শিরোনাম

প্রকাশিত : ০৭ অক্টোবর, ২০২২, ০৮:৫৬ রাত
আপডেট : ০৮ অক্টোবর, ২০২২, ০৯:৫৬ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

পাগলা মসজিদের দানবক্সে অসহায় মায়ের চিঠি

মেয়ের সুস্থতা কামনা করে পাগলা মসজিদের দানবাক্সে প্রার্থনামূলক চিঠি

ডেস্ক রিপোর্ট: কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদ। কথিত আছে কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদে মানত করলে মনের বাসনা পূর্ণ হয়। এমন ধারণা থেকে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই এখানে দান করে থাকেন। একইভাবে প্রতিবন্ধী মেয়ের সুস্থতা কামনা করে পাগলা মসজিদের দানবাক্সে প্রার্থনামূলক চিঠি দিয়েছেন অসহায় এক মা। চ্যানেল২৪

প্রতিবন্ধী মেয়ের সুস্থতা কামনা করে পাগলা মসজিদের দানবাক্সে প্রার্থনামূলক চিঠি দিয়েছেন অসহায় এক মা। সন্তানের সুস্থতা চেয়ে চিঠিতে মা লিখেছেন, ‘হে পাগলা বাবার মসজিদে আর্জি দিচ্ছি যে, আমার মেয়ে প্রতিবন্ধী আপনার উছিলায় যাতে আমার মেয়ে জান্নাতুল মাওয়া ভাল হয়ে যায়। আমি আপনার দরবারে একটি ছাগল দিব। আমার আর্জি কবুল করেন।’

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এ টি এম ফরহাদ টাকা গণনা করার সময় টাকার সঙ্গে মেয়ের সুস্থতা চেয়ে এক মায়ের এই প্রার্থনামূলক চিঠিটি পেয়েছেন। 

পাগলা মসজিদের সিন্দুক খোলা নিয়ে বরাবরই থাকে খবরের শীর্ষে। প্রতি ৩ মাস পর পর সিন্দুকগুলো খোলা হয়। শনিবার (১ অক্টোবর) এবার ৩ মাস ১ দিন পর দান সিন্দুকগুলো খোলা হয়। ৮টি লোহার দানবাক্সের সিন্দুকগুলো থেকে ১৫ বস্তায় ৩ কোটি ৮৯ লাখ ৭০ হাজার ৮৮২ টাকা। যা পাগলা মসজিদের ইতিহাসে দানে পাওয়া সর্বোচ্চ টাকা। নগদ টাকা ছাড়াও দানবাক্সে মার্কিন ডলারসহ বিভিন্ন দেশের মুদ্রা ও সোনা-রূপার গহনাও পাওয়া যায়।

এ মসজিদে সঠিক নিয়তে মানত করলে রোগ-বালাই দূর হওয়া সহ বিভিন্ন মনোবাসনা পূর্ণ হয়।

এমন বিশ্বাস থেকেই দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সকল ধর্মের মানুষ প্রতিনিয়ত মানতের নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার, বৈদেশিক মুদ্রা, ছাগল, হাস, মুরগী সহ বিভিন্ন সামগ্রী দান করে থাকেন। নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার ছাড়া দানের বিভিন্ন সামগ্রী প্রতিদিন নিলামে বিক্রি করে রূপালী ব্যাংকে থাকা মসজিদের একাউন্টে জমা করা হয়।

১৯৯৭ সাল থেকে এই মসজিদটি ওয়াকফের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে। জানালেন মসজিদের এই কর্মকর্তা। ব্যাংকে রাখা টাকার লাভের অংশ দরিদ্র জটিল রুগীদের চিকিৎসাখাতে ব্যায় করা হয়।

দেশের অন্যতম আয়কারী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃত এ পাগলা মসজিদকে আন্তর্জাতিক মানের দৃষ্টিনন্দন কমপ্লেক্স নির্মাণ করার কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে বলে জানালেন পাগলা মসজিদের সভাপতি মোহাম্মদ শামীম আলম।

 জনশ্রুতি রয়েছে, প্রায় আড়াই'শ বছর আগে পাগলবেশী এক আধ্যাত্মিক পুরুষ খরস্রোতা নরসুন্দা নদীর মধ্যস্থলে মাদুর পেতে ভেসে এসে বর্তমান মসজিদ এলাকা জেলা শহরের হারুয়ায় থামেন।

তাকে ঘিরে সেখানে অনেক ভক্তকুল সমবেত হন। ওই পাগলের মৃত্যুর পর সমাধির পাশে এই মসজিদটি গড়ে ওঠে। পরে কালক্রমে এটি পরিচিতি পায় পাগলা মসজিদ নামে।

সি২৪/এইচ

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়