শিরোনাম
◈ কুমিল্লায় কাস্টমস কর্মকর্তা রহস্যজনক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আটক ৫ ◈ রাশিয়া যা পারল না তা করে দেখাল চিন: তাইঝৌ ডেস্ট্রয়ারের পুনর্জন্ম, মিনিটে ছুড়বে ৩০ ক্ষেপণাস্ত্র ◈ “চীনের বিজ্ঞানীদের নতুন আবিষ্কার: সমুদ্র থেকে ইউরেনিয়াম শিকারে ‘প্রিডেটর’ ম্যাটেরিয়াল” ◈ বিএনপি ছেড়ে নেতাদের স্রোত, দুই মাসেই চাপে সরকার, রাজপথে সক্রিয় বিরোধীরা ◈ জামিন পেলেন খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার আসামি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা লাভলু ◈ গত ১৮ মাস যে আরামে ছিলেন, সেই আরাম এখন আর হচ্ছে না: বিরোধী দলকে প্রতিমন্ত্রী (ভিডিও) ◈ এবার রাজশাহীর সরকারি কলেজের জুতাপেটার ঘটনায় সেই নারী শিক্ষক বরখাস্ত ◈ প্রণোদনার ওপর কর প্রত্যাহারের দাবি বিটিএমএ’র ◈ ক্রীড়াঙ্গনকে রাজনীতি মুক্ত রাখার ঘোষণা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আ‌মিনুল হ‌কের ◈ ৮০ লাখ ব্যক্তি রিটার্ন দেয়নি, তালিকা করে ডিজিটাল পদ্ধতিতে নোটিশ যাবে

প্রকাশিত : ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ০৬:২২ বিকাল
আপডেট : ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বাতাসে চার্জ হবে ফোন, নিরাময় হবে জিনের ক্ষত—চমকপ্রদ গবেষণা বাংলাদেশিদের

নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে বর্তমানে দুই বাংলাদেশি গবেষক এমন কিছু প্রযুক্তি ও চিকিৎসাবিজ্ঞান নিয়ে কাজ করছেন যা আগামী দিনের জীবনযাত্রাকে আমূল বদলে দিতে পারে।একদিকে ওয়াইফাই বা ডাটা ট্রান্সফারের মতো বাতাসেই বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার প্রযুক্তি, অন্যদিকে মানুষের ডিএনএ-তে থাকা অপপুষ্টির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বা ‘স্কার’ মুছে ফেলার গবেষণা।

এই দুই ভিন্নধর্মী কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রকে এক সুতোয় বেঁধে ড. সাইদুল আলম চৌধুরী এবং ইউশা আরাফ কাজ করছেন ‘থ্রিডি ওয়্যারলেস চার্জিং’ নিয়ে।

বাতাসেই হবে মোবাইল ও পেসমেকার চার্জ: বর্তমানের ওয়্যারলেস চার্জিংয়ের মতো নির্দিষ্ট স্থানে ডিভাইস রাখার বদলে, এটি অনেকটা ওয়াইফাই সিগন্যালের মতো ঘরের যেকোনো প্রান্তে থাকা একাধিক ডিভাইসে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেবে।

এক বছরের বেশি সময় ধরে ‘স্মার্ট পাওয়ার বক্স’ নামক ওয়্যারলেস চার্জিং ডিভাইস নিয়ে কাজ করা ড. সাইদুল আলম চৌধুরী ও ইউশা আরাফ সম্প্রতি ওয়্যারলেস পাওয়ার এবং চার্জিং প্রযুক্তির গবেষণাকে এগিয়ে নিতে অকল্যান্ডে ‘রিজোলিংক (Resolinc)’ নামক কোম্পানিও প্রতিষ্ঠা করেছেন, যা বাংলাদেশি মালিকানাধীন প্রথম ওয়্যারলেস পাওয়ার কোম্পানি।
 
সাইদুল আলমের মতে, এটি শুধু স্মার্টফোন নয়, বরং স্মার্ট কিচেন থেকে শুরু করে শরীরের ভেতরে থাকা পেসমেকার বা বায়োমেডিক্যাল ইমপ্ল্যান্টের ব্যাটারি চার্জ করতেও সক্ষম হবে। এর ফলে সার্জারি করে ব্যাটারি পরিবর্তনের প্রয়োজন পড়বে না।
 
বর্তমানে এই প্রজেক্টটি প্রোটোটাইপ পর্যায়ে রয়েছে। এই প্রযুক্তির বড় চ্যালেঞ্জ হলো ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ড বা ইএমএফ, যা নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে ড. সাইদুল আলম চৌধুরী এই রেডিয়েশন নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ইএমএফ/ইএমআই কমিয়ে আনার বিশেষ কৌশল নিয়ে কাজ করছেন। তিনি তার প্রতিষ্ঠিত স্টার্টআপ ‘রিজোলিংক (Resolinc)’-এর মাধ্যমে এই প্রযুক্তিকে বাণিজ্যিক রূপ দিতে কাজ করছেন। খুব দ্রুতই এই নতুন প্রযুক্তি হাতে পেতে পারে সাধারণ ব্যবহারকারীরা।
 
