আন্তর্জাতিক পুঁজিবাজার থেকে বৈদেশিক মুদ্রায় দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে সর্বোচ্চ ১০০ কোটি ডলার বা ১ বিলিয়ন ডলারের বাংলাদেশ সভরেন বন্ড (সার্বভৌম বন্ড) ইস্যুর নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সিঙ্গাপুর, হংকং, লন্ডন ও নিউইয়র্কের আন্তর্জাতিক আর্থিক বাজারে এ বন্ড ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এর মূল ইস্যু ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বহুজাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান জেপি মরগান চেজ। বন্ডটির আইনি কাঠামো প্রণয়ন, আন্তর্জাতিক ক্রেডিট রেটিং গ্রহণ এবং ইস্যু ব্যবস্থাপকের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদনের প্রক্রিয়া নিয়ে বর্তমানে কাজ করছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ।
সার্বভৌম বন্ড মূলত আন্তর্জাতিক বাজার থেকে বৈদেশিক মুদ্রায় কোনো দেশের সরকারের ঋণ সংগ্রহের একটি মাধ্যম। এ বন্ডে বিনিয়োগের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা সংশ্লিষ্ট সরকারকে নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য অর্থ ধার দেন। বিনিময়ে চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত সুদ এবং মেয়াদ শেষে মূল অর্থ ফেরত পান। ফলে বাংলাদেশের এ উদ্যোগ কেবল বৈদেশিক অর্থায়ন সংগ্রহের বিষয় নয়, বরং আন্তর্জাতিক ঋণবাজারে দেশের প্রবেশাধিকার, ঋণযোগ্যতা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থারও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হতে যাচ্ছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
সার্বভৌম বন্ড ইস্যুর বিষয়ে গত অক্টোবরে অর্থ বিভাগের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে একটি সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করা হয়। সেটি অনুমোদন দেয়ার পর বন্ড ইস্যুর প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শুরু করেছে অর্থ বিভাগ। বন্ডটির মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে সর্বোচ্চ ১০ বছর। বাংলাদেশ এর আগে আন্তর্জাতিক বাজারে এ ধরনের বন্ড ইস্যু করেনি। ফলে বন্ডটির কোনো পূর্বনির্ধারিত ইল্ড রেট বা সুদের হারের নজির নেই। ইস্যু ব্যবস্থাপক জেপি মরগান চেজের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতেই এর সুদের হার নির্ধারণ করা হবে।