স্পোর্টস ডেস্ক: বিশ্বকাপের মঞ্চে সাফল্য, পেশাদার ক্রিকেটে বিপুল বিনিয়োগ—সবই আছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিকেটে। অথচ প্রশাসনিক অস্থিরতা ও আর্থিক সংকটে অস্তিত্বের লড়াইয়ে দেশটির ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইউএসএ ক্রিকেট। সেই সংকট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে এবার পুনর্গঠন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সংস্থাটি।
ক্রিকেটবিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজ জানিয়েছে, দেউলিয়াত্ব থেকে বেরিয়ে আসতে তিনজন স্বাধীন পরিচালক নিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সংস্থাটির কার্যক্রম সচল রাখতে সর্বোচ্চ ৩১ লাখ ৪৫ হাজার ডলার অতিরিক্ত অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে মেজর লিগ ক্রিকেটের (এমএলসি) মালিকপক্ষ আমেরিকান ক্রিকেট এন্টারপ্রাইজেস (এসিই)। -- ডেইলি ক্রিকেট
যুক্তরাষ্ট্রের দেউলিয়া আদালতে দাখিল করা পুনর্গঠন পরিকল্পনায় নতুন পরিচালক হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছে সেলিনা কাইং, প্যাট্রিক সিঙ্গেলটন ও নরম্যান ওয়েইনকে। আদালত নিযুক্ত ট্রাস্টি মার্ক ডেনিসের এই প্রস্তাব পর্যবেক্ষণ করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) ও যুক্তরাষ্ট্রের অলিম্পিক ও প্যারালিম্পিক কমিটি (ইউএসওপিসি)।
পরিকল্পনাটি কার্যকর হলে বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের সবার মেয়াদ শেষ হবে। নতুন তিন পরিচালক দায়িত্ব পালন করবেন তিন বছর। তাদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে আইসিসির সদস্যপদ পুনর্বহাল, এসিইর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক চুক্তি সম্পন্ন এবং ইউএসওপিসির স্বীকৃতি ফিরে পাওয়া।
প্রস্তাবিত তিন পরিচালকের রয়েছে করপোরেট ও ক্রীড়া প্রশাসনে অভিজ্ঞতা। প্রযুক্তি ও করপোরেট খাতে দুই দশকের বেশি কাজ করেছেন কাইং। সিঙ্গেলটন সাবেক তিনবারের অলিম্পিয়ান এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রশাসনে অভিজ্ঞ। আর ওয়েইন ১৪ বছর যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাথলেটিকস সংস্থা ইউএসএ ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডের আইনি ও ব্যবসায়িক দায়িত্বে ছিলেন।
পুনর্গঠন পরিকল্পনা নিয়ে আগামী ১৫ জানুয়ারি ২০২৭ শুনানির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আদালতের অনুমোদনসহ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ হলে আগামী বছরের শুরুতেই নতুন নেতৃত্ব দায়িত্ব নিতে পারে।
আইসিসির নিষেধাজ্ঞার কারণে আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছ থেকে অর্থায়ন বন্ধ রয়েছে ইউএসএ ক্রিকেটের। এ অবস্থায় এসিইর আর্থিক সহায়তা সংস্থাটির টিকে থাকার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় ২০২৯ সাল পর্যন্ত অর্থায়নের সুযোগ রাখা হয়েছে। এমনকি ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকের আগেও আইসিসির সদস্যপদ ফিরে না পেলে যাতে কার্যক্রম চালানো যায়, সেই বিবেচনাতেই সাজানো হয়েছে অর্থায়নের কাঠামো।