ডিএনএ-তে লুকানো অপপুষ্টির ক্ষত নিরাময়ে: বায়োলজিক্যাল সায়েন্সের গবেষক ইউশা আরাফ কাজ করছেন শিশুদের ‘মলিকুলার মেমোরি’ নিয়ে। বাংলাদেশের মিরপুরের বস্তি এলাকার শিশুদের ওপর গবেষণায় তিনি দেখেছেন, শৈশবে অপপুষ্টির শিকার শিশুদের ডিএনএ-তে কিছু পরিবর্তন বা ‘স্কার’ তৈরি হতে পারে, যা তারা সুস্থ হওয়ার পরেও দীর্ঘ সময় ধরে বয়ে বেড়াতে পারে।
 
এই মেমোরির কারণে ভবিষ্যতে তাদের বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা হতে পারে। ইউশা আরাফের লক্ষ্য, এই স্কারগুলো শনাক্ত করে তা ডিএনএ থেকে মুছে ফেলার সম্ভাব্য পদ্ধতি খুঁজে বের করা। তার এই গবেষণায় হার্ভার্ড ও অকল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রখ্যাত অধ্যাপকেরাও যুক্ত আছেন এবং প্রজেক্টটি বর্তমানে প্রায় ৯০ শতাংশ সফল পর্যায়ে রয়েছে।
 
দুই গবেষকের অনুপ্রেরণাদায়ক পথচলা: দুই গবেষকের বর্ণাঢ্য পথচলা কিংবা উঠে আসার গল্পটিও বেশ অনুপ্রেরণাদায়ক। ড. সাইদুল আলম চৌধুরীর জন্ম চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে এবং বেড়ে ওঠা নগরীর হালিশহরে। সেন্ট প্লাসিডস হাই স্কুল এবং মহসিন কলেজ থেকে শিক্ষাজীবন শেষ করে তিনি চুয়েট থেকে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে দক্ষিণ কোরিয়ায় মাস্টার্স ও পিএইচডি শেষ করে বর্তমানে নিউজিল্যান্ডে গবেষক হিসেবে কর্মরত আছেন। ওয়্যারলেস পাওয়ার প্রযুক্তির ওপর তার দুটি মার্কিন পেটেন্ট রয়েছে।
  
ইউশা আরাফ বরিশালের সন্তান। বরিশাল জেলা স্কুল এবং ঢাকা রেসিডেনশিয়াল মডেল কলেজ থেকে পড়াশোনা শেষ করে তিনি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও বায়োটেকনোলজিতে স্নাতক করেন। ছাত্রাবস্থায় তার ৭২টি আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। বর্তমানে তার গবেষণাকর্মের সাইটেশন সংখ্যা ৩,২৫৬। তিনি জাতিসংঘের ‘বায়ো-সিকিউরিটি ফেলো’ হিসেবে নির্বাচিত প্রথম বাংলাদেশি এবং জেনেভায় বায়োলজিক্যাল ওয়েপন কনভেনশনেও অংশ নিয়েছেন। এছাড়াও তিনি সিলেট ক্যাডেট কলেজ এর ভিজিটিং লেকচারার এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়াজেদ মিয়া বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রের কোভিড রিসার্চ টিমে গবেষণা সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন।
 
বন্ধুত্ব থেকে আগামীর স্বপ্ন: নিউজিল্যান্ডে অফিস কাছাকাছি হওয়ার সুবাদে এই দুই গবেষকের মধ্যে পরিচয় এবং আড্ডার ছলেই জন্ম নেয় নতুন সব আইডিয়া। তারা বর্তমানে তাদের ভিন্ন ভিন্ন গবেষণার জ্ঞানকে একত্রিত করে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য নেক্সট জেনারেশন ওয়্যারলেস প্যাচ এবং উন্নত রোগ নির্ণয় প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছেন। যা বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীদের জীবন যাত্রাকে বহুগুনে সাভাবিক করে তুলতে সহযোগিতা করবে।
 
তাদের স্বপ্ন এমন এক ভবিষ্যতের, যেখানে তারবিহীন প্রযুক্তির মাধ্যমে চিকিৎসাব্যবস্থা আরও সহজলভ্য ও নিরাপদ হবে। বিশ্বজুড়ে স্মার্ট হোম, স্মার্ট হসপিটাল এবং বায়োমেডিক্যাল খাতে এই গবেষণাগুলো এক নতুন বিপ্লব নিয়ে আসতে চলেছে বলে তারা আশাবাদী। উৎস: সময়নিউজটিভি।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়