শিরোনাম

প্রকাশিত : ২৭ নভেম্বর, ২০২২, ০৭:২০ বিকাল
আপডেট : ২৭ নভেম্বর, ২০২২, ০৭:২০ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

অনলাইন সহিংসতার শিকার ৬৩ দশমিক ৫১ শতাংশ নারী: একশনএইড

কূটনৈতিক প্রতিবেদক: একশনএইড বাংলাদেশের ২০২২ সালে করা এক সমীক্ষা অনুসারে, ৬৩ দশমিক ৫১ শতাংশ নারী উত্তরদাতারা বলেছেন, তারা অনলাইন সহিংসতার শিকার হয়েছেন। গত বছরে যা ছিল ৫০ দশমিক ১৯ শতাংশ। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় অনলাইনে সহিংসতা বেড়েছে। প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ৬৪ জন নারীকে অনলাইন হয়রানি ও সহিংসতার সম্মুখীন হতে হয়।

আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ উদযাপন উপলক্ষে রোববার (২৭ নভেম্বর) ‘অনলাইনে নারীর প্রতি সহিংসতা: বাধা এবং উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সমীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। 

সমীক্ষাটি পরিচালনা করে একশনএইড বাংলাদেশ। সাতক্ষীরা, সুনামগঞ্জ, পটুয়াখালী, বান্দরবান, কুড়িগ্রাম এবং লালমনিরহাট– এই ছয়টি জেলায় একটি অনলাইন জরিপের মাধ্যমে এই সমীক্ষাটি পরিচালিত হয়, যেখানে ১৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সী ৩৫৯ জন নারী অংশ নেন।

সমীক্ষায় বলা হয়, ২০২২ সালে বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মধ্যে নারীরা সবচেয়ে বেশি সহিংসতার সম্মুখীন হয়েছেন ফেসবুকে, যা ৪৭ দশমিক ৬০ শতাংশ। এরপর ম্যাসেঞ্জার, ইনস্টাগ্রাম, ইমো, হোয়াটসঅ্যাপ এবং ইউটিউবে অনলাইন সহিংসতার সম্মুখীন হন। ৪ দশমিক ৮০ শতাংশ নারী বলেছেন, তারা ভিডিও কল, মোবাইল ফোন এবং এসএমএস’র মাধ্যমে হয়রানির সম্মুখীন হয়েছেন।

৮০ দশমিক ৩৫ শতাংশ নারী অনলাইন সহিংসতার মধ্যে ঘৃণ্য ও আপত্তিকর যৌনতাপূর্ণ মন্তব্য; ৫৩ দশমিক ২৮ শতাংশ নারী ইনবক্সে যৌনতাপূর্ণ ছবি গ্রহণ এবং যৌন সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব; ১৯ দশমিক ১৭ শতাংশ নারী বৈষম্যমূলক মন্তব্যের শিকার হয়েছেন। 

১৭ দশমিক ৪৭ শতাংশ উত্তরদাতারা বলেছেন, তাদের নামে অন্য কেউ অনলাইনে নকল আইডি তৈরির ফলে হয়রানির শিকার হয়েছেন। ১৬.১৬ শতাংশ বলেছেন, তাদের কার্যকলাপ সবসময় সাইবার স্পেসে অনুসরণ করা হয়। ১৩.১০ শতাংশ সমকামীদের অধিকার নিয়ে কথা বলার জন্য ব্যক্তিগত আক্রমণের শিকার হয়েছেন। ১১ দশমিক ৭৯ শতাংশ বলেছেন, তাদের ব্যক্তিগত ছবি অনুমতি ছাড়াই সোশ্যাল মিডিয়াতে পোস্ট করা হয়েছে এবং ১১ দশমিক ৭৯ শতাংশ যৌন নিপীড়নের হুমকি পেয়েছেন।

সমীক্ষা মতে, অনলাইন সহিংসতার কারণে নারীদের জীবনে সবচেয়ে গুরুতর প্রভাব হলো, মানসিক আঘাত, হতাশা ও উদ্বেগ; দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রভাব হলো, সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় থাকা বা মতামত প্রকাশ করার ক্ষেত্রে আস্থা হারানো। ২৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ ট্রমার শিকার হয়েছেন এবং ২৪ দশমিক ৮৯ শতাংশ আত্মমর্যাদা হারিয়েছেন। অনলাইন সহিংসতা এবং হয়রানির কারণে সৃষ্ট মানসিক যন্ত্রণা নারীর আত্মবিশ্বাস ও স্বাধীনতাকে মারাত্মকভাবে সংকুচিত করছে।

১৪.৯১ শতাংশ নারী অনলাইন সহিংসতার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দিয়েছেন এবং ৮৫ শতাংশেরও বেশি ভুক্তভোগী কোনও অভিযোগ জমা না দিয়ে নীরব ছিলেন, যদিও তারা বিভিন্ন উপায়ে অনলাইনে হয়রানির শিকার হয়েছেন। অভিযোগকারীদের মধ্যে, ৪৪.১২ শতাংশ সোশ্যাল মিডিয়া রিপোর্টিংয়ের মাধ্যমে, ২০.৫৯ শতাংশ পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেনের ফেসবুক পেজের মাধ্যমে, ১১.৭৬ শতাংশ জাতীয় জরুরি পরিষেবা (৯৯৯)-এর মাধ্যমে, ১১.৭৬ শতাংশ নিকটস্থ থানায়, ৫.৮৮ শতাংশ সাইবার ক্রাইমের ইনভেস্টিগেশন ডিভিশন, সিটিটিসি ও ডিএমপি’র মাধ্যমে অভিযোগ দায়ের করেছেন।

সমীক্ষায় উত্তরদাতারা অনলাইন হয়রানি, অপব্যবহার এবং ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে, আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং দ্রুত শাস্তির পরামর্শ দিয়েছেন। এছাড়াও অনলাইন এবং অফলাইন উভয় মাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণা, প্রশিক্ষণ এবং নিরাপদ ডিজিটাল মিডিয়া ব্যবহার সম্পর্কে জনসাধারণকে সচেতন করা এবং রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধির প্রতি অভিমত দিয়েছেন ।

একশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবির বলেন, প্রযুক্তির যুগে অনলাইনে নারীদের প্রতি সহিংসতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে কিশোরী ও ১৮ বছরের নিচের কন্যা শিশুরা এর শিকার হচ্ছে বেশি।

টিআই/এনএইচ

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়