্টায় ৪টা ৩০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

দগ্ধরা হলেন- রাজু বসাক (৩৬), কান্তা রানী (৬০), গীতারানী দে (৬৫), আফজাল (৫২), কৃষ্ণ (৭) শান্তি রানী (২৭) লক্ষ্মণ (৩)। এর মধ্যে কৃষ্ণ, শান্তি রানী কলোনির বাসিন্দারা জানায়, আগুন, আগুন চিৎকার শুনে তাদের ঘুম ভাঙে। পড়নের কাপড় ছাড়া আর কোন কিছু নিয়ে বের হতে পারেনি। চোখের সামনেই সবকিছু পুড়ে গেলো। 

ফায়ার সার্ভিস অধিদপ্তরের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লে. কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, এই সুইপার কলোনিতে টিনশেড ঘরে মানুষ বসবাস করে। এখানে গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করে রান্না হতো। এখানে অনেক দাহ্য পদার্থ ছিল। এ কারণে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিস সর্বাত্মক চেষ্টা করেছে, কলোনিতে লাগা আগুন যেন অন্যদিকে ছড়িয়ে না পড়ে। কারণ পাশে আরও অনেকের বসবাস এবং কিছু আবাসিক ভবন রয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিটের এক ঘণ্টার বেশি সময়ের চেষ্টায় সাড়ে চারটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

তিনি আরও বলেন, এই অগ্নিকাণ্ডের কারণে মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের পিলার ও কংক্রিটের একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফ্লাইওভারের নিচে এভাবে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের অন্যত্র সরিয়ে নিতে হবে। নইলে ভবিষ্যতে এ রকম ঝুঁকি বাড়তেই থাকবে।

প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পাওয়া তথ্য মতে, সুইপার কলোনির আনুমানিক ২০টি টিনশেড ঘর আগুনে পুড়েছে। এখানে দাহ্য পদার্থ ছিল, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংযোগ রয়েছে। যেকোনো কারণেই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে, আমরা তদন্ত করে দেখব।

এমএ/এসএ

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়