শিরোনাম
◈ মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনা: শাহ আমানত বিমানবন্দরে আরও ১৪ ফ্লাইট বাতিল ◈ তৃতীয় দফায় মিসাইল ছুড়ল ইরান, ইসরায়েলজুড়ে বাজলো সাইরেন ◈ জ্বালানি সংকট সামাল দিতে দ্বিগুণ দামে এলএনজি কিনল সরকার ◈ উপসাগরে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা: ইরানকে গোয়েন্দা তথ্য দিচ্ছে রাশিয়া  ◈ জ্বালানি, রপ্তানি ও রেমিট্যান্স—যুদ্ধের প্রভাবে বাড়ছে অর্থনৈতিক ঝুঁকি ◈ ‘গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ সম্মাননা পাচ্ছেন খালেদা জিয়া ◈ জ্বালানি তেল পাচার রোধে বেনাপোল সীমান্তে বিজিবির নিরাপত্তা জোরদার ◈ আমার ফ্ল্যাট থেকে কয়েক কদম দূরেই ‘যমুনা’, যেখানে ঘটেছে অসংখ্য নাটকীয় ঘটনা: শফিকুল আলম ◈ ঈদকে সামনে রেখে এলিফ্যান্ট রোড ও নিউমার্কেটে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় ◈ ইরান–সংঘাত থামাতে কিছু দেশের মধ্যস্থতার চেষ্টা: পেজেশকিয়ান

প্রকাশিত : ০৬ মার্চ, ২০২৬, ০৭:০১ বিকাল
আপডেট : ০৭ মার্চ, ২০২৬, ০৭:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

আত্মহত্যার মারাত্মক প্রভাব পড়ছে সন্তানদের ওপর

দাম্পত্য কলহের ‘অশনি সংকেত’ বাড়ছে?

দীপক চৌধুরী: একের পর এক আত্মহত্যার ঘটনা বাড়তে থাকায় এটিকে দাম্পত্য কলহের ‘অশনি সংকেত’ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার দিকে তাকালে দেখা যায়, পারিবারিক কলহ, মানসিক চাপ ও সম্পর্কের টানাপোড়েন অনেক ক্ষেত্রে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দিচ্ছে মানুষকে।

গত রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের এক সেবিকার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁর নাম নাহিদা আক্তার ওরফে ববি (২৯)। স্বজনদের দাবি, স্বামী ইলিয়াসের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে তার দাম্পত্য কলহ চলছিল এবং তিনি শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার ছিলেন।

এদিকে নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় বসতঘর থেকে এক নারী ও তার দুই বছরের কন্যাসন্তানের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রতিবেশী ও পুলিশের ধারণা, স্ত্রী ও সন্তানকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে পরে আত্মহত্যা করেছেন ওই ব্যক্তি। নওগাঁর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, হাসপাতালে নেওয়ার সময় ওই নারীর স্বামীও মারা যান। শুক্রবার সকালে তিনটি লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

এর আগে রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকায় টেলিভিশন ও ইউটিউব অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী ইভনাথ খান ইকরা আত্মহত্যা করেন। জানা গেছে, আলভীর সঙ্গে তিথি নামের এক অভিনেত্রীর পরকীয়ার অভিযোগ ঘিরে এই ঘটনা ঘটেছে বলে শোনা যাচ্ছে। এ বিষয়ে তদন্ত করছে পুলিশ। ঘটনার জের ধরে ইকরার বাবা সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা করেছেন।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রাজধানীর পুরান ঢাকার চাঁনখারপুল এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে সেবিকা নাহিদা আক্তারের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। নাহিদার ফুফাতো ভাই ফরহাদ রহমান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাংবাদিকদের বলেন, গত বছরের জানুয়ারিতে নাহিদা তার স্বামী ইলিয়াসের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগে মামলা করেছিলেন। ওই মামলায় ইলিয়াস গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যান। পরে কারাগার থেকে বের হওয়ার পর তাদের মধ্যে আপস-মীমাংসা হয়েছিল।

তিনি আরও জানান, মৃত্যুর আগে নাহিদা একটি চিরকুট লিখে গেছেন, যেখানে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের নির্যাতনের কথা উল্লেখ করেছেন।

নওগাঁর ঘটনায় নিহত ব্যক্তির নাম রাজ সরকার (৩৫)। তিনি বলরামচক চৌধুরীপাড়া গ্রামের গৌতম সরকারের ছেলে। তার স্ত্রী দৃষ্টি সরকার ও মেয়ে জেনি সরকার। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজ সরকার মাদকাসক্ত ছিলেন এবং মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল করিম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে রাজ সরকার প্রথমে স্ত্রী ও সন্তানকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন, পরে নিজে গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যা করেন।

একজন অতিরিক্ত সচিব জানান, পারিবারিক ও সামাজিক চাপ, সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং আবেগজনিত সংকট অনেক সময় মানুষকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দেয়। এর সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ে পরিবারের শিশুদের ওপর। তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে এবং ভবিষ্যৎ জীবনেও এর নেতিবাচক প্রভাব বহন করতে হয়।

আত্মহত্যা প্রতিরোধ ও মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা নিয়ে কাজ করা সংগঠন আঁচল ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, ২০২৫ সালে দেশে ৪০৩ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। এর মধ্যে স্কুলশিক্ষার্থীর সংখ্যাই বেশি এবং আত্মহত্যাকারীদের মধ্যে মেয়েদের সংখ্যা ছেলেদের তুলনায় বেশি।

রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি জানায়, ‘শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যা: ক্রমবর্ধমান সংকট’ শীর্ষক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ২০২৪ সালে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার সংখ্যা ছিল ৩১০, যা ২০২৫ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০৩-এ।

বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে আত্মহত্যা করা ৭৭ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪৪ জন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের, ১৭ জন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের, ৬ জন মেডিক্যাল কলেজের এবং ১০ জন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও অধিভুক্ত কলেজের শিক্ষার্থী।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের এক অধ্যাপক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দাম্পত্য কলহের চূড়ান্ত পরিণতি অনেক সময় বিচ্ছেদ বা পরিবার ভেঙে যাওয়া। কিন্তু কখনো কখনো এই অবিশ্বাস ও মানসিক সংকট মানুষকে আত্মহত্যার দিকেও ঠেলে দেয়। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় সন্তানরা।

পুলিশের এক ডিআইজি জানান, আত্মহত্যা শুধু ব্যক্তি নয়, পুরো পরিবারকে বিপর্যস্ত করে। বিশেষ করে শিশুদের জীবনে এর গভীর প্রভাব পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে তারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে এবং জীবনের স্বাভাবিক গতিপথ থেকে বিচ্যুত হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অসম্পূর্ণ প্রেম, হতাশা, অভিমান, পারিবারিক টানাপোড়েন, মানসিক অস্থিরতা এবং যৌন নির্যাতনের অভিজ্ঞতা—এসব কারণও আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়